somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Tini..

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিমুর মত আমার কোন মাজেদা খালা নাই। তাই অত্যান্ত স্নেহে রাত বিরেতে আমার অতি স্নেহে গলে যাবার কোন সম্ভাবনা নাই।
হিমুর মত আমার কোন মাজেদা খালা নাই। নগরীর ছোট্ট ছোট্ট ফুটপাত দিয়ে হেটে হেটে ক্লান্তি আর ক্ষুধা নিয়ে খালার বাড়ীর সামনে গিয়ে দাড়াতে পারিনা। প্রায় মাঝরাত্তিরে পৃথিবী তখন শান্ত হয়ে আসে, চাদের আলো বাড়ির প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে ঢুকে। তেমন সময়ে ডাইনিং টায় বসে খালার রান্না করা কলই শাকে চিংড়ী ভাজি, লাউয়ের মধ্যে শোল মাছ, আর শুকনো কালো ভুনা দিয়ে সাদা ভাত মেখে মেখে মাথা নীচু করে খেতে পারিনা। সামনে বসে খালা নিরন্তর কথা বলে যাচ্ছেন, কিছুই শুনতে পারি না। কারর কখা যেন মনে পড়ছে আমার? সাদা লাল পেড়ে শাড়ীতে। মাদুরে বসে খাচ্ছি পাশে বসে বাবা টা, আচলের একপাশ কামড়ে ধরে একহাতে বাতাস করে, তাকে আপন মনে হচ্ছে খুব, তবে আচলের কারনে চিনতে পারছি না? ওটাই কি আমার মা ছিলেন? পাশেরটা বাবা?
হঠাৎ মাজেদা খালার কথায় আমার ঘোর কাটবে, কি রে তুই তো কিছুই খাচ্ছিস না? শুধু মিন মিন করে ভাত মাখাস?
প্রায় ভিজে ওঠা চোখ আর মনে একটু খুশি এসে জড়ো হবে? খালার কথা বার্তা যেগুলির ভিতর কিছু শাসন থাকে, সেগুলিতে তিনি শব্দের মিল ঠিক ঠাক করতে পারেন না। মিন মিন করে কথা বলা যায়, ভাত মাখা যায়?
নীচু করা মাথা উচু কর্লেই খালার মুখেই আমার হারানো পিতা কিংবা মাতা? আমার কোন মাজেদা খালা নেই?
হিমুর আছে। হিমুকে চেনার বিশেষ উপায় আছে। ওকে একটা হলুদ পাঞ্জাবী দিয়ে গিয়েছেন উনি।
হিমুর থেকে বেশি রাত জেগে জেগে হাটি আমি। ফুটপাতেই কাটে আমার সময়। ক্ষুধা, দন্দ, কটাক্ষ্যের প্রত্যক্ষদর্শী আমারই রন্ধ্রে হেটে বেড়ায়। কুকুরটা শেষ ডাক দিয়ে ক্লান্তি নিয়ে রাস্তার টুংটাং শব্দ উপেক্ষা করে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে? হিমু বলতে পারবেনা? আমি পারি..
হিমুর হলদে পাঞ্জাবী র পকেটে অজস্র ভালো বাসা ঢেলে দিয়েছেন উনি।
আমাকে দিয়েছেন কিছু শব্দ। তাতে কিছু বোধ আছে। সেগুলো কখনো হাসায়, কখনো ঝরায়, ভালোবাসতে বলে, দুমড়ে দিয়ে যায়, অজস্র জলরাশিতে ভেজার তীব্র অপেক্ষা করতে হয়। কাঠফাটা রৌদ্রে সবাই যখন আশ্রিতত হতে চাইছে, আমি হয়তো পীচ রাস্তায় পোড়া মানুষগুলোর নির্ভেজালতায় মজে গিয়ে পুড়ে যাই। মন্দ লাগেনা। হলদে পাঞ্জাবীটা ও চাইনে। ভেতরটাকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে উনি আমায়, তৃপ্তি আসে..
মাটীর সানকি ছিলোনা ঘরে। ঘুম ভেঙ্গে পানতা খেতে হবে। মন্দ হবেনা। কি জানি কোন খালা একবাটি মুরগীর মাংশ নিয়ে হাজির। পানতা দিয়ে গরম তরকারী খেতে কেমন ফিরিয়ে দিলাম। দেখি ওনার চোখের মায়াগুলো অস্থিরতায় পড়ে গেলো। ফেরানো হলোনা। খেতেও মন্দ লাগেনি। তবে আমার খুব সযত্নের মরিচ পোড়া আর পেয়াজ কুচি গুলো অবহেলিত হলো। খুব সামন্য পাওয়া, তবে সে মুহুর্তে কোটি টাকা কিংবা এক আকাশ গলা জেৎস্না দামে ও ওটা র মূল্যমান আমি করতে পারিনা। পরোক্ষ্য ভাবে আসার এরাম পাওয়া গুলি, ওই লোক্টার ভেতর টেনে বের করার কৃতিত্ব।
আমার কোন মাজেদা খালা নেই, হিমুর ছিলো..
ক্লাস নাইনে তখন। এক বন্থু একটা বই নিয়ে এসেছে। টিফিন টাইমে না খেয়ে আধা ক্লাস বইটার উপর ঝাপিয়ে পড়েছে। বইটাতে এ্যানী নামক একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। কিশোরের নিষিদ্ধ কিছু ইচ্ছার বয়েস ওটা। সবাই হুমড়ী খাচ্ছে শুধু ওই দুই পেজে। একফাকে বইয়ের নামটা দেখলাম- অমানুষ।
ক্লাস টেইন, এস এস সি পরীক্ষা চলে। শুশান্ত স্যার সর্বোচ্চ অবহেলিত শিক্ষক আমার স্কুলের। অবশ্য শুভ্র'র মতে সর্বোচ্চ অংক জানা মানুষটা, ওনার মত অনেক কম অংক জানা মানুষ আছেন, আমার মনে হয় সর্বোচ্চ শুদ্ধ মানুষ ছিলেন তিনি। ওনাকে স্কুল থেকে বিভিন্ন বাবে হ্যারাজ করা হতো। হঠাৎ করেই লাইব্রেরীর দায়িত্ব দেওয়া হলো। স্কুলের পাশেই আমার বাড়ী। দুপুরে খাবার পর স্যার ডেকে বলে গেলেন, লাইব্রেরীততে যেতে পাচটায়, ত্রিশ মিনিচের কাজ আছে। সকালে ছিলো বোর্ড পরীক্ষা, রসায়ন।
গেলাম, বইয়ের তাকে বই সাজালাম। নতুন বইয়ের যেমন একটা ঘ্রাণ থাকে, পুরোনো স্তুপে ও একটা গন্ধ রয়েছে। দুটোই টানে দু'রকম।
আসার সময় স্যার বললেন, বই লাগলে সাইন করে নিয়ে য়া। কি বই নিবো দেখছি। স্যার একটা বই এগিয়ে ধর্লেন, সেইটা ছিলো ওই অমানুষ টা..
স্যার কি জানেন? এ বইয়ে কি আছে? হাত কাপছিলো? জানেন না বোধহয়?
বাড়ি ফিরে সোজা ছাদে উঠলাম, পগা আরম্ভ কর্লাম।
পরদিন সকাল নয়টা। মা খাইয়ে দিচ্ছিলো, আর রসায়নের নৈব্যাত্তিক গুলো পড়ে শোনাচ্ছে। ওসবে কান যাচ্ছে না। আমার এখনো সতের পেইজ পড়া বাকি? এ্যানী নামের ধর্ষিত মোয়েটার জন্যে হু হু করে ডাইনিংটায় কান্না পাচ্ছে বুকের মধ্যে। মায়ে'র সামনে কাদা যাবেনা।
নয়টা পচিশে বাড়ি খেকে বের হয়েছি, ছয় পাতা তখনো পড়া হয়নি। হলের মধ্যে ঢুকেছি, সবাই তুমুল লিখে যাচ্ছে, খস খস কাগজ কলমের শব্দের সাথে শুধু স্যারের হাটার শব্দ। স্যার দরজার পাশে গেলে সবাই গুণ গুণ গান গাইছে যেনো, তবে এখনকার মত অতটা নয়?
আমি কি লিখছি জানিনা, তবে লিখছি ব্রেইন যে মেসেজ দিচ্ছে। নৈব্যাক্তিকের সময় আসন্ন, একটা প্রষ্ন বাকি খুব জানা উত্তর, মাথায় আসেনা। ব্রেইন আমার হাল ছাড়তে অভ্যস্ত না কোনদিন। না জানলে নিজেই কিছু তৈরী করে দেয়।
ওদিন আর কিছুই করতে পারানি, বার বার এ্যানী নামের মেয়েটি কেমন হবে সেটা একে দেখার চেষ্টা করছে? শেষ দুই মিনিটে বুঝলাম, আমি মেয়োটির প্রেমে পড়েছি...
আমি লিখতে পারিনি, আমি গোটা রাত শুধু ওটাই পড়েছি।
ওনার প্রথম বই ছিলো। তারপর দস্যু আমারে কে আটকায়?
তার অনেকদিন পরে, তার অনেক দি ন পরে তারো পরে, তারো পরে উনি নেই...
জন্মদিন স্যার,
জানেন তো, আমার সব কিছুতেই দেরী হয়ে যায়।অাপনি ভালো আছেন জানি আমি। শুধু বৃষ্টি, জোৎস্না, আর সবুজ ধরতে পারেন না। আপ্নার সবুজে কত আগন্তুক নিজেকে ফিরে পাবে।
আপনি রইবেনই..

#2015 'r kono ek raatdupurer chilekothai bose;
30/2 tajmohol roda er pashan barita
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম ও বিজ্ঞান এআই বিবেচনায় আমার ফরিদ আহমদ চৌধুরী ব্লগের সেরা পোষ্ট

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



# কপি করা যায় না বিধায় এআই তারমত করে পোষ্টটি সাজিয়ে দিয়েছে

ইসলাম ও বিজ্ঞান
লেখক: ফরিদ আহমদ চৌধুরী
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮
আল্লাহ, নবী (সা.) ও পরকাল ইসলামের প্রধান আলোচ্য বিষয়;... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×