somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক যে ছিল ছেয়ে খরগোশ আর এক ছিল হোৎকা কুমীর (থাইল্যন্ডের উপকথা )

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পবিত্র ঈদ উপলক্ষে পোষ্টটি উপহার হিসেবে উৎসর্গ করা হলো সামহ্যোয়ার ইন ব্লগের আমার সব সহ-ব্লগারদের ছোট ছোট বাবু, ছোট ভাই- বোন আর কারো বা রয়েছে নাতি নাত্নী তাদের সবাইকে :) সবাইকে জানাই ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।

সে অনেক অনেক দিন আগের কথা, যখন আমরা কেউ জন্মই হইনি, এমন কি আমাদের আব্বু আম্মুরাও না। ঠিক সে সময় একদিন ঘোর লাগা দুপুর বেলায় না ঘুমিয়ে এক দুষ্টু ছেয়ে খরগোশ নদীর তীরে ঘাসের মাঝে ছুটোছুটি করে খেলছিল। খেলতে খেলতে এক সময় তার ভীষন পানি পিপাসা পেলো।এদিকে পাশেই কাক চক্ষু জল নিয়ে ছোট নদীটি কুলকুল করে বয়েই চলেছে । সেদিকে তাকিয়ে ক্লান্ত খরগোশ ভাবলো
‘যাক বাপু এখানে বসেই একটু পানি খেয়ে নেই’।

কোনদিকে না তাকিয়ে এক্কেবারে নদী্র কিনারে এসে লেজটাকে ভালো করে গুটিয়ে নিয়ে উপুর হয়ে বসলো, তারপর পানির মাঝে মুখ লাগিয়ে চুক চুক করে নিশ্চিন্তে পানি পান করতে লাগলো। কিন্ত কপালমন্দ বেচারা খরগোশের। ঠিক সে সময় নদীতে ভেসে ভেসে কোথা থেকে কেমন করে জানি এক হোৎকা কুমির এসে হাজির । মুটুসুটু গাপ্পু গুপ্পু খরগোশকে দেখেই তো তার জিভ দিয়ে একেবারে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো, যেমন রসগোল্লা দেখলে তোমাদের হয় আর কি।

তাড়াতাড়ি ঢোক গিলে জিভের পানি সামলে সুমলে কোন সাড়া শব্দ না করে চুপি চুপি সাতরে তীরের কাছে এসে হাজির। তারপর সেই পাজী কুমির একবারে গপ করে ছোট্ট খরগোশকে মুখে পুরে ফেল্লো । খরগোশ বাবাজীকে সোৎ করে একটানে মুখে পুরলেও কিন্ত সাথে সাথে পেটে চালান করলোনা কুমির। মনে মনে ভাবলো এখন ওকে কিছুক্ষন মুখের ভেতর রেখে দেই যেমন করে তোমরা চকলেট রাখো ঠিক তেমন করে। তারপর নাহয় আস্তে ধীরে রসিয়ে রসিয়ে খাওয়া যাবে ।

যে সময়ের কথা তোমাদের বলছি সেসময় খরগোসের কিন্ত এখনকার মত এমন ছোট্ট একটুখানি লেজ ছিল না। তার লেজটি ছিল মস্ত লম্বা সুন্দর আর গোছাওয়ালা এক্কেবারে কাঠবেড়ালীর লেজের মত। আর কুমিরেরও ছিল তখন ইয়া বড় মস্ত এক জিভ যা এই দুনিয়ার আর কোন প্রানীরই ছিল না।

কুমির ভাবলো গিলে ফেলার আগে বেচারা খরগোশটিকে আচ্ছামত একটু ভয় দেখিয়ে নেই। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। খরগোশকে ভয় দেখানোর জন্য কুমির মুখটা বন্ধ করেই এমন এক বিকট আওয়াজ করলো। যা শুনে খরগোশ বেচারা ভয়ের চোটে কুমিরের মুখের ভেতরেই অজ্ঞান হয়ে পরার অবস্থা। কিন্ত বাঁচতে হলে তো ভয় পেলে চলবে না তাই খরগোশটা এবার ভাব দেখালো যেন সে একটুও ভয় পায়নি। উলটো সে জোরে চিৎকার করে কুমিরকে ডেকে বল্লো,

‘ওহে কুমির মশাই তুমি তো আমার চেয়ে মস্ত বড়, কিন্ত তাতে কি? আমি তোমাকে একটুও ভয় পাই না বুঝলে। তুমি যদি মুখ খুলে হাঁ করে আরো জোরে একটা আওয়াজ করতে তাহলে হয়তো আমি ভয় পেতাম’।

খরগোশের চালাকি একটুও বুঝতে পারলোনা বোকা কুমির। খরগোশের কথায় তার সাংঘাতিক রাগ হলো । রাগে গজ গজ করতে করতে এবার কুমির তার মুখটা পুরো হা করে খুলে বিশাল এক শব্দ করে উঠলো।

যেই না কুমির হা করলো অমনি খরগোশ তার মুখ থেকে বেরিয়ে নদীর তীর বরাবর দিল এক বিরাট লাফ । আর সেই লাফ দেয়ার সাথে সাথে কি হোলো জানো ? তাহলে বলি শোনো খরগোশের পা তো দেখেছো তোমরা তাই না ? তাদের পায়ের আঙ্গুলে ছোট ছোট নখ থাকলে কি হবে সেগুলো যে কি ধার কি ধার তা আর বলার নয় । তা খরগোশতো লাফ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলো কিন্ত তার সেই ধারালো নখ লেগে গেল কিনা কুমিরের লম্বা জিভের ঠিক মধ্যিখানে । আর সাথে সাথে কাটা জিভটা ঝপ করে গিয়ে পড়লো এক্কেবারে পানিতে।

ব্যথার চোটে কুমিরতো চোখে মুখে সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করলো আর সেই সাথে তার মুখটাও খটাস করে বন্ধ করে ফেল্লো। এদিকে খরগোশের শরীর বাইরে বেড়িয়ে আসলে কি হবে ? তার মস্ত গোছাওয়ালা লেজটা তো তখনো কুমিরের মুখের ভেতর। সেই ইয়া বড় বড় অনেক ধারালো দাতওয়ালা মুখটা বন্ধ করার সাথে সাথেই খরগোশের পুরো লেজটাও কেটে রয়ে গেল সেই হোৎকা পেটুক কুমিরের মুখের ভেতর।

আর এ ভাবেই তারা দুজন তাদের সেই লম্বা জিভ আর লম্বা লেজ হারিয়ে ফেল্লো সারা জীবনের মত। খরগোশের হলো এখন একটুখানি পুঁচকে লেজ আর কুমিরেরও হলো অন্য জীব জন্তর মত সাধারন আকারের এক জিভ।

সেদিনের পর থেকে খরগোশরা পানি পিপাসায় মরে গেলেও কুমিরের ভয়ে নদী বা কোন খাল বিলের ধারে কাছে যাবার নামটিও মুখে আনেনা। পিপাসায় ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুই এখন তাদের ভরসা।

আমার কথাটি ফুরলো
নটে গাছটি মুড়লো ।

অনুবাদ: জুন
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:২২
৭১টি মন্তব্য ৭০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৮

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া সূর্যোদয়ের ছবিটি এআই দ্বারা উন্নত করা হয়েছে।

ইসলামের পবিত্র আলো ওদের চোখে যেন চিরন্তন গাত্রদাহের কারণ। এই মাটি আর মানুষের উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের হঠাৎ ‘জামায়াত-বিরোধী’ উচ্চারণ: রাজনীতির মাঠে নতুন সংকেত, নাকি পুরোনো সমস্যার মুখোশ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:২৯

তারেক রহমানের হঠাৎ ‘জামায়াত-বিরোধী’ উচ্চারণ: রাজনীতির মাঠে নতুন সংকেত, নাকি পুরোনো সমস্যার মুখোশ?

বিএনপি রাজনীতিতে এক অদ্ভুত মোড়—অনেক বছর পর হঠাৎ করেই তারেক রহমান সরাসরি জামায়াতকে ঘিরে কিছু সমালোচনামূলক কথা বললেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগামী নির্বাচনে বিএনপি কি ২৭৮ আসন পেতে যাচ্ছে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:১০



একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পেতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে একদলের সর্বোচ্চ প্রাপ্ত আসন ২৭৮ টি। এটি বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় সংসদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এডমিন সাহেব আমাকে নিয়ে অনেক বক্তব্য দিতেন এক সময়।

লিখেছেন জেন একাত্তর, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৯



আমার "চাঁদগাজী" নিকটাকে উনি কি জন্য ব্যান করেছিলেন, সেটা উনি জানেন; আসল ব্যাপার কখনো আমি বুঝতে পারিনি; আমার ধারণা, তিনি হয়তো নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকতেন; মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁয়াজ ছাড়া রান্নার পরামর্শ এখন আর কেউ দেয় না !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৪৫


ছোটবেলায় আব্বার সাথে বাজারে যাওয়াটা আমার কাছে একটা অদ্ভুত খেলা ছিল। দোকানদার ক্যালকুলেটর হাতে নেওয়ার আগেই আমি মুখে মুখে হিসাব কষে ফেলতাম। পাঁচশো টাকা দিলে কত ফেরত আসবে, তিনশো আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×