somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ অপেক্ষা

২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পার্কের বেঞ্চিতে বসলাম। এখন আমি নিজের সাথে কথা বলছি। আমার রাগ হলে নিজের সাথে কথা বলি। হাতের কাছে কিছু না পেলে এভাবেই রাগ থামানোর চেষ্টা করি।

এখনো মিমি আসেনি। রাগটা মিমির জন্যই। কালকে দেখা করতে চেয়ে আসেনি। আজকেও এক ঘন্টার মত দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কোন পাত্তা নাই। আজকেও আসবে নাকি জানিনা।

পার্কের বেঞ্চিতে চুপ করে বসে আছি। এখন রাগের চেয়ে অন্যকিছু মাথায় ঘুরছে। পাশের একটা বেঞ্চিতে একজন লোক বসে আছে।

এর আগেও অনেকবার লোকটাকে এখানে বসতে থাকতে দেখেছি। তিনিও কি আমার মত কারো জন্য অপেক্ষা করছে! কিন্তু প্রতিদিন তাকে একা একা বসে থাকতে দেখি।

আমি লোকটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। লোকটা আমাকে দেখে চোখ তুলে তাকিয়ে বলল
-বস।
লোকটা আমাকে বসার জন্য সরে গিয়ে জায়গা করে দিল।

আমি বসতেই লোকটা বলল
-কারো জন্য অপেক্ষা করছ?
আমি তার কথা শুনে মুচকি হেসে বললাম
-হুম।
-এখনো আসেনি?
-না। তবে আসবে।
-রেগে আছ মনেহয়?
-হ্যা। রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করেও আসছে না।

আমার কথা শুনে লোকটা চুপ করে থাকল। চুপ করে কিছু ভাবছে নাকি জানিনা। তবে তাকে প্রশ্ন করলাম
-আপনাকে এখানে একা একা বসে থাকতে দেখি। আপনি একা একা বসে থাকেন কেন!
-একজনের জন্য অপেক্ষা করি।
-কিন্তু তাকে আসতে দেখি না। এত অপেক্ষা করে থাকলে আপনার রাগ হয়না?
-না। ভালবাসার মানুষের উপর রাগ করতে নেই।

-একটা গল্প শুনবে?
মিমির আসতে অনেক দেরি। তাই সময় কাটানোর জন্য গল্প শোনা যেতেই পারে। আমি মুচকি হেসে বললাম
-জ্বি শুনব।
-তাহলে শুনো।

লোকটি গল্প বলতে থাকল....
আমি আর সুমি খুব ভাল ফ্রেন্ড। বেস্ট ফ্রেন্ড বলতে যা বুঝায় সেটাই আমরা দুজন। তবে প্যারা দেওয়ার জন্য সুমি আমার কাছে অন্যতম।

সুমি আর আমি রাস্তায় পাশাপাশি হাটছি। হঠাৎ সুমি আমার সামনে গিয়ে বলল
-একটা ছেলে আমাকে প্রোপোস করেছে।
-খুশির খবর। দেখতে কেমন?
-ভালই আছে।
-তাহলে রাজি হয়ে যা।
আমার কথা শুনে সুমি চুপ হয়ে গেল। তারপরে আবার বলল
-তুই ছেলেটাকে মারবি।

সুমির কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম।
-মারব কেন?
-কারন সে আমাকে প্রোপোস করেছে।
-প্রোপোস করলে মারতে হবে! রাজি হয়ে যা।

আমার কথা শুনে সুমি কিছুটা চুপ হয়ে গেল। ওর ভাব দেখে মনেহয় রাগ করেছে। আমি ওর রাগ দেখে কাছাকাছি এগিয়ে বললাম
-চল ওই ছেলেকে মারব।
-কেন মারবি?
-তোকে প্রোপোস করেছে তাই।

আমার সাথে সুমি হাটতে থাকল। সুমি এখন খুশি। আমি সেই ছেলেকে মারতে যাব না। তবে সুমিকে খুশি করার জন্য কথাটা বলেছি।

সুমির সাথে পার্কে এসে বসলাম। আমাকে পার্কে আনল কেন সেটা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুমি বলে নি। পরে বলল, এখানে নাকি ছেলেটা আছে।

সুমির পাশে বসে বাদাম খাচ্ছি। সেই ছেলের কোন খবর নেই। এতে আমার জন্য ভাল হয়েছে। ঝামেলা নেই। কাউকে মারতে হবেনা।

-ওই ছেলে আসছে না কেন!
সুমি আমার কথায় অবাক হয়ে তাকাল। সুমি বলল
-মারার জন্য তোর হাত ইশপিশ করছে নাকি!
-আরে না। এখন এলে ওই ছেলের গলায় তোকে লটকে দেব। তাহলে ঝামেলা থেকে বাঁঁচব।
-আমি ঝামেলা!
-হ্যা। তুই তো ঝামেলা। তোর একটা বয়ফ্রেন্ড হলে আমি বেঁচে যেতাম।
-কি বললি!

আমার কথা শুনে সুমি চট করে দাঁড়িয়ে গেল। আমার কথা শুনে সে রাগ করেছে সেটা বুঝতে পারছি। রাগ থামানোর জন্য বললাম
-চল ছেলেটাকে খুঁজি।
-না। আমার মত ঝামেলা তোকে সহ্য করতে হবে না। আমি গেলাম।
-ওই দাড়া।
-আমি আর তোকে ফোন দিব না।

কিছু বলে বুঝানোর আগেই চলে গেল। আমি কিছু বলার সুযোগ পেলাম না। একদিকে ভালই হল, কিছুদিন ঝামেলা থেকে বাঁচা যাবে।

দুইদিন হয়ে গেলেও সুমি আমাকে ফোন দেয় নি। এর আগে রাগ করলে ও নিজে থেকেই ফোন দিত। কিন্তু আজ কেন নয়!

এই দুইদিনে সুমিকে খুব মিস করছি। সুমিকে আমার জীবনে কতটা দরকার সেটা হারে হারে বুঝতে পারছি।

নিজে থেকেই সুমিকে ফোন দিলাম। সুমি ফোন ধরে বলল
-কি বলবি, বল।
-রেগে আছিস?
-.........
-কালকে দেখা কর। তোকে অনেক মিস করছি রে। তোকে আমার জীবনে খুব দরকার।
-তাহলে আমার সাথে প্রেম করবি?
আমি অবাক হয়ে বললাম।
-মানে কি!
-মানে তোরে ভালবাসি।
-প্রোপোস করছিস নাকি!
-কালকে দেখা হলে সব বলব। তুই আমার আগে পার্কে গিয়ে বসে থাকবি।

সুমি আমাকে ভালবাসে! ব্যাপারটা ভাবনার বিষয়। সেদিন তাহলে ওই ছেলেটাকে এই কারনেই মারতে বলেছিল! এখন সব বুঝতে পারছি।

পরেরদিন সুমির জন্য পার্কে এসে বসে অপেক্ষা করছি। কিন্তু সুমি আসছে না। অনেকবার ফোন দিয়েও ধরে না। রাগ হচ্ছে খুব। চলে যাব নাকি ভাবছি।

আমি চুপ এতক্ষণ ধরে উনার গল্প শুনছিলাম। এতক্ষণে মুখ খুলে বললাম
-সুমি আসার পরে কি বলেছিলেন?
লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
-সুমি আসে নি।
-কেন!

লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল
-ও চলে গিয়েছে।
-কোথায় চলে গিয়েছে?
-না ফেরার দেশে।

লোকটির কথা শুনে আমি চুপ করে থাকলাম। কি বলব বুঝতে পারছি না। যেই সুমি চলে গিয়েছে তার জন্য আজ'ও অপেক্ষা করে! আসবে না জেনেও অপেক্ষা করে!

-আজ উঠি। আবার পরে কথা হবে।
লোকটি উঠে চলে গেল। পিছন থেকে ডাক দিতে চেয়েও ডাক দিলাম না। শুধু লোকটির ভালবাসা বোঝার চেষ্টা করলাম।

এখনো মিমি আসেনি। কিন্তু মিমির উপরে কোন রাগ নেই। যাকে ভালবাসা যায়, তার জন্য অপেক্ষা করা যায়। মিমি দেরি করে আসলে ক্ষতি কি!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×