somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদা হাতীর দেশে -৫

০৮ ই মে, ২০১২ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বান মাকং বস্তির বর্তমান চেহারা

আগের পর্ব-
Click This Link

জ্ঞান পর্ব

যে উদ্দেশ্যে গেলাম সেই জ্ঞান অর্জন পর্ব শুরু হলো আমাদের এলাকা থেকে পাচার হওয়া জ্ঞান দিয়ে। সেটা হচ্ছে নগর দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থিক উন্নয়ন দিয়ে। সোজা বাংলায় বস্তি উন্নয়ন। বাংলাদেশ এসব উন্নয়ন তত্ত্বের সূতিকাগার।

যাই হোক থাই প্রসঙ্গে আসি। তারা ১৯৯২ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে আরবান কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিস (ইউসিডিও) স্থাপন করে। ২০০০ সালে এসে ইউসিডিও আর আরবান ডেভেলপমেন্ট ফাণ্ড-কে এক করে স্থাপন করে কমিউনিটি অর্গানাইজেশন ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (কোডি) স্থাপন করে। এখনো এটাই চলছে। কোডির প্রাথমিক ফাণ্ডের পরিমান প্রায় ২৯০০ মিলিয়ন বাথ। এটি সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারী সংগঠন। এটি একটি বোর্ড অব ডাইরেক্টর দ্বারা পরিচালিত। এতে সদস্য হিসাবে আছেন সরকারের প্রতিনিধি চার জন, বস্তিবাসীদের নেতা (কমিউনিটি লিডার) তিন জন আর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ২ জন মোট নয় জন। মূল কমিটির বাইরে দুটি উপ-কমিটি আছে। একটি ইস্যু ভিত্তিক উন্নয়ন আরেকটি কমিউনিটি অর্গানাইজেন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে। হেড অফিস ছাড়াও অঅছে ১১টি আঞ্চলিক অফিস। সেখানে আছে আঞ্চলিক কমিটি। মাঠ পর্যায় পর্যন্ত সেখানে কাজ চলে।

কোডি মূলত: কমিউটিনি পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা, আর্থিক সহযোগিতা করা, সরকার ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় আর আন্ত-সংগঠন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। কোডি মূলত: সহযোগিতামূলক কাজ করে।

এদের একটি প্রকল্প হলো ব্যাংককের কাছাকাছি 'বান মাকং' বস্তির উন্নয়ন। একটি খালের দুইপাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বস্তি। সেটা পরিদর্শন করেছি আমরা। পুরোটা বা আংশিক খালের ওপর ঘর বানিয়ে থাকতো বস্তির লোকজন। এরা খালের পারে ডুপ্লেক্স ভবন করে থাকার ব্যবস্থা করেছে। কিছু বস্তিবাসীর টাকা আর কিছু সরকারী ভর্তুকী। এরজন্য জমি নেয়ার বিষয়ে কোডি সহযোগিতা করেছে, এর একটি বিশাল অংশ খাস জমি। সেটার ব্যবস্থা করেছে সরকারের সাথে দেনদরবার করে।

এমনিতে এই পরিবর্তনের ফলে বস্তির চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু খালটির পানি আমাদের বস্তির লাগোয়া খালের মতোই দুর্গন্ধময় আর নোংরা।


এক বস্তিবাসী !

এলাকায় ঢুকেই বোঝা গেলো সত্যি সত্যি বস্তিতেই এসেছি। হোক না সেটা অতিদ্রুত উন্নয়নশীল থাইল্যাণ্ডে। পাড়া ঘুরে নেয়া হলো বস্তিবাসীদের সমিতির অফিসে। যাবার পথে দেখলাম আমাদের বস্তির মতো সেখানেও টিভি আছে। সেই টিভি দেখার জন্য নিজেরা কিনে ডিশ লাগিয়েছে। বুঝলাম বাংলাদেশের কোয়াবের মতো ওখানে 'টোয়াব' বা 'কোয়াট' টাইপের কিছু নেই।


দেখে মনে হয় ভালোই আছেন

সমিতির সভাপতি আর সেক্রেটারী আমাদের ব্রীফ করলেন থাই ভাষায়। আমাদের সফরসঙ্গী শালিনী চুপচাপ ছিলেন। দোভাষীর কাজ করেছেন ওয়ান আর সুফিয়ান। সমিতির সভাপতি মাঝবয়সী। থাই সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। সাধারণ সম্পাদক একটু বয়সী লোক। ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িত।
তারা জানালেন, কিভাবে তাদের সংগঠন চলে। কি কি কাজ করেন। বিশেষভাবে যে টা বলেছেন, বস্তির বাচ্চাদের জন্য তারা স্কুল চালান। স্কুলে পড়া ও খাওয়া ফ্রি। এতিম বাচ্চাদের সব দেখাশোনা তারা করেন। যাদের বাবা মা কাজের জন্য বাইরে থাকেন তাদের সবরকম দেখাশোনা করে সমিতি।

এরপর আমাদের কাছে কিছু পণ্য উপস্থাপন করা হলো যেগুলো সমিতিরি সদস্যরা তৈরী করেছেন আয়বর্ধক কাজের অংশ হিসাবে। শালিনী একটা জামা কিনে আমাদের বললেন, আপনারা সবাই কিনুন এদের সাহায্য করার জন্য। আমাদের কেউ কেউ কিনলেন।


সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক

আবার বের হলাম। বস্তির আরেক অংশ ঘুরে দেখে হোটেলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। যেটা এখনো ভুলতে পারিনি সেটা বস্তির ট্রেড-মার্ক গন্ধ। আর সত্যিসত্যি তাদের আর্থিক অবস্থার যে ভালো উন্নতি হয়েছে সেটাও সবিনয়ে স্বীকার করতেই হবে।

(চলবে)





সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১২ দুপুর ২:৪৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×