somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাঙছে পারিবারিক বন্ধন গড়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আধুনিক নগরসভ্যতার বিকাশ যত দ্রুত ঘটছে, ততই যেন পাল্লা দিয়ে ভাঙছে পারিবারিক বন্ধন। যৌথ পরিবারে ভাঙন ধরেছে সেই কবে। বাবা-চাচা ভাইবোনসহ একান্নবর্তী বড় পরিবার এখন দুর্লভ। স্বার্থান্ধতার বৃত্তবন্দি জীবন কেড়ে নিয়েছে সন্তান আর বাবা-মার আমৃত্যু বন্ধনটুকুও। তাই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান নগরী আর জনপদে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠতে শুরু করেছে দু'দশক আগে থেকেই। রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে এখন উপজেলা পর্যায়েও বৃদ্ধাশ্রমের কমতি নেই। জীবনের সুবর্ণ সময়গুলো বিলিয়ে দিয়ে আজ সেই আপনজনের হাতেই নানাভাবে বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে অসহায় বৃদ্ধরা ঠাঁই নিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে।

পশ্চিমা বিশ্বের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অনুৎপাদনশীল মানুষকে রাখতে চায় মূল কাঠামোর বাইরে। তাই জীবনের শুরুতে স্কুলে যাওয়ার মতোই শেষ জীবনে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। বাঙালির কাছে পরস্পরের সান্নিধ্যের শান্তিটুকুর মূল্য অনেক বেশি। এখানে সন্তান সাবালক হলেই পিতা-মাতার দায়িত্ব যেমন শেষ হয় না তেমনি বৃদ্ধ পিতা-মাতার দেখাশোনা করার দায়ভারও সন্তানের ওপর বর্তায়। তাই পশ্চিমের বৃদ্ধাশ্রম আমাদের জীবনধারায় অনুপস্থিত থাকাটাই কাম্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিপরীতটাই প্রকট হয়ে ওঠছে।

বাংলাদেশে যারা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, তাদের বেশির ভাগই সন্তানের অবহেলা বা অযত্নের কারণে। আজ যারা বৃদ্ধ, তারা নিজেদের জীবনের সব ধন-সম্পদ বিনিয়োগ করেছিলেন সন্তানের জন্য। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের কাছ থেকে এর একটি ক্ষুদ্র অংশও তারা পাচ্ছেন না। কখনো দেখা যায়, সন্তান তার নিজের পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই পিতা-মাতাকে মনে করছে বোঝা। নিজে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটু ভালো থাকার জন্য বাবা-মায়ের ঠাঁই করে দিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। একবার বৃদ্ধনিবাসে পাঠাতে পারলেই যেন সব দায়মুক্তি। এভাবে নানা অজুহাতে পিতা-মাতাকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেক নামীদামি বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চাকরিজীবী যারা এক সময় খুব বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজের সন্তানের দ্বারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হন। তাই অনেকের জন্য বৃদ্ধনিবাস প্রয়োজনীয় বিকল্প। বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন, তারা সবাই মিলে একটা নতুন পরিবার তৈরি করে নেন। সমবয়সীদের সঙ্গে হেসে-খেলে, স্মৃতিচারণ করে তাদের সময়টা ভালোই কেটে যায়। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে যা পাওয়া যায় না তা হলো পরিবারের সান্নিধ্য। বৃদ্ধ বয়সে মানুষ তার সন্তান, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে একত্রে থাকতে চান। তাদের সঙ্গে জীবনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চান। বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় পাওয়া যায়, সঙ্গী-সাথী পাওয়া যায়, কিন্তু শেষ জীবনের এই আনন্দটুকু পাওয়া যায় না, যার জন্য তারা এ সময়টায় মানসিক যন্ত্রণা আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন।

সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে একটা ছোট ছেলে তার বাবাকে বলেছিলো, 'বাবা আমি যদি ঐ সমুদ্রে ডুবে যাই?' বাবা তখন মুচকি হাসি দিয়ে ছেলের হাত শক্ত করে ধরে বলেছিলো 'ধুর বোকা, তুমি ডুববে না। আমি আছি না !' এরপর কেটে যায় পঁচিশটি বছর। এ দীর্ঘ সময়টাতে বাবা তার ছেলেকে আগলে রেখেছিলো কঠিন সব ঢেউয়ের হাত থেকে। একটু আঘাতও ছেলেটির গায়ে লাগতে দেয়নি বাবা! সময়ের পরিক্রমায় বাবা হয়ে যায় বুড়ো আর ছেলে হয়ে ওঠে টগবগে যুবক। যুবক হয়ে ওঠা ছেলেটিই একটা সময় তার বৃদ্ধ বাবাকে গভীর এক সমুদ্রে ছেড়ে দেয়। যেখানে থাকে না কোন প্রিয় মানুষ। ছেলে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যাওয়ার সময় বলে, 'বাবা আমি ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত! তোমাকে একদমই সময় দিতে পারি না। তুমি মন খারাপ করো না! এখানে তুমি বরং ভালোই থাকবে।' বাবা এবারো মুচকি হাসি দিয়ে বলে - 'ধুর বোকা ! তুই তোর পথে এগিয়া যা । আমি বেশ আছি তো .....' এই টগবগে যুবকটি কি একটুও ভাবে না কোন একদিন তার জীবনেও একই রকম পরিণতি আসতে পারে!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×