somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাডেটিয় প্রেমের গল্প

১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার আগের আইডিটি ক্লোজ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোন ব্লগ লিখতে পারি নি।
তাইও নতুন আইডিতে আমার পুরনো সিরিজটি আবার শুরু করলাম।

লেখালেখি অনেকটা করি না বললেই চলে। তবুও মাঝে মাঝে ক্যাডেট কলেজ নিয়ে লিখতে ভুল করি না । আমি আমার ক্যাডেটিয় প্রেমের গল্পের ২ টা পর্ব দিয়ে আর লিখতে পারি নি বিভিন্ন কারনে । অনেক দিন পরে আবারও লিখতে মন চাইল তাই আমার ক্যাডেটিয় প্রেমের গল্পের ৩ নং পর্বটা লিখতে বসে গেলাম । গল্পের প্রেমিক নিজেই আমাকে বলল তার গল্পটি চালিয়ে দিতে। চমৎকার এই প্রেমিক বন্ধুটির সাহায্যে আমার পরবর্তী গল্পটি নিয়ে আমি আবারো উপস্থিত।
এক ভ্যাকেশনে আমার এই বন্ধুটির রিলেশান হয়। বন্ধুটি যে প্রেমঘটিত ব্যাপারের সাথে মিশে যাবে তা ব্যাচের বেশিরভাগেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। মেয়েদের প্রতি ওর একরকম অনীহাই ছিল বলে মনে হত আমাদের । আরো জটিল ব্যাপার হচ্ছে রিলেশান হয় ক্লাস টেন এ। অনেক আগেই হয়েছে বলা যায়। ও আবার ফার্স্ট বয় ছিল ক্লাসের। কিন্তু হঠাৎ এই ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছেলেটি আস্তে আস্তে নিচে চলে যেতে শুরু করল। সব প্রেমিকের মাঝেই এই গুণটি দেখা যায়।
তো এখন গল্প শুরু করা যাক। গল্পের জন্য একটা নাম দরকার । বন্ধুটির অনুরোধ ওর নাম নাই দিলাম। একটা কাল্পনিক নাম দিলাম ‘আশিক’। প্রেমের সাথে নামটি খুব যায়। তো, কাহিনী শুরু করা যাক এখন।
একটা দুঃখের কাহিনী দিয়েই শুরু করি। ঘটনাটি ক্লাস টেন এর। ছেলেটি মাত্র প্রেম করা শুরু করল।
১৪ ফেব্রুয়ারী । আজ তো ভ্যালেন্টাইন্স ডে। প্রেমিকার সাথে তো ফোনে কথা বলা প্রয়োজন। নাহলে রাগ করার একটা সমূহ সম্ভাবনা আছে। একটা মোবাইল ফোন প্রয়োজন।
প্রেমের শুরুতে তেমন কেউই কলেজে ফোন নিয়ে যাবার মত প্রেমিক হয়ে যেত না। এর জন্যই হয়ত ছেলেটির কাছে কোন মোবাইল ফোন ছিল না । এখন ফোন তো ম্যানেজ করতে হবে।
ভ্যালেন্টাইস ডে বলে কথা ,সবাই ফোন নিয়ে ব্যাস্ত। কারো কাছে ফোনের সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না। টেনশনে বন্ধুটি সিলেটের কনকনে ঠান্ডাতেও ঘামছে। তারপরেও অনেক কষ্টে এক ক্লাসমেটের কাছ থেকে ফোন ম্যানেজ করা গেল। ওইদিন আসলে ,যার গার্লফ্রেন্ড নাই তাকেও দেখা যাচ্ছিল ফোন নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে । ছেলেটি গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্তেও ফোন ম্যানেজ দিতে অনেক দেরি হল। রাতে ফোন পাবার কথা । সারাদিন অনেক কষ্টেই গেল ছেলেটির,বলা যায়।
প্রেপ টাইমের পর হাউসে গিয়ে অবশেষে ছেলেটার হাতে ফোন আসল। ঘড়িতে বাজে ১০ টা । ভ্যালেন্টাইন্স ডের আর মাত্র ২ ঘন্টা বাকি। যার ফোন ছিল সে তিন তলার হাউসে থাকত আর আশিক নীচ তলায়। উঠা -নামা করতে করতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে শেষের পথে।
তিন তলা থেকে নামতে নামতে হাউসের সবচেয়ে ভয়ংকর হাউস বেয়ারার সামনে পরতে পরতে বেঁচে গেল আশিক । বেয়ারা যদি দেখে আশিক অন্য হাউসে গিয়েছিল তাহলে বডি চেক শুরু হয়ে যাবে । আর চেক হলেই আজ রাত শুধু হাউস-মাস্টারের অফিসে কাটবে ।
ক্যাডেট বিপদে পড়বে আর একটা উপায় বের হবে না এমন কখনো হয় না। এখন যা ভাবা তাই করা।হাউসের পিছনের সানশেড দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে কোনভাবে নিচে নামা গেল। নিচে নামার পর আবার আরেক প্রেমিক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে দেখা। ভাইকে দেখেও মনে হচ্ছে সিরিয়াল পায় নাই। এবং আমার ভাবাটাই অবশেষে সত্য হয়ে গেল।
-আশিক, ফোনটা দাও তো একটু। তোমার ক্লাসমেট বলল তোমার কাছে ফোন আছে নাকি?
-(অনেকক্ষন ভেবে এবং হতাশ হয়ে) জ্বী ভাইয়া। আমি ভাইয়া আপনাকে কতক্ষন পর দেই? আমার ১০ মিনিটের মত লাগবে।
- আমার তো ৫ মিনিটও লাগবে না। ৫ মিনিটের জন্য একটু দাও ,একটু পর দিয়ে দিচ্ছি। ? বুঝই তো তুমি ব্যাপারটা । আজকে একটা স্পেশাল ডে এখনো কথা বলতে পারি নাই। ওইদিকে বাজে ১০টা ৩০। আর মাত্র দেড় ঘন্টা বাকি।
-ওকে ভাইয়া। (চিন্তিত কন্ঠে আশিকের গলা থেকে এই বাক্যটি বের হল।)
৫ মিনিট না ১০মিনিট পরে ছেলেটি গেল ভাইয়ার রুমে ভয়ে ভয়ে।যদি হাউস বেয়ারা দেখে ফেলে!!রাতে আবার সিনিয়র এর রুমে জুনিয়র দের দেখলে অন্য কিছু ভাবা শুরু করবে।
ভাইয়া বলল আর ৫ মিনিট লাগবে । তোমার আসার দরকার নাই। আমি তোমার রুমে গিয়ে দিয়ে আসবো ।
(আর ৫ মিনিটই তো! ব্যাপার না ,এই ভাবনা নিয়ে আবার নিজের রুমে ফিরে গেল আশিক)
এইভাবে ৫ মিনিট , ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে করতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে শেষ হয়ে গেল।
১৫ ফেব্রুয়ারী।
ভাইয়ার আর কথা বলা শেষ হল না । ভাইয়া না করা সত্তেও ভাইয়ার রুমে গেল আশিক। কিন্তু ভাইয়ার রুমের কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। হতাশ হয়ে নিজের রুমে ফিরে যায় আশিক। সারারাত কেটে গেল। ফোন আর পাওয়া গেল না। সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারে নি আশিক।
পিটির সময় হয়ে গেল। পিটি ড্রেস পরে বাইরে বের হল আশিক। হঠাৎ ভাইয়াটিকে অন্য রুম থেকে আসতে দেখা গেল? আশিক দৌড়ে গেল ভাইয়ার কাছে।
-রাতে একটা ঝামেলা হইছিল বুঝছিস?
-কি ঝামেলা ভাই?
-ঘুমিয়ে পড়ছিলাম অন্য রুমে। আমার আরেক ক্লাসমেটের কাছে ফোনটা ছিল। তোকে দেয় নি ?
(আশিক বাকরুদ্ধ)
ভাইয়া এরপর ফোনটা বের করে দিল আশিককে। ভাইয়া একটা কথাও বলতে পারে নি ওইদিন।
ছেলেটি পরে ভাইয়ার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে রুমে গিয়ে সাথে সাথেই ফোন দিল তার প্রেমিকাকে। কল ধরার সাথে সাথেই আশিকের সরি বলা শুরু হল। মেয়েটি সকালে ফোন ধরে বুঝতে পারল না কি হচ্ছে !!
-আমি খুবই সরি। রাতে কল দিতে পারলাম না।
-আমি তো তোমার কাছ থেকে ফোন আশাও করি নাই।তুমি তো কলেজে ফোন নিয়েও যাও নাই। আর কাল তো তেমন কিছু ছিল না।
-কাল ছিল তো!! ভ্যালেন্টাইন্স ডে........................
-(মেয়েটি কিছুক্ষন নিস্তব্ধ হয়ে রইল )আজকে কি ভালবাসা দিবস না ?? আমার জন্য তো প্রতিদিনই ভালবাসা দিবস। ফোন দিয়ে আমাদের ভালবাসা দেখাতে হবে সবাইকে!!!
(মেয়েটির কথা শুনে ছেলেটির গলা দিয়ে কিছুক্ষনের জন্য কোন আওয়াজ বের হল না।)
কিছুক্ষন পর ছেলেটি আবার কথা বলতে লাগল,
-এর জন্যই তো আমি তোমাকে এত ভালবাসি।
- হইছে, সাত সকালে প্রেম না দেখিয়ে নিজের কাজ করো ,শুক্রবার কল দিও।
- বেশিক্ষন আমিও কথা বলব না। আচ্ছা, তোমার কন্ঠটা এত সুন্দর কেন!!! জানো আমি তোমার কন্ঠ থেকে মধুর বাশির শব্দ শুনছি!!
-আমিও তো পাচ্ছি।
-আসলেই!
-হুম,কেও বাশি বাজাইতেছে মনে হয়।
হঠাৎ মনে হল এখন তো পিটি । লকারের চিপা থেকে বের হয়ে একটু একটু মুখ দরজার বাইরে বের করে,আশিক বাইরে তাকিয়ে দেখে স্টাফ এদিকে দৌড়ায়া আসতেছে। টেবিলের উপর ঘড়ি দেখেই আশিক আবারও হতাশ হয়।
(মার্চ-আপের টাইম শেষ। আজকে আশিকও শেষ)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×