somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিসৌধের স্থপতির জন্য দোয়া কামনা

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল সাড়ে 6টা। চারপাশে কুয়াশার হালকা চাদর। এর মধ্যেই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বেদির পশ্চিম পাশটায় এসে নীরবে দাঁড়ালেন তিনি। নিভৃতচারী মানুষ। কম কথা বলেন। কিন্তু চোখ দুটিতে অসম্ভ্ভব দু্যতি খেলা করছিল। বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল সৌধের সুউচ্চ চূড়ায়। বিউগলে তখন করুণ সুর বাজছে। ধীরে ধীরে পতাকা উঠছে। আর শান্তসৌম্য মানুষটি অপলক চোখে দেখছেন তারই অমর কীর্তি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃৃতিসৌধ'। এই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্র্রীয় নিমন্ত্রণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন বরেণ্য স্থ্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। উদ্বোধনের পর কোনো সরকারই সৌধ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করেনি তাকে। ডাক পাননি সৌধটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও। কিন্তু যখনই ইচ্ছা হয়েছে, তিনি এসেছেন। একা একা ঘুরেছেন। সর্বশেষ এসেছিলেন গত বছরের 26 মার্চ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানো শেষে ফিরে গিয়েছেন তড়িঘড়ি।
তিনি বলেন, '52 থেকে '71 সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংখ্যা 7-এর একটি মিলও রেখেছি আমি। যেমন '52-এর ভাষা আন্দোলন_ 5 আর 2 মিলে 7, বীরশ্রেষ্ঠ 7 জন, 16 ডিসেম্ব্বরের 1 আর 6 মিলে 7, 25 মার্চের 2 আর 5 মিলে 7, আর সবশেষে '71-এর 7। অর্থাৎ স্ব্বাধীনতা যুদ্ধ।
আজকের প্রোপটে স্বাধীনতা যুদ্ধ, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসঙ্গে তিনি খুব অল্প কথায় বললেন, দেশটা এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। উন্নতি হয়েছে। এসব কথা বলা মুশকিল। আগে যা দেখেছেন, তা থেকে সব বড় হয়ে গেছে, সরে গেছে, শহর বেড়েছে। তবে একাত্তরের চেতনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দীর্ঘ 8-9 বছর ধরে প্রচণ্ড অসুস্থতার কারণে বাড়িতেই কাটিয়েছেন এই বরেণ্য স্থপতি। কথা বলতেন না। কাউকে ঠিকমতো চিনতেনও না। কেউ ডাকলে চমকে উঠতেন। তবে ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। শনিবার সঙ্গে আসা তিন বন্ধুর একজন মুক্তিযোদ্ধা এম আবদুল আজিজ কাতরস্ব্বরে বললেন, ওর জন্য দোয়া করবেন আপনারা। যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। যেন আরো অনেক কিছু দিতে পারে এই জাতিকে।
তথ্য সুত্র: সমকাল
স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল ইসলাম 16 ডিসেম্বর এসেছিলেন স্মৃতিসৌধ দেখতে। কেমন আছে তার মুক্তিযুদ্ধের স্মারকটি। কিন্তু তিনি অসুস্থ। হয়তো অনেকের মতো তিনিও হারিয়ে যাবেন আমাদের মাঝ থেকে। কিন্তু জাতি তার কাছ থেকে আরো কিছু আশা করে। আসুন আমরা তার জন্য দোয়া করি। তিনি দীর্ঘজীবি হন।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য প্লান (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪

ষাট বছরের মাজেদা গত দুই সপ্তাহ ধরে শুধু প্লান করেছে, সে তার একমাত্র নাতিটাকে দেখতে যাবে। মেয়ে-জামাই বাড়ি বলে কথা! খালি হাতে কি যাওয়া যায়? তার ওপর তার সাত বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৫০

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯



একটি সাইকেলের জন্য কন্যা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে।


ক্লাস ওয়ানে উঠলে তাকে বাই সাইকেল কিনে দেবো বলেছিলাম।

তো একদিন গেলাম, দেখলাম কিন্তু কিনলাম না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আখিরাত ঠিক করার পাশাপাশি দুনিয়ার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৮


জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পার হয়েছে। দেশের মানুষ একটু দম ফেলছে , চায়ের আড্ডায় যখন ভোটের উত্তাপ ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই খবর এলো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×