
বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত একটি গ্রামের নাম। নালন্দা শব্দের অর্থ 'দানে অকৃপণ'। নালন্দায় আমার লেখাপড়া করার শখ ছিলো। হয়নি। এক জীবনে অপূর্নতার শেষ নেই! পুরো বিহার জুড়ে কমপক্ষে ১৫ লাখ বাঙ্গালী থাকে। যাইহোক, বিহারে একটা অঞ্চলের নাম 'ঝাঝা'। পুরো অঞ্চল জুড়ে পাহাড় আর পাহাড়। জঙ্গলও আছে। ঝাঝা'তে একটা রেলস্টেশন আছে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। বড়ই সৌন্দর্য।
দেশভাগের সময় অনেক মুসলিম বাঙ্গালী-
বিহার থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলে আসে। ৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়- এসব বিহারীরা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছিলো। এরা আজও পাকিস্তান পাকিস্তান করে। খুজলে তাদের ঘরে জিন্নার ছবিও পাওয়া যাবে। এখন বাংলাদেশে এসব আটকে পরা বিহারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব বিহারীদের চেয়ে রোহিঙ্গারা অনেক ভালো আছে। যাইহোক, আমার সমস্যা হলো বিহারের 'ঝাঝা' অঞ্চলটা নিয়ে। এই অঞ্চলে আমি কোনোদিন যাইনি। অথচ আমার মনে হচ্ছে- ঝাঝা'তে আমি গিয়েছি। অনেকদিন থেকেছি। খুবই পরিচিত মনে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা একধরনের টান অনুভব করছি। যে এলাকায় জীবনে যাইনি, সে জায়গার জন্য টান অনুভব কেন করিব!
বাংলাদেশের মেহেরপুর অঞ্চলে একটা গ্রামের নাম- ঝাঁঝা।
একদম ভারতের সীমান্তের কাছে গ্রামটি। ঝাঁঝা'তে একটা বিজিবি'র ক্যাম্প আছে। তারা চোরাচালান ঠেকাতে চেষ্টা করেন। মেহেরপুরের এই ঝাঁঝা গ্রামেও আমি কোনোদিন যাইনি। সীমান্ত এলাকায় যেতে আমার ভয় করে। মনে হয় গুলি খেয়ে মরবো। সীমান্ত এলাকায় আলোচনা করে মিটমাট করা দরকার। আমাদের গরু তোমাদের এলাকায় যাবে, ঘাস খাবে। সন্ধ্যায় ফিরে আসবে নিরাপদে। কৃষক চাষ করবে ভয়হীণ ভাবে। হ্যা যারা গোপনে এপারের জিনিস ওপাড়ে নেয়, সেটা অবশ্যই অন্যায়। এই কাজ তো আর কৃষকরা করে না। সীমান্তের সমস্যা গুলো সমাধান করা প্রয়োজন। ৫২ সালের আগে সীমান্তে কোনো সমস্যা হতো না। পাসপোর্ট ভিসাও লাগতো না।
দেশভাগ হয়েই সমস্ত বাঙ্গালীদের কপাল পুড়েছে।
দুই কোটি মানুষের জীবন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। ঘরবাড়ি ছাড়া হয় দেড় কটি মানুষ। ধর্ষনের স্বীকার হয় এক লাখ নারী। দেশভাগের কারনেই- ইতিহাস, রাজনীতি, গৌরবময় ঐতিহ্য সব তছনছ হয়ে যায়। দেশভাগ নিয়ে নানাজনের নানা রকমের মত ও ব্যাখ্যা আছে। বাংলাদেশের কবিতায়-গল্পে-গানে দেশভাগের তেমন ছাপ নেই। তবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম উপন্যাসে দেশভাগের মহাকাব্যিক বিবরণ রয়েছে। ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দেশভাগ হয়েছে। অনেক রক্তপাত, খুনোখুনি, অবিশ্বাস, একে অপরের প্রতি দোষারোপের মধ্য দিয়ে দুই বাংলা বিভক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



