somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়বে কে?

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৬ মার্চ বুধবার থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ। এবার দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল - 'সবাই মিলে গড়বো দেশ, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ।' পুরো সপ্তাহজুড়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রায় সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আলোচনা ও দোয়া-দরূদ পাঠ করে শোনানো হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে দেশের ২১ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং 'সততা সংঘ'। গত ২৭ মার্চ দুদক কার্যালয়ে 'দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৪' প্রদান করা হয়েছে। ২৮ মার্চ বাদ জুমা মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ আলোচনা এবং দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ মার্চ বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা এবং দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়েছে। ৩১ মার্চ দুদক কার্যালয়ে 'রাজনৈতিক ঐক্য ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের প্রধান নিয়ামক' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগে চুরি-ডাকাতি করতো গরিব ও অশিক্ষিতরা। চুরির ধরন ছিল সিঁদকাটা বা বাঁশের বেড়া কেটে বা ঘরের ঝাপ সরিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ধান, চাল, পাট, ডাল, আটা ইত্যাদি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া। অনেক সময় মালিকের হাতে ধৃত চোরকে দেখলে মনে হতো সে অত্যন্ত গরিব। মারতে গেলেও মায়া হতো অনেকের। সে যুগে চোরের কোন চাকরি ছিল না। তারা ছিল অত্যন্ত অনাহারি এবং গরিব। আজকাল চোর আছে, তবে ঐ ধরনের চোর খুব কম। বর্তমানের চোরগুলো উঁচুদরের। বুদ্ধিবৃত্তিক কলমের মারপ্যাঁচে চুরি করে কোটি কোটি টাকা। আর এই চুরিবৃত্তির আধুনিক নাম হয়েছে দুর্নীতি। আইনের ভাষায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে যদি নিজ অথবা অপর কোন ব্যক্তির জন্য তার বৈধ বেতন বহির্ভূত কোন ধরনের বকশিশ গ্রহণ করে বা গ্রহণে সম্মত হয় তবে তা অপরাধমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। দণ্ড-বিধিতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বকশিশ বা ঘুষ গ্রহণের সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

ধর্মীয় আঙ্গিকে চিন্তা করলে দুর্নীতির চেয়ে নিকৃষ্টতম কাজ আর নেই। রসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন এমনকি রসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা এবং উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী সকলের উপরই অভিসম্পাদ করেছেন। রসুল (সা.) বলেছেন, 'ঘুষ দাতা ও ঘুষগ্রহীতা জাহান্নামী হবে।' আমাদের সমাজে কতিপয় লোক আছে যারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে, আবার ঘুষও খায়। 'তারা আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করে নিয়েছে, সুতরাং তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং কোন সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।' (সুরা বাকারা : ৮৬)। “তাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রয়েছে এবং পান করানো হবে গলিত পুঁজ। যা সে অতি কষ্টে এক এক ঢোক করে গলধঃকরণ করা প্রায় সহজ হবে না। সর্বদিক হতে তার নিকট আসবে মৃত্যু যন্ত্রণা কিন্তু তার মৃত্যু ঘটবে না এবং এরপর কঠোর শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে।” (সুরা ইবরাহীম: ১৬-১৭)।

'যে অপরাধের জন্য আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুল (সা.) ফয়সালা দিয়েছেন - 'জাহান্নামী' তা কত বড় অপরাধ হতে পারে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। তাই সিদ্ধান্ত এসেছে - ঘুষখোরের অবৈধ সম্পদ হতে প্রস্তুতকৃত খাদ্যগ্রহণ করার সময় হালাল মনে করে বিসমিল্লাহ বলে খেলে সে আর মুসলিম থাকে না। অথচ বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলমান !

এমতাবস্থায় প্রশ্ন জাগে - দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়বে কে? সরকার? টিআইবি'র তথ্যানুসারে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে - পুলিশ বিভাগ, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ইনকাম ট্যাক্স, সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ, টেলিফোন বিভাগ। উল্লিখিত সবগুলো বিভাগ ও অফিসই সরকারি। অর্থাৎ সরকার নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে কে?

যারা নিজেদের রসুল (সা.) এঁর অনুসারী দাবী করে কিন্তু তাঁর (সা.) আদেশ নিষেধ মানে না তারা কি রসুল (সা.)-কে অবমাননা করছে না? এ অবমাননার প্রতিকার কি? পক্ষান্তরে, যে দেশে ইসলাম বিদ্বেষী কবিতার একটি লাইনের জন্য ফুলে ফোঁসে উঠতে পারে লাখো মুসলমান, যে দেশের মুসলমান পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে রসুল (সা.) এঁর অবমাননায় বিদ্রোহ ও বিক্ষোভে ফেটে পরতে পারে তারা কি পারে না দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে?

কুরআনের দৃষ্টিতে যে অন্যায় করে এবং যে অন্যায়ে অংশগ্রহণ করে এমনকি নীরবে সহ্য করে সেও সমান অপরাধী। কুরআন শুধু সৎকর্মের আদেশ দেয়নি অসৎকর্ম প্রতিরোধেরও আদেশ দিয়েছেন। দেশের ধর্মভীরু সাধারণ মানুষ যারা নিজেদেরকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেন তারা দুর্নীতি প্রতিরোধে অগ্রগামী না হলে দেশ কি আদৌ দুর্নীতি মুক্ত হবে?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×