somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি করে উট তার রূপ হারালো (একটি মঙ্গোলিয়ান উপকথা)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রূপ যৌবন সব হারিয়ে আজ উটের এই অবস্থা
অনেক অনেকদিন আগের কথা সে সময় সারা জগত জুড়ে যত্ত প্রানী ছিল তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে ছিল কিন্ত উট। কারণ তার লেজটি ছিল এক মস্ত গোছা আলা লম্বা ঘন সিল্কের চুলের মত, যা কিনা সামান্য বাতাসেই উড়তে থাকতো আলোর ছটা ছড়িয়ে। আর সেই সাথে ছিল নয়ন জুড়ানো নঁকশা করা বিশাল দুটো শিং যার আগাটুকু ছিল স্বর্নালী।উটের সেই রূপের বর্ননা দিতে গেলে রাশিয়ান উপকথার মত বলতে হয় এ যেন ‘রূপকথাতে বলার নয়, কলম দিয়ে লেখার নয়’। মেজাজ মর্জি আর স্বভাবেও উট বাবাজী ছিল ভারী নরম শরম ।

উট তার নিজের এই অসামান্য রপ সম্পর্কে ভালো করেই জানতো। তাই সারাদিন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানিতে তাঁর ছায়া দেখতো আর গর্বের সাথে অহংকার মিলে বুকটা তার ফুলে উঠতো দশ হাত। সে পথে যার সাথেই দেখা হতো তাকেই তাঁর লম্বা গলাটি বাড়িয়ে বলে উঠতো ,‘শুনে নাও তোমরা সারা পৃথিবী ঢুড়ে বেড়ালেও আমার মত এত সুন্দর লেজ আর শিং আলা রূপসী প্রানী কোথাও পাবে না বলে দিলাম’।
উটের এই সব কথা অহংকারী কথাবার্তা শুনে অন্যান্য প্রানীরা কেউ ছিল ক্ষুদ্ধ, কেউ ছিল বেজার।
মনে হয় এত গর্ব তার না করাই বোধহয় ভালো ছিল।
একদিন উটের ভীষন পানি পিপাসা লাগলো। নদী থেকে পেট ভরে পানি খেয়ে মুখ তুলতেই দেখা হলো মরাল অর্থাৎ এক কাস্পিয়ান লাল হরিন এর সাথে।


কাস্পিয়ান লাল হরিণ
ধুর্ত হরিনটি উটকে দেখে এগিয়ে এসে মিনতির সাথে বল্লো ‘উট ভাই, উট ভাই একটা কথা শুনবে’?
"কি কথা বলো শুনি "? উট জিজ্ঞেস করলো।
হরিণ মাথা নীচু করে করুন গলায় বল্লো,‘ ভাই আজ আমার একটা দাওয়াত আছে, কিন্ত এই শিং ছাড়া মাথায় সেখানে যেতে ভীষন লজ্জা করছে। তুমি যদি তোমার শিং দুটি আমাকে কিছুক্ষনের জন্য ধার দিতে তাহলে আমি হয়তো দাওয়াতে যেতে পারতাম’।
লাল হরিনের কথা শুনে উটের মনটা নরম হয়ে গেল "ওহ এই কথা আচ্ছা নাও, নাও", বলে সাথে সাথে মাথা থেকে শিং দুটো খুলে দিল।

আর কপালের কি ফের, লাল হরিণকে শিং ধার দেয়ার কিছুক্ষন পরেই সেই একই জায়গায় উটের সাথে দেখা হলো এক ঘোড়ার।
'কেমন আছো ঘোড়া মশাই'? উট এ কথা জিজ্ঞেস করতেই ঘোড়া ম্লান গলায় বল্লো আজ তার এক জায়গায় দাওয়াত।কিন্ত এই বিশ্রী লেজ নিয়ে সে কেমন করে যাবে ? উট যদি দয়া করে তাঁর এই অপরূপ সুন্দর লেজটা কিছুক্ষনের জন্য তাকে ধার দেয় তবেই সে দাওয়াতে যেতে পারে।
কি আর করা ঘোড়ার দুঃখের কাহিনী শুনে উট আর থাকতে পারলো না । বদলে নিল তার সেই অপরূপ রেশম কোমল বিশাল লেজটি ঘোড়ার ঝাঁটার কাঠির মত লেজের সাথে।


লেজ দুলিয়ে দুলকি চালে ঘোড়া ছুটছে স্তেপে
এরপর উটের অপেক্ষার পালা হলো শুরু । কিন্ত ধুর্ত লাল হরিণ আর ঘোড়া দুজনেই শিং আর লেজ লাগিয়ে দৌড় দৌড় যাকে বলে এক্কেবারে পগারপাড়। এদিকে উট শুধু নদীতে নেমে পানি খায় আর পথের দিকে চেয়ে থাকে। মিনিটের পর মিনিট, ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয় কিন্ত হরিণ বা ঘোড়া কারো সাক্ষাৎই নেই।তাদের পথের তাকিয়ে থাকতে থাকতে উটের চোখ ব্যাথা করতে লাগলো তাও দেখা নেই তাদের।

লাল হরিণ উটকে ধোকা দিয়ে সোজা রুশ দেশের বরফের রাজ্য তাইগায় গিয়ে হাজির।আর তারপর থেকে সেখানেই শুরু করলো বসবাস। খোলা সেই স্তেপের প্রান্তরে যেখানে উট থাকতো সেখানে লাল হরিণ আর জীবনে কখনোই আসলো না। আর সবার কাছে ভাব দেখাতে লাগলো শিং গুলো যেন সব সময় তারই ছিল।
এদিকে ঘোড়াও উটের লেজ ফেরত দেয়ার নামটিও করে না। একবার আচমকা দেখা হয়েছিল উটের সাথে আর তাকে দেখেই অনেক অনেক দূরে দৌড়ে পালিয়ে গেল ঘোড়া বাবাজী। এ ভাবেই বোকা উট অহংকার আর সরল বিশ্বাসের কারনে খুইয়ে ফেল্লো তার অপরূপ লেজ আর শিং দুটো আর সেই সাথে তার ন্ম্র স্বভাবটিও।

এর পর থেকেই পথ চলা শুরু হলো ঝাঁটার কাঠির মত এত্তটুকুন লেজ আর শিং ছাড়া ন্যাড়া বেল মাথাটি নিয়ে জগতের সবচেয়ে বদমেজাজী প্রানী উটের বাকিটা জীবন।

আমার কথাটি ফুড়োলো
নটে গাছটি মুড়ালো


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৪১
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×