somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম নিষিদ্ধ হলো রুয়াণ্ডায় !

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি পূর্ব আফ্রিকান দেশ রুয়াণ্ডার সরকার ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমসহ এ জাতীয় সব প্রসাধনী সামগ্রী নিষিদ্ধ করেছে। আল জাজিরার বরাতে বাংলাদেশের কিছু পত্রিকায় সংবাদটি ছাপা হয়েছে। রুয়াণ্ডা সরকার কেন এ কাজটি করেছে তার কোন ব্যাখ্যা সে সংবাদে নেই। মজার বিষয় হলো রুয়াণ্ডা সরকারের এ কাজটিকে সমালোচনা করা হয়েছে কায়দা করে। সংবাদে বলা হয়েছে এর ফলে রুয়াণ্ডার নারীরা মাননিয়ন্ত্রণহীন ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনী ব্যবহার করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। আমাদের কাগজে একধাপ এগিয়ে লেখা হয়েছে রুয়াণ্ডার নারীরা নাকি এর ফলে বিপাকে পড়েছে। তার আগে সেখানে এ সব পন্য ব্যবহারের পক্ষে নিজ দায়িত্বে কিছু যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে (বাংলাদেশ প্রতিদিন দ্রঃ)। ত্বক ফর্সা করার যে বর্ণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী রোগ ছড়ানো হচ্ছে সাবেক উপনিবেশগুলোতে আমরাও যে তার শিকার সেটা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ইউরিলিভারের বর্ণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী ব্যবসার সমালোচনা করে আমি সামুতে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। রুয়াণ্ডার এই খবর দেখে সেই পোস্টের কথা মনে পড়ে গেলো।
সেটা এখানে তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না-
ইউনিলিভারের বর্ণবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ
ইউনিলিভার বহু বছর ধরে মেয়েদের ত্বক ফর্সা করার নানা রকমের কসমেটিকস বিক্রি করে প্রতারণা করে চলেছে। সম্প্রতি শুরু করেছে ছেলেদের ত্বক ফর্সা করার চালিয়াতি। স্পষ্টত:ই এসব বর্ণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী ধারণা। কারণ কোন বিশেষ গাত্রবর্ণ অন্য গাত্রবর্ণ থেকে উন্নত বা শ্রেয় হতে পারে না। সাদা চামড়ার পশ্চিমারা অত্যন্ত অন্যায়ভাবে বিভিন্ন দেশ দখল করে উপনিবেশ স্থাপন করে। মানবতার বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড়ো কোন অপরাধ আর সংঘটিত হয় নি।

ইউনিলিভার সরাসরি বিতাড়িত সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসা করে চলেছে। তাদের প্রতারণার সব চেয়ে বড়ো মাধ্যম বিজ্ঞাপন।

প্রতারণার কয়েকটি নজির দেয়া যাক-

ক) কোন কেমিক্যাল দিয়ে ত্বক ফর্সা করা যায় না।

খ)ত্বক ফর্সা হলেই সব দক্ষতা আপনা আপনি চলে আসে না। দক্ষতা অর্জন করতে হয়। যেমন একটা বিজ্ঞাপনে বলা হয়, সুন্দর মুখ আর একটু এক্সপ্রেশন বাস বাজিমাত। সে-ই কালো নায়িকা বলে নাটকে দর্শক হচ্ছিলো না। এখন তারকা , সবাই আঙুলের ইশায়ায় তার পিছু পিছু ছুটছে থিয়েটারের ভেতর। (বিশেষ কোন চতুষ্পদী প্রাণীর মতো ?) অভিনয়কলা শুধু প্রাচ্যে নয় ইউনিলিভারের পাশ্চাত্যেও বহু সাধনার বিষয়। রঙের নাম করে সে সাধনাকে অপমান করা হয়েছে।

গ) বিশেষ ধরনের পোষাক ( পাশ্চাত্যের) পরাকে সফলতার পূর্বশর্ত বলে তুলে ধরা হচ্ছে।

ঘ) ফর্সা হলেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় না। ভাবখানা এমন, চেহারার ফর্সা ভাব দেখেই ইন্টারভিউ বোর্ডের কর্তারা আত্মবিশ্বাস আবিষ্কার করে ফেলে।

ঙ) এতোদিন ফেয়ারনেস বিক্রি করে এখন বলছে শুধু ফেয়ারনেসই যথেষ্ট নয়। তার মানে নতুন পন্য গছানোর নতুন ফাঁদ।

এইসব প্রতারণার সাথে আঘাত করতে শুরু করেছে সংস্কৃতি আর মূল্যবোধের ওপরও। আশির দশক পর্যন্ত ইউনিলিভারের বিজ্ঞাপনে মডেল থাকতো আমাদের তারকারা। ধীরে ধীরে আমাদের তারকাদের বাদ দিয়ে বাইরের সাদা চামড়ার তারকাদের দিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। এর ভেতর দিয়ে আমাদের তারকা হবার যোগ্যতাকেও খাটো করা হলো। তাদের মাপে আমাদের তারকারা বড়ো তারকা বা আন্তর্জাতিক মানের তারকা হবার যোগ্য নয়।

আগে বিদেশী তারকার বিজ্ঞাপনে বাংলা ডাবিং থাকতো। এখন বাংলাকেও বিসর্জন দিয়ে সোজা ইংরেজীতে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়েছে। আমার ভাষাকেও ব্রাত্য করে ফেলা হচ্ছে। অথচ এই ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে সেই পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির টিকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মধ্যেই নিহিত আমাদের অনেক রক্তে পাওয়া স্বাধীনতার সার্থকতা।

ইউনিলিভার বিজ্ঞাপন আর বানিজ্যের ভেতর দিয়ে আমাদের স্বাধীনতাকে পরিহাসে পরিণত করার চেষ্টা করে চলেছে। ইউনিলিভার ব্যবসা করুক আপত্তি নেই। কিন্তু ব্যবসার ভেতর দিয়ে অগোচরে তিলে তিলে একটি জাতির মর্যাদাবোধকে নষ্ট করে আবার নব্য সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তি তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে ব্যবসার ছল ধরেই।

পুনশ্চ: আগে নাম ছিলো লিভার ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এখন ইউনিলিভার নাম দিয়ে একত্রিত করা হয়েছে। এটাও একটা বড়ো সঙ্কেত।


আফ্রিকার দেশগুলোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার বলে কিছু আছে মর্মে আফ্রিকার ঘোর শত্রুরাও সে অপবাদ দেবে না। সাম্রাজ্যবাদের ক্যান্সার আফ্রিকাতে ভয়াবহরূপেই রয়ে গেছে। কারণ সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকাতে তাদের লুণ্ঠন এখনো জারি রেখেছে। সে জন্য তাদের শিখণ্ডীরাই ক্ষমতায় বসে মানবতার ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে। রুয়াণ্ডাও সেই ঝাঁকেরই ছোট্ট একটা কই। রুয়াণ্ডার একনায়কত্ববাদী সরকার হঠাৎ কেন এমন একটা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী পদক্ষেপ কেমন করে নিলো সেটাই মহাবিস্ময়ের !

আমি এ নিয়ে একটি মিনিপ্যাক গল্পও পোস্ট করেছিলাম।
(বি.দ্র.-প্রাসঙ্গিক লিঙ্ক কমেন্টে দিলাম)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২৯
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×