somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাঝখানের সময়

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজ্যের নাম ছিলো অরুণাভা—মানচিত্রে খুব বড় নয়, কিন্তু গল্পে বিশাল।
সেখানে এক রাজা ছিলেন, যিনি সত্যের চেয়ে প্রশংসা বেশি ভালোবাসতেন।
তার দরবারে সত্য বলার লোক কম, তোষামোদ করার লোক বেশি ছিলো।
প্রতিদিন সকালবেলা রাজা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ দেখতেন না;
দাঁড়িয়ে থাকতেন চাটুকারদের কথার সামনে—
“আপনি সূর্যের থেকেও উজ্জ্বল”,
“আপনার জ্ঞান সমুদ্রের থেকেও গভীর”,
“আপনার শাসন চিরস্থায়ী।”

রাজা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন—
তিনি সত্যিই আলাদা, সাধারণ মানুষের মতো নন।

একদিন রাজা ঘোষণা দিলেন—
তিনি এমন এক পোশাক পরবেন,
যা কেবল জ্ঞানীরা দেখতে পাবে, মূর্খরা নয়।

দরবার আনন্দে কেঁপে উঠলো।
কারণ তারা জানতো—
এবার সত্য লুকানোর নতুন সুযোগ এসেছে।

কিছু লোক অদৃশ্য সুতোয় কাপড় বুনার ভান করলো,
কিছু লোক বাতাস কেটে মাপ নিলো,
আর কিছু লোক মাথা নেড়ে বললো—
“অসাধারণ! এমন কাপড় পৃথিবীতে নেই।”

রাজা কিছুই দেখলেন না।
কিন্তু না দেখার সাহসও পেলেন না।
কারণ না দেখলে তিনি নিজেই মূর্খ প্রমাণিত হবেন।

তাই তিনি বললেন—
“অতুলনীয়!”

নির্দিষ্ট দিনে রাজা সেই অদৃশ্য পোশাক পরে বের হলেন।
শহরজুড়ে ঢাকঢোল, ফুল, করতালি।
মানুষ দেখছে—
কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।

কারণ সবাই ভয় পায়—
সত্য বললে একা হয়ে যাবে।

শুধু এক ছোট ছেলে মায়ের হাত ছাড়িয়ে সামনে এসে বললো—
“রাজা কিছুই পরেননি।”

শব্দটা ছিলো ছোট,
কিন্তু নীরবতার দেয়ালে বজ্রপাতের মতো লাগলো।

দরবার স্তব্ধ।
চাটুকাররা কাঁপছে।
রাজা থমকে দাঁড়ালেন।

প্রথমবার তিনি নিজের শরীর নয়—
নিজের শূন্যতা অনুভব করলেন।

সেই দিন রাজা দু’টি জিনিস বুঝলেন—

প্রথমত,
যে প্রশংসা সত্য নয়,
তা পোশাক নয়—
মায়া।

দ্বিতীয়ত,
সত্য বলার জন্য বড় শক্তি লাগে না,
লাগে নির্ভীক হৃদয়—
যা থাকে শুধু সরল মানুষের কাছে।

রাজা সেদিন সিংহাসনে ফিরলেন ঠিকই,
কিন্তু আগের মানুষ হয়ে নয়।

তিনি দরবার থেকে কিছু লোককে বিদায় দিলেন,
আর শহরের পথে পথে সত্য খুঁজতে শুরু করলেন।

কারণ তিনি বুঝেছিলেন—
চাটুকার রাজাকে মহান বানায় না,
অন্ধ বানায়।

আর রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর সময়
রাজা খারাপ হলে নয়—
রাজা যখন ভুল বুঝেও শুনতে না চায়,
সেই মাঝখানের সময়।

গল্প শেষ নয়।
কারণ প্রতিটি রাজ্যে, প্রতিটি যুগে—
এই মাঝখানের সময় আবার ফিরে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×