চড়কে, চৈত্রের শেষদিনে জল কমে যাওয়া
নতুন পুকুরের দক্ষিণ-পশ্চিম কিনারে
সন্ধ্যায় কার্তিক প্রোফাইলধারী দরিদ্র মৎস্যজীবী রেজো মণ্ডল
মাটির কুমির গড়তেন মমতায়
পাকাখেজুরগ্রন্থিত তার পিঠ, হলুদ
কুমির পুজো শেষে চড়ক,
ত্রিকোণ মন্দিরের মাঠে চড়কের ঝাঁপ
গান, আনন্দ, মিছিল আর তিনতলা আকাশ থেকে
দড়ির জালে ধারালো ছুরির উপর ঝাঁপ,
জনদেশভাষায় পাটাসভাঙা।
কথকতা এই, বছরধরে সমাজকিনারে বাস করেও
অচ্ছুত রেজো মণ্ডলই প্রধান সামাজিক উৎসবে প্রধান ব্যক্তি, একদিন ।
রেজো মণ্ডলের প্রাণদেহ হাসি মিশিয়ে বলতো,
দেখো হে সমাজ, আমিই শিব-আমিই প্রধান।
প্রান্তজন বছরের অধস্তনতার দৈন্য মুছে প্রকৃতি-প্রাণকে জানান দিতেন,
তিনি আজ মাণ্ডলিক, একদিনের।
সমাজঅন্তজ কালি কাহার, পাল্কিশ্রমিক কালিদা ঢাক বাজাতেন মগ্নতায়।
লালসালুর চাদরঢাকা ঢাকের প্রতিটি স্ট্রোক নেচে নেচে জানান দিতো সমাজোৎসবের ছন্দ ও আনন্দ তাঁদেরই চিন্তা ও শরীরছন্দে।
দড়ির জাল, ছুরি ও আনন্দের স্ট্রোকগুলি একটি চমৎকার সমাজসঙ্গ হয়ে ওঠে নিমেষে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


