somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ম ন নে ক বি তা : নিজেকে নিঃস্ব করে সাপ-লুডো খেলা

১৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ম ন নে ক বি তা

নিজেকে নিঃস্ব করে সাপ-লুডো খেলা
এন জুলফিকার

অতর্কিতে ডাক দিলে দেখা হবে মায়াবী লতায়--- এই বলে সব পথ ম্যাজিক তুলিতে সে মুছে দিয়ে বেপথু হাওয়ায় চলে গেল। দূর কোনো হলুদের বনে। আর বসে রইলুম আমি। সূর্য অস্ত গেল কিশোরী নদীর ভরা বুকে। সেখানে গোপন কথা গভীর জলের মতো নির্বাক, স্থির। অগোছালো ঘর আর রাজ্যির আবর্জনা নিয়ে ঘনঘোর কুয়াশায় বসে রইলাম...।
এ সব শুধুই কি ছবি ? ক্লান্ত দুপুর-রাত যখন একবুক পিপাসা নিয়ে কাছে আসে, চলমান নগরীর সব কান্না চেটে খায় দিন, কার কাছে যাব আমি ? সাদা পৃষ্ঠার হিজিবিজি অক্ষর, রেখা আমাকে উড়িয়ে আনে। এক টানে ছুঁড়ে দেয় কবিতাডাঙায়। নিয়তি-নির্ধারিত সেই পথে দিনরাত দাসানুদাসের মতো ঘোরাঘুরি। দিনের শেষে খুদ-কুঁড়ো যেটুকু যা জোটে তাই নিয়ে মোচ্ছব, শব্দের কাটাকুটি খেলা। পুরোনো চিঠির খাম, ভাঙা পেনসিল, এক টানে এঁকে যাওয়া মুখের আদল মাথার মধ্যে অনবরত ঘুরপাক খায়। মনে হয়, কোথাও যাবার ছিল যেন। কেউ কি অপেক্ষায় ছিল ভাঙা ব্রিজের ওপাশে সেই নির্জন হলুদের বনে ? নাকি কোনো বিভ্রম, শব্দের কাছাকাছি আসা !
হঠাৎ বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির ঘেরাটোপে ভিজে যায় পরিচয়লিপি। আর একটার পর একটা লাইন জল টপকে এগিয়ে আসে। ডায়েরির সব পাতা তুমুল ভিজিয়ে দিয়ে কে যেন লিখিয়ে নেয়--- যুবতী মেঘেরা আজ বড় বেশি জলজ, কাঙাল/ কেবলই স্নানের ছল/ আঁশটে গন্ধ চিনে ছুটে যায় দ্রুতগামী লন্ঠন হাতে...। একটা একটা করে মুহূর্তেই নিঃশেষিত হয় বুক জুড়ে জমে থাকা শব্দ-পাহাড়। আর ক্রমশ নিঃস্ব হয়ে উঠি। ভেতরের সেই তুমুল ছট্ফটানি কে যেন নিংড়ে নিয়েছে দ্রুত। আমার ঘুম পায়। দূর থেকে ভেসে আসে খিলখিল হাসি।
এভাবে শব্দ ছুঁয়েই দিন কাটে। রাশি রাশি অক্ষরে ভ’রে ওঠে কবিতার খাতা। আমি আহ্লাদে হাত-পা ছুঁড়ি। কুন্ঠিত দেহখাঁজে খুঁজে যাই শষ্যের অনাবাদী জমি। বুনো ফুলের গন্ধ, ঝরা পাতার গান শুনতে শুনতে লিখে ফেলি--- দগ্ধ আগুন নিয়ে খেলে যাচ্ছি/ গিলে খাচ্ছি রাতের বিষাদ...।
তারপর ? তারপর সারাটা দুপুর, সারা রাত উন্মুখ বসে থাকি। শব্দরা উঁকি দেয়, তবু নিমেষে উড়িয়ে দেয় ভাবনার সুর। বৃষ্টি ডাকবে বলে যে যে ভাবে উইপোকা দলবেঁধে নিজেদের মৃত্যুকে ডাকে, চারপাশে জমে থাকা বর্ণমালারা সেভাবেই উবে যায়। দৃশ্যের ফাঁদে। আমি কেবলই বনবন ঘুরি। খুঁজে যাই চোরাপথ, সাঁকোর দোসর। আর ব্যর্থ সমর্পণ শেষে আদিগন্ত কাঁটাতার-এ ঘা খেতে খেতে হেঁটমুন্ড। ঠিকানা হারানো পথে ফিরে ফিরে হাঁটি। খুব রাগ হয়। সজোরে বন্ধ করি কবিতার খাতা। মাথা জুড়ে বেড়ে ওঠে ফনার দাপট।
তারপর বহুদিন ছুঁয়েও দেখিনা কবিতার খাতা। আড্ডায়, ভুল রোদে নিজেকে ছড়িয়ে দিই। এভাবেই উপবাস। নিজেকে নিঃস্ব করে সাপ-লুডো খেলা। আর কেবলই পিছলে পড়ি। নিজেকে গুটিয়ে ফেলি শামুকের মতো। তখনই দরজায় মৃদু শব্দ টের পাই। টের পাই আবছা পায়ের শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে। বাতাসে কাঁপছে এক বিটকেল হাসি।

দরজা বন্ধ বলে যে নাকি চলে গেছে শব্দের ওপারে, তার জন্য রোজ তাই ধূপ-ধুনো, সুগন্ধিত চান। ধ্যানের ভঙ্গিমা যত প্রতি রাতে যেভাবে পাল্টাই, ক্লান্ত শেকড় তুলে যেভাবে সাজিয়ে রাখি পাখির বাসর--- সে সকলই নিবেদন, কবিতার আরও কাছে আসা। নাম ধরে ডাকা রোজ। ছুঁয়ে দেখা অক্ষর-যতি। এভাবে প্রতিটি দিন, এভাবে প্রতিটি রাত ছেনে রোমকূপে জেগে ওঠা অশ্রুত কান্নার ধ্বনি ক্যানভাসে জড়ো করি। এঁকে ফেলি শূন্যের ছবি।
এমত নিজের কাছে বারবার ফেরা। উন্মুখ চোখ খুঁজে হেঁটে যাওয়া তপ্ত-প্রহর।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×