'শইলের ত্যাজ তোর কয়দিন, ঢইল্যা গেলেই সব শেষ ! নিজে তো মাজা ভাইঙ্গা বছর ধইড়া পইড়া রইছি ; বন্যায় মাইনষের ধান-পান সব গেল, তোরে কামের লেইগা কেডা ডাকব ? শইল ঠিক থাকলে আমিও মাইনষের লাহান ঢাহা যাইতাম কাম করতে, কয়ডা ভাতের লেইগা মাইনষের চেট দোয়াইতাম না।' আপে আর নিচু গলায় কথাগুলো বউ-এর উদ্দেশে বলে চলে আমের আলী।
তার বউ বনির মুখে রা নাই দেখে আমের আলী খানিক চুপ থাকে, তারপর অপরাধী-কণ্ঠে বলে, 'আইজ আইব, তুই না-করিস না। এই বন্যাডায় আলাউদ্দি না থাকলে আমরা বাঁচতাম ? আপদে-বিপদে সাহাইয্য করছে।'
বনি নিশ্চুপ, তার চোখে সন্ধ্যার ঘনায়মান ছায়া। শূন্য চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে সে দূরের আসমানে।
রাশি রাশি ছায়া নদীতীরের গ্রামটিকে জাপটে ধরেছে। দিনটা আজকে খুব গুমোট গেছে, বাতাস নেই। ভূত-অন্ধকারে দীঘির বটগাছটিকে খুব রহস্যময় লাগে। বছরের পর বছর নির্জন মাঠে একা দাঁড়িয়ে আছে গাছটা। কালো ছোপ-ছোপ অন্ধকার বটের মাথায় যেন গুচ্ছ-গুচ্ছ চুল। সন্ধ্যারাতের চাঁদের আলোয় গাছটকে বুড়ো দানব মনে হয়।
এই নির্জন অন্ধকারে একটি ছায়ামূর্তি হেঁটে আসছে। চলন্ত ছায়ামূর্তি নদীতীর ছেড়ে এবার দিঘির রাস্তা ধরে। বেশ খানিকটা পথ মাড়াতেই অদূরে নারকেল গাছটির মাথায় ঝুলে থাকা চাঁদ নজরে আসে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে এবার হাঁটার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফুরফুরে হাওয়া ওঠে চারপাশে। গাছের পাতায় শিরশিরে আওয়াজ তোলে। চলন্ত মূর্তির লোমে ভরতি বুকেও বাতাসের পরশ লাগে, পরিপূর্ণ সুখের আবেশ অনুভব করে সে, রক্তের প্রতিটি বিন্দু তার আন্দোলিত হয়। চলন্ত মূর্তির নিশ্বাস দ্রুত হয়, বড়ো বড়ো পা ফেলে এক সময় পেঁৗছে যায় জীর্ণ নারকেল গাছটির কাছে। পাশেই আমের আলীর এক চিলতে উঠান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


