somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাল শিশু কল্যাণ কেন্দ্র(ডে কেয়ার সেন্টার) নির্বাচন করার জন্য ৯য়টি পরামর্শ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিশুর কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, একটি ভাল শিশু কল্যাণ কেন্দ্র জেনে-বুঝে খুঁজে পাওয়া সত্যি কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে, আমাদের দেশের প্রায় পিতামাতা উভয়ই অফিস বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। সঠিক শিশু কল্যাণ কেন্দ্র শিশুর শারীরিক ও মানসিক উন্নতির প্রতি খেয়াল রেখে থাকে। নিম্নে, কিছু পরামর্শ আপানাদের দিলাম যাতে করে আপনারা একটি ভালো শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খুঁজে পেতে পারেনঃ

১. অফিসগামী পিতামাতার মধ্যে দুজনে একই সময়ে অনেক সময় ঘরে ফিরতে পারেন না। তাই, আপনার অফিস হতে না ফেরা পর্যন্ত যাতে আপনার শিশুকে যত্ন নেয়া হয় তা আপনি শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধানবৃন্দদের সাথে আলাপআলোচনা করে নিন। কারণ, অনেক সময় শিশু কল্যাণ কেন্দের পরিচর্যাকারীগণ সকলেই একই সময় শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ছুটিতে চলে যেতে পারেন। তাই, খেয়াল রাখবেন আপনার শিশু যাতে একলা থেকে না যায়।

২. আপনি যখন শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে যাবেন তখন অবশ্যই তাদের অন্যান্য ঘর,বাথরুম এবং রান্নাঘরগুলো নিজ চোখে দেখবেন যেন তা যথেষ্ট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন যাতে থাকে। সম্ভব হলে পানি এবং খাবার-দাবারের পাত্র কতোটুকু পরিস্কার তাও পরীক্ষা করে নিন। আরো খেয়াল রাখবেন, সেখানে ম্যাডিক্যাল বা জরুরী এইড রয়েছে কিনা। আপনি আপনার বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে এই অবস্থাগুলো বিবেচনা করে নিতে পারেন আপনার শিশুকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দেয়ার পূর্বেই।

৩. আপনার শিশুকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীর সাথে বন্ধুসুলভ কথোপকথন করতে দিন এবং আপানার শিশুর কাছ থেকে তার পরিচর্যাকারীর এবং সহপাঠীদের সম্পর্কে খোঁজ নিন, কারণ, পরিবেশ এবং বন্ধুবান্ধব শিশুর মনে বিস্তর প্রভাব ফেলে থাকে।

৪. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মচারীদের ব্যাপারে খোঁজ করে দেখুন, তাদের আচার-ব্যাবহার, তাদের কথাবাত্রা লক্ষ্য করুন। কারণ, যেহেতু আপানার শিশু তাদের সাথে বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করবে তাই, তাদের মানসিক পরিবর্তন ঐ পরিবেশ হতে গৃহীত হবার সম্ভবনাই সর্বাধিক।

৫. শিশু কল্যাণ কেন্দ্র কি করে আপানার বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তা জেনে নিন।

৬. সারাদিন প্রতি সাপ্তাহ সময় তারা কি করে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কাটাবে তার রুটিনটি আপনি জেনে নিন এবং আপনার বাচ্চা থেকে এই রুটিনের ব্যাপারে হাসিখুশি ভাবে খোলাখুলি মতামত গ্রহণ করুন।

৭. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বাচ্চাদের কথাবার্তার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন, কারণ, শিশুরা পরিবেশ এবং আশেপাশের ব্যাক্তিদের কাছে থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

৮. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অন্যান্য বাচ্চাগুলোর মাতাপিতার সাথেও যোগাযোগ রাখতে পারেন। তাহলে, অনেক বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে সুবিধে হবে।

৯. আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কোন দুর্নাম রয়েছে কি না? সতর্ক থাকা ভালো। আর জেনে নিন শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আপনার বাচ্চাকে কি কি সুজোগসুবিধা এবং শিক্ষা প্রদান করবে প্রতি সাপ্তাহে।

উপরোক্ত, বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপানার কাজ আরো সহজ হবে আপানার শিশুর জন্য শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে। আমি আপনাদের উপকারের জন্য নিম্ন লিঙ্কটিতে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের (ডে কেয়ার সেন্টার) কিছু ঠিকানা উল্লেখ করলামঃ
http://www.exchangebangladesh.com/category-second.php?l=Child-Care-Centres

এবার, আশা করছি আপনি নিজের বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনার মাধ্যমে আপানার শিশুর জন্য সঠিক শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি খুঁজে বের করতে পারবেন। আপনাদেরকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×