somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বসে। সামরিক শাসন দেশে। চারিদিকে সীমাহীন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। অস্বাভাবিক সময়। রাজনীতি নিয়ে যথাসম্ভব কম কথা বলছে মানুষ। সদ্য স্বাধীন দেশ ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যার পর নেই চিন্তিত। সে সময়ের কথা। কোনও এক শুক্রবার দুপুরবেলা। রৌদ্রময় দিন। ঢাকাস্থ জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণ। হঠাৎ জুম্মার নামাজের সময় আগমন ঘটলো, কুখ্যাত রাজাকার, জামায়াত নেতা গোলাম আজমের। জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় সদ্য বাংলাদেশে এসেছে। ভেবেছিলো, দেশের পটপরিবর্তন হয়েছে। সামরিক শাসন চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কোণঠাসা। কেউ কিছু করার সাহস পাবে না। নির্বিঘ্নে কাজ সেরে চলে যাবে। কিন্তু হয়েছিলো ঠিক তার উল্টো। গোলাম আজমকে দেখা মাত্রই রাগে ফেটে পড়লো সেখানকার মানুষ। পায়ের জুতো চপ্পল হাতে উঠে গেলো অনেকের। আলোকোজ্জ্বল সে দুপুরবেলায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে গোলাম আজমকে গণপিটুনি দিয়েছিলো উত্তেজিত জনতা। রাস্তার পকেটমার, ছ্যাচরা চোর, মাদকসেবিদের মতো গণপিটুনি থেকে বাঁচতে কোনওরকমে দৌড়ে, লাফিয়ে, পালিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায়। নাহলে আর চুরানব্বই বছরের দীর্ঘজীবন পাওয়া হতো না; সেই শুক্রবারই অন্তিম দিন হতে পারতো। জনরোষের উত্তুঙ্গ, উদ্বাহু আগুন দেখেছিলো গোলাম আজম। না, বাংলার মানুষ ভোলেনি একাত্তর। ভোলেনি মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তির জন্য তাদের সীমাহীন ত্যাগ, তিতিক্ষা; অশ্রু, রক্ত, ঘাম। সেই শুক্রবারের দুপুরটা অবিস্মরণীয়। সাদাকালো ছবিগুলো দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। পত্রপত্রিকার আর্কাইভে পাবেন। চোখে ভাসছে উজ্জ্বল। উত্তেজিত জনতা মুষ্টি বাগিয়ে, জুতা চপ্পল হাতে ঘিরে রেখেছে গোলাম আজমকে। আরেক ছবিতে ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় গাড়িতে বসে। (খুব সম্ভবত পুলিশের গাড়ি।) জুতো চপ্পল হাতে এদিকওদিক দাঁড়ানো মুসল্লীরা। সদ্য বেধড়ক পিটিয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, জামায়াত নেতা গোলাম আজমকে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×