আমার অনেকগুলো শখের মধ্যে একটা শখ সারা রাত পুরো ঢাকার শহরটা ঘুরে বেড়ানোর।সেই লাল,নীল,সোডিয়ামের আলোতে স্নান করা।একদিন খুব সকালে বের হব আর সেই সন্ধ্যার পর ঘরে আসবো পুরো ঢাকাটা ঘুরে,দিনের ঢাকা দেখবো।
কিন্তু হায় এই কি গাঁজাঘোড়ি স্বপ্ন দেখছি আমি।আমি কি করে ভুলে যাচ্ছি যে এদেশে এখনও মেয়েদের এত দূর স্বপ্ন দেখতে দেয়নি।
এ দেশ এগিয়েছে বটে কিন্তু তা শুধু মুখে মুখে,বাস্তবে কিছুই না।
এদেশে এখনও সন্ধ্যার পর মেয়েরা কমই বের হয়।রাত একটু বেশি হলে কোনো কারণে বাহিরে থাকা লাগলে মা-বাবা তো চিন্তা করেই,তার চেয়েও বেশি চিন্তা মনে হয় রাস্তার মানুষগুলো বেশি করে,যেভাবে তাকায়।আরও যদি মেয়েটি সাজুগুজু করে বের একটু রাত পর্যন্ত বাহিরে থাকে(অফিশিয়াল,ভার্সিটির কোনো কাজে) তাহলে তো কথাই নেই।এমন ভাবে তার দিকে তাকাতে তাকাতে যাবে যেন মিউজিয়ামে সাজানো কিছু দেখছে তারা।তার ওপর এ এসে বলবে যাবে?ও এসে বলবে "রেট কত এক রাতই?" আরও যে কত কি....!?মাঝে মাঝে হারামি পুলিশ ও পিছিয়ে থাকেনা এগুলো করতে!
আমরা এগিয়েছি কিন্তু বললাম না,মুখে মুখে।যে দেশে একজন নারী কে এখনও নিরাপত্তা দিতে পারেনি,তার সম্মান রক্ষার ভার নিতে পারেনি,সেই দেশ কারও মতে আগালেও আমার মতে আগায়নি।
এইতো সেদিন,মনে আছে মহিলাটি বাসে করে চাকুরী শেষে বাসার উদ্দেশ্যে ফিরছিলো? সারা বাসে মহিলাটি একা ছিলো, মহিলাটি কে সেই বাসের কন্ট্রাকটর এবং ড্রাইভার মিলে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে গিয়েছিলো কোনো এক ডাস্টবিন এর পাশে।
মনে পড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মহিলা শিক্ষিকার তার বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোনো শিক্ষক দ্বারা যৌনহয়রানির স্বীকার হওয়ার কথা?আজকাল মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে,রাস্তাঘাটে প্রায়ই যৌনহয়রানির স্বীকার হয়।এরকম কত আছে উদাহরণ........।
এখন অনেকেই বলবে মেয়েদের চাকুরী করারই বা কি দরকার!? কেনো দেশ তো এগিয়েছে,নারীরা কেনো পিছিয়ে থাকবে?যদি এত বড় জাতির নিরাপত্তাই না দিতে পারে তবে কি করে দেশ আগালো?
মুখে মুখে অনেক কিছুই হয়,কাজের বেলায় ঠ্যাঙা!
আগে নারী জাতির নিরাপত্তা দেক,তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আসুক,কোনো মা-বাবা তার সন্তানকে রাতে বের হতে দিতে ভয় না পাক,মেয়েরা একটু রাত করে কাজের জন্যে বাহিরে থাকলে মানুষের চোখ বড় করে তাকানো বন্ধ হোক,তবেই দেশ এগিয়েছে ভাববো!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



