কতোদিন হলো রুদ্ধস্বরে বিমূঢ়তা আর আমায় নাড়ায় না,
পথের প্রান্তের অশথের ন্যায় বটগুলো আমার নাভি শ্বাস উথলে যাওয়া পথ,
ধুলোয় ভরা অগোছালো মশারিবিহীন জীবনের ওরা পেয়ে যায় খোঁজ।
মনের দেউড়ির এপার ওপাড় সদা ব্যতিব্যস্ত
ভাবনা গুলোকে নির্বিকাকের মতো উড়িয়ে
ভেবে চলি এই বিশালকায় কসমসের কোণ এক প্রান্তেই তুমি
একই নক্ষত্রের আলোতেই চলেছে দুই ধারার দুটি লীলাভ উজানের জলপ্রপাত,
তবু উড়ুক্কু মাছেদের মতো......
তারাদের ও একদিন নত হতে হয়
বিলীন হয়ে যেতে হয় মহাকালের গর্ভে ,
মহাকালের অমোঘ নিয়তির কাছে নত হয়ে যায় আমার আমি,
তবে কী বলো সব প্রেমরই একদিন শেষ রচিত হয়?
সব ভালোবাসা দোষ আরোপের সঞ্চার পথে কয়েক বার গোত্তা খেয়ে লাটিমের এর মতো
বন বন বন করে
এক আঙুল তুলে করে ব্যর্থ মনোরথীর সেই লুকিয়ে যাওয়া প্রশ্ন?
তাই আমার ইচ্ছে হয় দুর্বোধ্য কার্তেসীয়র বাহু বন্ধনে রিক্ততায় জড়াতে......
পরিত্যক্ত পোড়া বাসের মতো দগ্ধ হতে,
শত বর্ষের শ্রেষ্ঠ দুঃখের কবিতা লিখতে,
ফেলে আসা আলুব্দী তাই,
বারবার আমায় শুধায় ,
ঐ পারে সে নাই,
নক্ষত্রের কোণে বর্ষ পঞ্জিকার শেষ সীমানায়।
তাই নির্ঘুম নিশ্চুপতার
অন্ধকার বেয়নটের সাথে
রাইফেলের খটাখট শব্দ
আমার জরাজীর্ণ কুটিড়ে পরে হামলে,
দেহ কান্ড বিহীন সেই প্রকোষ্ঠ চৌকাঠে অন্ধকারের মই বেয়ে
ওঠা নিঃসঙ্গতা
এপাশে দীপ্যমান প্রদীপের মৃদু হলকায়
অন্ধকার ক্রমশ জেঁকে বসে
গাঢ় হতে ঘোরতর গাঢ়,
পাতা ঝড়াদের মর্মর ধ্বনিতে
শ্রোণিত হয় অনুনাদের
ভয়ার্ত করুণ বেহালার চির ভাঙা সুর,
তাই সুপ্রাচীন বিমূর্ত আর্দ্রা লাল,
আলোতে শহরকে মন্থর করে দ্যায়,
ভাদ্র মাসের বিপর্যস্ত তাল পুকুরের বালিয়াড়ি
আবেগের আদিমতায় সওয়ার হয়ে
নক্ষরের আগুন ঝড়া রাতে
দীপ্তিমান টরেটক্কা গুলো আক্রোশে জ্বলে ওঠে তীব্র আলোতে
সদরের গেটে কড়া বাধে এক দল নিঃসীম শূন্যতা,
আমার তাই বলতে ইচ্ছে করে,
প্রথম দিনের মতো রোদ ঝলমলে হোক
আমাদের জীবনের প্রতিটি অনাগত সকাল।
বলশেভিকদের মতো আমার উত্তেজিত রক্তের স্রোত অন্ধকারের সাথে প্রতিবাদে মত্ত হয়,
স্মৃতির লাশ কাটা ঘরে,
ভেতরের মানুষের নির্ঘুম নিশ্চুপতা
ঠকায় আমার পেলবতা আর জীর্ণতা,
স্ত্রাণুর মতো বেঁচে থাকা
বিকেলের এক ঝাঁক শৈত্যের কাকেরা
ঝাঁক বেধে উড়ে যায় নীড়ে,
ঘটঘট শব্দে চলতে থাকে
শহরের কানাগলির
মোটর ইঞ্জিনের আর্তনাদ,
ঘুম পাড়ানীরা বাঁক ফেলে যায় নিগূঢ়তায়
আপন সংবেদনশীলতার হাহাকার
মশাল মৌসুমী হাওয়াতে
রক্তে বাদে মায়ার টান
মন তাই পোষ মানে
ব্যস্ততা মৃত কবরের এপিটাফে বলে দ্যায়,
উই শ্যাল মিট এগেইন সামডে
বাতাসের মর্মস্পর্শী আওয়াজ
কফির কাপের এক চুমুক ভালো লাগার ঐকতান
যাদুকর ছিলো
ছিলো কোন এক বিস্তীর্ণ নগরীর এলো পথে হাটা বোকা বালিকার হৃদয়ের এক অংশ হয়ে,
প্রকোষ্ঠের কাঠুরে আদলের সীমায়।
যে আবেগ রোদে পোড়া জলে ভেজা ধুলোয় ভরা,
যার দখলদানতা আয়নার মতো স্বচ্ছ,
কাগজের অক্ষরের মতো অক্ষয়,
যার অস্তিত্ব পাহাড়ের চুড়োর মতো অব্যয়,
বালিয়াড়ির মতো ক্লান্ত বিপর্যস্ত আমি
গেয়ে যাই তাই
দূরে থাকা মেঘ তুই দূরে দূরে থাক,
সময় যখন নাড়বে কড়া
এই নীরেতেই ফিরিস যদি মন দ্যায় সায়,
হয় থাকবো আমি একলা একা,
নয় থাকবে তোর আসমানী।
সকাল ০৭:৪৯
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



