somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম- বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন মনে হয় তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। এই মহান বিজ্ঞানী জীবদ্দশায় বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে প্রায় ১ কোটি শব্দ লিখে গিয়েছেন। আমি জানতে পেরেছি যে, এই ১ কোটি শব্দের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ লক্ষ শব্দই হচ্ছে ধর্ম নিয়ে তাঁর গবেষণার ফলাফল।

বিজ্ঞানী নিউটন ট্রিনিটিতে বিশ্বাস করতেন না। অর্থাৎ, তিনি যিশু খ্রিষ্ট (আঃ)-কে আল্লাহর সমান শক্তিশালী বলে মনে করতেন না। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজের কিংস কলেজে রক্ষিত তাঁর কিছু লেখা থেকে আমি যা পাঠোদ্ধার করতে পেরেছি, তা থেকে বুঝেছি যে, এই বিজ্ঞানী একেশ্বরবাদী ছিলেন। নিউটন নিজের স্রষ্টার ধারণা সম্পর্কে যা লিখেছেন, তার বাংলা অনুবাদ হুবুহু এই রকম -

ঈশ্বর এই বিশ্বকে অদৃশ্যভাবে শাসন করেন এবং আমাদেরকে সম্মান করতে এবং তাঁর উপাসনা করতে এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোন ঈশ্বরের উপাসনা করতে, এবং কোনও মূর্তি দ্বারা তাঁর প্রতিনিধিত্ব না করতে, বা অলসভাবে এবং শ্রদ্ধা ছাড়াই তাঁর নাম না রাখতে এবং আমাদের পিতামাতার প্রভুদের সম্মান করতে আদেশ করেছেন। এবং গভর্নররা এবং আমাদের প্রতিবেশীদেরকে আমাদের নিজেদের মতো ভালবাসুন, এবং নাতিশীতোষ্ণ, বিনয়ী, নম্র, ন্যায়পরায়ণ এবং শান্তিপ্রিয় হতে হবে এবং পশুদের জন্যও করুণাময় হতে হবে।


আইজ্যাক নিউটন হযরত ঈসা (আঃ)-কে একজন প্রেরিতপুরুষ হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। কিছু কাটা-ছেড়া করা একটি লেখায় নিউটন লিখেছেন যা লিখেছেন তা আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুবাদক দিয়ে এইভাবে অনুবাদ করেছি -

"যীশু খ্রীষ্ট একজন সত্যিকারের পুরুষ একজন নারীর থেকে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাদেরকে সত্য শেখানোর জন্য ইহুদিদের দ্বারা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল, একই শক্তিতে ঈশ্বর জীবন দিয়েছেন প্রথমে/ প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীকে, পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাদের কাছে মূসা এবং নিজের সম্পর্কে নবীদের ব্যাখ্যা করেছিলেন। যেমন তিনি ছিলেন ধার্ম্মিকতার সূর্য।"

"মালাকি দ্বারা বলা হয়েছিল, মানবপুত্র এবং মশীহ যা ড্যানিয়েল দ্বারা বলা হয়েছিল। ঈশ্বরের দাস ডেভিড ইজেকিয়েলের দ্বারা বলা হয়েছে, প্রভু আমাদের ধার্মিকতার কথা বলেছেন। ইরেমি, ইস্রায়েলের শাসক মীখার দ্বারা বলা হয়েছে, (উচ্চতর থেকে পাঠ্য) - পুনরায় শুরু হয় ঈশ্বরের দাস এবং ঈশ্বরের মেষশাবক এবং মুক্তিদাতার কথা ইশাইয়া, ঈশ্বরের পুত্র এবং ডেভিডের দ্বারা বলা পবিত্র ব্যক্তি, মহিলার বংশ এবং নবী এবং শিলোর কথা মোজেস এবং সি দ্বারা বলা হয়েছে। এবং তারপরে তিনি তাঁর শিষ্যদেরকে যা শিখিয়েছিলেন তা অন্যদের শেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন, এবং একটি রাজ্য গ্রহণ করতে এবং আমাদের জন্য একটি জায়গা প্রস্তুত করতে স্বর্গে চলে গেছেন, এবং রহস্যময়ভাবে ঈশ্বরের ডানদিকে বসতে বলা হয়, মর্যাদায় তাঁর পাশে থাকা, এবং ঈশ্বরের মেষশাবক হিসাবে উপাসনা ও মহিমান্বিত, এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য পবিত্র আত্মা পাঠিয়েছেন, এবং দীর্ঘ সময় (পরে) ফিরে আসবেন এবং রাজত্ব করবেন।"

"উপরে মধ্যে {উপরে} বায়ু (মরণশীলদের কাছে অদৃশ্য) যতক্ষণ না তিনি সমস্ত মৃতকে জীবিত ও বিচার করেন (প্রথম হাজার বছরের সাধু এবং পরবর্তীতে) এবং দুষ্টদের তাদের যোগ্যতার উপযোগী জায়গায় পাঠিয়েছেন/ এবং তারপর তিনি/ এই রাজ্যটি পিতার হাতে তুলে দেবেন। এবং আশীর্বাদকে (যাকে তিনি তাঁর মৃত্যুর দ্বারা যোগ্য করেছেন এবং তাঁর রক্ত ​​দিয়ে উদ্ধার করেছেন) সেই জায়গায় নিয়ে যাবেন, প্রাসাদে তিনি এখন তাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঈশ্বরের গৃহে (যা মহাবিশ্ব) অনেক অট্টালিকা আছে......"


যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজে রক্ষিত আরেকটি লেখায় তিনি ধর্ম ও দর্শন আলাদা, তা বুঝাতে গিয়ে এভাবে লিখেছেন -
ধর্ম ও দর্শনকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা দর্শনশাস্ত্রে ঐশ্বরিক বিষয় ঢুকাতে চাই না, তেমনি করেই ধর্মে দার্শনিক মতামত প্রবর্তন করতে চাই না।

তিনি খোদার আদেশকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে লিখেছেন,
ধর্ম এবং রাজনীতি ( ঈশ্বরের আইন এবং মানুষের আইন) আলাদা রাখতে হবে। আমরা মানুষের আদেশকে ঈশ্বরের আইনের অংশ করি না।


বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের এই লেখাগুলো আমার ধারণা বদ্ধমূল করেছে যে - একজন মহান বিজ্ঞানীও খোদার পাঠানো ধর্মে দীক্ষিত হতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

দুইদিন আগে সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের একজন সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×