আমি মেয়ে,
আমি জন্মাবার জন্যে তোমরা রুষ্ট হয়েছো,
বিশ্বাস করো,আমি অবলা,
তাই তোমাদের সাথে থেকে গিয়েছি,
তবুও তোমাদের ক্ষতি করিনি।
আমি বড় হয়েছি,
আমায় ঢেকে রাখার কসরত তখন সবে শুরু,
আমার মস্তক নিঁচু হয়েছে,
আমার বক্ষকে লুকোতে আমি বতিব্যস্ত হয়েছি।
আমি পরিবর্তিত হয়েছি,আমার পরিবর্তন লুকোতে আমি সচেষ্ট হয়েছি,
তোমরা বাহবা দিয়েছো,”ধন্যি মেয়ে”!
আমি হয়তো ভালোবাসার নির্মল ডাক শুনেছি,
শুভ্রতার সে ডাকে আমি হয়তো সাড়া দিতেও গিয়েছি,
তুমি শিকল পড়িয়েছো,
মনে,শরীরে,আমার আত্মায়।
অতঃপর তুমি রেখেছো তোমার দায়িত্ব,
সম্প্রদানে আমায় বিলিয়েছো,
অন্যের কাছে,
অন্যের ঘরে।
আমি হয়েছি ,স্ত্রী ,
আমি হয়েছি, মা,
আমি হয়েছি,শ্বাশুরী,
আমি হয়েছি কারো বা কন্যা।
কি হইনি আমি?
আমি অবশ্য এখানে অবলা,
আমি তাই ভালো।
সেই আমি যখন আমার বক্ষ উজাড় করেছি,
সুউচ্চতায় রাখতে চেয়েছি পদ,
তুই ধিক্কার দিয়েছো।
সেই আমি যখন ঘর ছাড়িয়ে বাহিরে এসেছি,
তোমরা যন্ত্রযানে আমার জন্য রেখেছো ‘সংরক্ষিত কয়েকটি আসন”
সংরক্ষিত আসনের মানুষের পরিচয় তারা মেয়ে,
মানুষ নয়।
আর সেই আসনের বাহিরে সকলে তোমাদের হাতের নিষ্পেষিত কাঁচামাল,
তাই তুমি তাদের উড়ুতে,
বক্ষে,
তার স্তনে,
তার নিতম্বে হাত বোলাও,
সে অবশ্য কিছু বলতে পারেনা,
সে এখন তার গন্ডির বাহিরে।
সংসদে বসে তোমরা বানাও সংরক্ষিত আসন ,
আমাদের জন্যে?
সেকি মানুষের জন্যে, নাকি মেয়ে মানুষের জন্যে?
আমি সমঅধিকার বলেছি,
তোমরা বলেছো পাপাচার!
আমি নারী অধিকার বলেছি,
তোমরা বলেছো ব্যভিচার!
আমি মানুষ বলেছি,
তোমরা দেখিয়েছো অনধিকার!
আমি বলেছি আমি চাই আলো,
তোমরা বলেছো মেয়ে মানুষের জন্যে ঘরের ভেতর ভালো,
বাকি সব কালো।
২৫/০৭/১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



