somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ব্যাবহারের সুবিধা

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আশা করি তাতে আপনারা সকলে উপকৃত হবেন।

জন্মগতভাবে আমি বাংলাদেশি হলেও ব্যবসার কারনে এখন আমাকে প্রায় নিয়মিতই দেশের বাহিরে থাকতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি পোশাক শিল্পের আমদানি এবং রপ্তানি কাজের সাথে জড়িত। এই ব্যবসায়ের আগে আমি প্রায় দশ থেকে বারোটি ছোট ব্যবসায়ের বিশেষ পরিকল্পনা প্রদান এবং প্রায় সাত থেকে আটটি ছোট ব্যবসায়ের ইন্টারনেট মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন তৈরি ও বিপননের সাথে জড়িত ছিলাম।

ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় বছর খানেক আগের কথা। তখন আমি সবেমাত্র আমার ব্যবসা শুরু করেছি। যদিও ব্যবসা সম্পর্কে আগে থেকেই আমার ধারনা এবং অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু তারপরও প্রচণ্ড চাপ এবং ব্যস্ততায় যেন নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। কারন সকল ব্যবসায়ীই জানেন, ব্যবসা শুরু করার পর প্রাথমিক অবস্থায় যত সমস্যা দেখা দেয়, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার অর্ধেক সমস্যাও থাকে না। আর এ কারনেই যে যত উপরে পৌছাতে পেরেছে, সে তত বেশি কষ্ট সহ্য করে আজ তার অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি আপনি কখনো তাকে দেখে কল্পনা করতে পারবেন না যে, কতটা আঘাত আর কষ্টের পর আজ সে এই পর্যায়ে এসেছে।

আর তাই প্রাথমিক অবস্থায়, স্বাভাবিকভাবেই আমার উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট চাপ ছিল। যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমার, বিশেষভাবে বাংলাদেশে অবস্থিত ও প্রতিষ্ঠিত অনেক পোশাকশিল্পের সাথে একত্রে যোগাযোগের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু আমার হাতে সময় ছিল খুব কম আর ঠিক একই সময়ে আমি ছিলাম দেশের বাহিরে। দেশে যথেষ্ট লোকবল থাকা সত্ত্বেও কোন প্রতিনিধির দ্বারা যোগাযোগ না করে সরাসরি আমি নিজেই যোগাযোগ করতে আগ্রহী ছিলাম, যাতে আমার ব্যবসায়ীক প্রতিদন্ধীদের থেকে যথেষ্ট বাড়তি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি। তাই নির্ভরযোগ্য সূত্রের জন্য নিজেই কাজে নেমে পড়লাম, কিন্তু দেশের বাহিরে থেকে কিভাবে কি করব তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

প্রথমে ভাবলাম, ইন্টারনেটের এই যুগে এ আর এমন কঠিন কি? কিন্তু আমার যে কোন ইউরোপ অঞ্চলের দেশের তথ্য দরকার নয় যা সহজেই গুগল করলে পাওয়া যাবে তা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম যখন নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যের জন্য প্রায় ঘণ্টা তিনেক গুগল, ইআহু, বিং, বাইদুসহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করেও কোন সঠিক সমাধান খুঁজে পেলাম না। বিরক্ত হয়ে ভাবলাম কিছুটা বিরতি দিয়ে আগামীকাল আবার খুঁজে দেখি। কিন্তু পরেরদিনও আমি একইভাবে হতাশ হলাম। এমনকি একসময় হতাশা আর সময়সীমার জন্য আমার মাথা ঘুরতে শুরু করল। এমনকি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, বাংলাদেশী সার্চ ইঞ্জিন “পিপীলিকা” থেকেও কোন সমাধান পেলাম না। (এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার যে, আমি পিপীলিকার কোন সুনাম নষ্ট করতে চাচ্ছি না কারন আমি অন্য সার্চ ইঞ্জিন থেকেও কোন সমাধান পাইনি, যা আমি আগেই বলেছি)।

অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে, খুব কাছের কিছু পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি খুঁলে বললাম। প্রায় দুই থেকে তিনদিন পর আমার আপন খালাত ভাই, এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ নামে একটি বাংলা ডিরেক্টরি ওয়েবসাইটের কথা বলল। যেখানে নাকি বাংলাদেশে অবস্থিত প্রায় সব পোশাকশিল্পের ঠিকানা ও ফোন নম্বর সবার জন্য দেওয়া আছে এবং এটি নাকি বাংলাদেশের সবচেয় বৃহৎ ডিরেক্টরি ওয়েবসাইট, যাদের সংগ্রহে সবচেয় বেশি তথ্য রয়েছে। এরপর আর দেরি না করে দ্রুতই ওয়েবসাইটটি পরীক্ষা করলাম। দেখার পর এবং কয়েকটি ঠিকানায় ফোন করে যোগাযোগ করার পর আমি যে কি পরিমান চাপ থেকে মুক্ত হয়েছিলাম এবং ওয়েবসাইটটির (এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ) প্রতি কি পরিমান কৃতজ্ঞ ছিলাম তা আমি আজও ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। কারন এর এক সপ্তাহের মধ্যেই আমার আবারও অনেক বিজ্ঞাপন সংস্থার সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু তখন আর কোন দেরি না করে শুরুতেই এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ থেকে সাহায্য নিয়েছিলাম। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় নি।

ব্যবহার করার কয়েকদিনের মধ্যে এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহারের আরও কিছু সুবিধা উপলদ্ধি করলাম, যেমনঃ

১. এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় এখানে যে কোন ব্যক্তি তার ব্যবসায়ের নাম, ঠিকানা, কোম্পানি ওয়েবসাইট, ফোন নম্বর ইত্যাদি বিভিন্ন যোগাযোগের ঠিকানা অন্তরভুক্ত করতে পারে, যা ব্যবসায়ের পরিচিতি বৃদ্ধি, সুনাম ও গ্রাহক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
২. ওয়েবসাইটটির প্রতিটি লিঙ্ক এবং তালিকাগুলো ডুফলো লিঙ্ক হওয়ায়, সার্চ ইঞ্জিনগুলো সহজে এগুলো খুঁজে পায় এবং দ্রুত তাদের সার্ভারে নথিবদ্ধ করে, যা অন্যকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
৩. অন্যান্য দেশের গ্রাহক আকৃষ্ট করার পরিবর্তে লোকাল বা দেশীয় গ্রাহক আকৃষ্ট করতে বেশি সাহায্য পাওয়া যায়।
৪. একই ওয়েবসাইটে অনেক শ্রেণীবিভাগ থাকায়, প্রয়োজনে সহজেই অন্য কোন বিভাগ থেকে তথ্য পাওয়া ও বিশ্লেষণ করা যায়।
৫. সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, বিধায় কম সময়সাপেক্ষ।
৬. প্রচুর পরিমান আসল ভিজিটর থাকায়, সহজে সকলের সামনে ব্যবসায়কে উপস্থাপন করা যায়।
৭. এছাড়াও ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট জায়গায়, ভাড়ায় বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে প্রচুর গ্রাহক আকৃষ্ট করা যায়।
৮. সমজাতীয় বা বাজারে নতুনআগত ব্যবসায়ীদের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর পাওয়া যায়।
৯. নিজস্ব একাউন্ট থাকার ফলে ইমেইল এড্রেস প্রকাশ না করেও অন্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
১০. অসঙ্গতিপূর্ণ কোন তালিকা সম্পর্কে তাৎক্ষনাত অভিযোগ করা যায়।

আশা করছি নিবন্ধটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন, যদি এসম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তবে নির্দ্বিধায় আমাকে জানাতে পারেন, সাধ্যমত আমি আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ এবং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাদের প্রত্যেককে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই তাদের এই বিশাল উদ্যোগ ও কর্মযজ্ঞের জন্য।

আর আপনাদের জানানো দরকার, আমার সেই খালাত ভাইকে আজও ধন্যবাদ জানানো হয় নি। কি করে জানাব বলেন? কারন সেই ভাই এখন আমার প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগীয় প্রধান!

সবাই ভাল থাকবেন, এই কামনায় আজকের মত বিদায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×