somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মালয়েশিয়া বো'লে ! ...... ৪

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

http://www.malaysia-maps.com/

নতুন মন্ত্র- ওয়ান মালয়েশিয়া

মালয় আর শিয়া মিলে মালয়েশিয়া অর্থাৎ মালয়ীদের আবাস। জানালেন আমাদের কোর্সের তরুন কর্মকর্তা, মালয়েশীয় জাতীয় যুব ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মো: আমিন আমিরুল জামান। তবে সাথে সাথে বললেন বিষয়টি স্পর্শ কাতর। কারণ মালয়েশিয়া সবার জন্য সমান সুযোগে বিশ্বাসী। তাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার ভাবনা ''ওয়ান মালয়েশিয়া''। মালয়েশিয়ার অটুট ঐক্যের নতুন মন্ত্র সবার অন্তরে গেঁথে দেবার চেষ্টা করছে সরকার। সংখ্যাগুরু মালয়ী, সংখ্যা লঘু চীনা, ভারতীয়, বা আদিবাসী ( সাবা ও সারাওয়াকে ৬০টি আদিবাসী নৃ গোষ্ঠী বাস করে) সবাই নিজেদের মালয়েশীয় পরিচয় দিতে ভালোবাসে। যদিও চীনা বা ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে নিজ ভাষা (চীনা বা তামিল বা তেলেগু বা গুজরাটী) ব্যবহার করে।

এক নজরে মালয়েশিয়া

কুয়ালা লামপুরের সাথে মালয়েশিয়ার ইতিহাসের একটু আমেজ ছিলো। এখানে আরেকটু জুড়ে দিই। এমনিতে মালয়েশিয়ার ইতিহাস খুব প্রাচীন না হলেও প্রস্তর যুগের দেহাবশেষ প্রাপ্তির ফলে আদি নৃ-গোষ্ঠীর মালয়েশিয়া আগমনের খবর জানান দিচ্ছে। সাধারনভাবে সিঙ্গাপুরের মতোই চীনা আর ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মিলন কেন্দ্র হিসাবে মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিহিত। ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে আসে পর্তুগীজরা। এর পর আসে ওলন্দাজ আর ইংরেজ। লক্ষ্য ছিলো মসলা, সিল্ক আর রূপার ব্যবসা।

১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৬৩ সালে গঠিত ''ফেডারেশন অব মালয়শিয়া''-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলো পেনিনসুলার মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বোর্নিও দ্বীপের দু'টি স্টেট সাবাহ ও সারাওয়াক। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর ফেডারেশন থেকে বের হয়ে পৃথক রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর বোর্নিও দ্বীপটি গঠিত হয়েছে মালয়েশিয়ান ফেডারেশনভুক্ত সাবাহ, সারাওয়াক, ব্রুনাই (পৃথক রাষ্ট্র) আর ইন্দোনেশীয় স্টেট কালিমান্তান (৪টি প্রদেশ) নিয়ে। বোর্নিও পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর ৭৩% ইন্দোনেশিয়ায়, ২৬% সাবাহ ও সারাওয়াক বাকী ১% ব্রুনাই-এর অন্তর্গত।

১৯৬৭ সালে গঠিত অর্থনৈতিক জোট ''আসিয়ান''-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মালয়েশিয়া।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, সিঙ্গাপুর আর সাগরবেস্টিত দেশ মালয়েশিয়া। বিষুব রেখার উত্তরে ২ ডিগ্রী থেকে ৭ ডিগ্রীর মধ্যে এর অবস্থান।

আয়তন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৮ বর্গকিলোমিটার। (বাংলাদেশের দ্বিগুনের বেশি।

লোক সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ প্রায়। ( বাংলাদেশের ৫ ভাগের ১ ভাগ)

ভাষা- মালয়ী ( Bahasa Melayu)। ইংরেজির ব্যবহার ব্যবসা বাণিজ্যে আছে। মালয়েশীয় চীনা বা মালয়েশীয় ভারতীয় বা আদিবাসীরা নিজেদের ভাষাও ব্যবহার করেন। জনসংখ্যার ৫৭% মালয়ী।

ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য নিদর্শন মালয়েশিয়া। ইসলাম official religion. কিন্তু ধর্মীয় বৈচিত্র্য বিদ্যমান। মুসলিম ছাড়াও আছে বৌদ্ধ, তাওবাদী, কনফুসীয়, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান। আদীবাসীরা তাদের আদি ধর্ম (Animist religion) পালন করে।

মালয়েশিয়া মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। সারা বছরই তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রী থেকে ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। উঁচু স্থানগুলোতে একটু ঠান্ডা থাকে ( ১৫ ডিগ্রী সে.)। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মিলিমিটার।

মালয়েশিয়া এখনো ঘনবনে ছাওয়া। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রসারিত পাহাড়রাজি পেনিনসুলার মালয়েশিয়াকে পূর্ব আর পশ্চিম এই দুইভাগে ভাগ করে ফেলেছে। বলা হয় মালয়েশিয়ার বনাঞ্চল বিশ্বের প্রাচীনতম। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল। উপকূলীয় সমতল আর পশ্চিমের পাহাড়ী অঞ্চলে রাবার চাষ হয়। মালয়েশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম রাবার উৎপাদনকারী দেশ। পাহাড়ে পাহাড়ে চাষ হচ্ছে পাম। বৈচিত্র্যময় বিশাল বনে আছে সাড়ে আট হাজার প্রজাতির ফুল-গাছ (flowering plants) আর আড়াই হাজার প্রজাতির বৃক্ষ।

সেখানে আছে ৪৫০ প্রজাতির স্থানীয় পাখি। পরিযায়ী পাখির ব্যাপক আনাগোনও আছে সেখানে। বোর্নিও দ্বীপে এখনো টিকে আছে কিছু ওরাংওটাং (বন-মানুষ)। আফ্রিকার বাইরে বিশ্বের একমাত্র এখানেই আছে ওরা। এছাড়া আছে গন্ডার, ভাল্লুক, চিতা বাঘ, প্যান্থার (কালো বাঘ), হাতি, বানর আর কুমীর। বোর্নিওতে আছে ১৬০ প্রজাতির সাপ।

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান কাঠ রপ্তানীকারক দেশ।

বেশ কম দামে দারুন সব ফার্নিচার বানাবার জন্য মালয়েশিয়া আদর্শ স্থান।

(চলবে)
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:৩১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮


গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?

মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?

শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৯



বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬


ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×