somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান নাই। মানুষ না পারতে এই খাবার খায়। অবশ্য ক্ষুধার্ত পেট ভালো মন্দ বিচার করে না। সামনে যা পায় তাই খায়। জেলখানার মানহীন খাবার কয়েদিরা খেয়ে নেয়। না খেয়ে তো অন্য কোনো উপায় নেই। জেলে খাবার কোনো বাবুর্চি রান্না করে না। কয়েদিরা'ই রান্না করে। রান্নার কাজে যারা সাহায্য করে তারা খাবার কিছুটা বেশি পায়। জেলে নাপিতও একজন কয়েদি। টাকা থাকলে জেলে গাজাও পাওয়া যায়। এমনকি বাড়ির মানুষের সাথে মোবাইলে কথাও বলা যায়।

আমাকে বেশ কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছে।
বিনা অপরাধেই জেলে যেতে হয়েছে। জেলখানায় যারা আছে, তাদের অনেক কষ্ট! থাকার কষ্ট, খাওয়ার কষ্ট। আমি প্রথম বার যখন জেলখানায় যাই, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আসরের নামাজের পরেই আমাদের সেলে যেতে হয়। এটাই নিয়ম। সেলে কোনো জানালা নেই। একটা ময়লা সস্তার কম্বল। বাজে গন্ধ। জেলের প্রথম রাত টা ভয়াবহ! তারপর এক সময় সহে যায়। অভ্যাস হয়ে যায়। আমি যতবার জেলে গিয়েছি, The Shawshank Redemption মুভিটির কথা মনে পড়েছে। দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন আমার খুবই পছন্দের ছবি। এই মুভিটার খোজ আমাকে দিয়েছিলো নীলা। নীলা ছিলো আমার প্রেমিকা। নীলার সাথে আমার বিয়ে হয়নি। নীলা আমাকে বিয়ে না করে ভালোই করেছে। এখন নিশ্চয়ই সে আমেরিকাতে ভালো আছে। সে ভালো থাকলে আমার ভালো লাগবে।

আমার জীবনে আমি প্রথম জেলে যাই ফরিদপুর।
মাদ্রাসা থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। প্রথম রাত কাটে বোয়ালমারী থানায়। পরের দিন কোর্ট থেকে আমাকে কারাগারে পাঠায়। কি কষ্ট! কি কষ্ট! সবচেয়ে বেশি কষ্ট থাকা এবং খাওয়ার। প্রিয় জন থেকে দূরে থাকার কষ্টও কম নয়। ফরিদপুর কারাগারে প্রথম রাতে আমার খাবার জুটে নি। পরের দিন সকালে রুটি আর ভাজি দিয়েছিল। সেই রুটি ভাজি অতি অখাদ্য। গলা দিয়ে নামে না। এক মাস তের দিন ছিলাম ফরিদপুর কারাগারে। জেলে আমি সবচেয়ে অভাব অনুভব করেছি, আমার প্রিয় মানুষদের। অথচ কেউ আমাকে জেলে দেখতে যায়নি। কোনো বন্ধুও না। মুনা নামের প্রায় অপরিচিত একটা মেয়ে আমাকে দেখতে এসেছিল। এবং আমাকে অবাক করে দিয়ে এক প্যাকেট সিগারেটও দিয়েছে। আনন্দে চোখে পানি চলে এসেছিলো। একজন আসামির সাথে দেখা করতে গেলেও আছে নানান দিকদারি। আছে অনেক নিয়ম কানুন।

বাংলাদেশের সব জেলের চেয়ে ঢাকার জেল ভালো।
টাকা থাকলে জেলে সব পাওয়া যায়। এমনকি জেলের খাবার ভালো না লাগলে টাকা দিয়ে ভালো খাবার কিনে খাওয়া যায়। জেলের খাবারের চেয়ে জেলের দোকানের খাবার কিছুটা ভালো। কাশিমপুর কারাগারে তিন মাস ছিলাম। জেলে আমি বিনা বেতনে কাজ পেয়েছিলাম, লাইব্রেরিতে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আমি লাইব্রেরিতে থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। কারাগারে ধর্মীয় বই বেশি। সারাদিন বই পড়তাম। কেউ বই নিলে লিখে রাখতাম। কারাগারে সবাই আমাকে চিনে বই পড়ুয়া হিসেবে। সারাদিন পড়তাম। পড়ার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই। জেলখানায় লিখতে পারতাম না। কাগজের অভাব। তাছাড়া আমার অভ্যাস কম্পিউটারে লেখা। জেলে আমাকে কে কম্পিউটার দেবে? জেলে আমাকে রাখা হয়েছিল তিন তলায়। ছোট্র একটা রুমে সাত জন থাকতাম। নিজের ইচ্ছে মতো বাতি জ্বালাতে বা নিভাতে পারতাম না। সন্দেহ হলেই জেলার সাহেব হুটহাট তল্লাশি চালাতেন। বেশির ভাগ তল্লাশি হতো মধ্যরাতে।

প্রচুর টাকা থাকলে জেলে কিছুটা ভালো থাকা যায়।
আরাম আয়েশ করা যায়। জেলে কেউ একটা সিগারেট দিলে, তাকে খুশিতে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। সিগারেটের বড় অভাব। একটা সিগারেট আরাম করে খাওয়া যায় না। সামনে এসে চার পাচ জন দাড়িয়ে থাকে। তাদের এক টান, দুই টান না দিয়েও পারা যায় না। জেলে কেউ খাবার নিয়ে দেখা করতে গেলেও বিরাট দিকদারি। সেই খাবার হাতে এসে পৌছাতে অনেক সময় লাগে। জেলে থাকা কালীন যাদের সাথে সম্পর্ক হয়, সেই সম্পর্ক গভীর সম্পর্ক। স্কুল জীবনের বন্ধুর চেয়েও কঠিন সম্পর্ক। সব শ্রেনীর আসামিরা আমাকে পছন্দ করতো। অদ্ভুত সব গল্প বলে তাদের মাথা আমি আউলায়ে দিয়েছি। জেলে সারাদিন কোনো রকমে সময় কেটে যেতো। কিন্তু রাত কাটতো না। লম্বা সময়। ঘুম আসে না। কষ্ট হতো খুব। কান্না পেতো। দম বন্ধ হয়ে আসতো। বাবা, মা, ভাইবোন সবার কথা মনে পড়তো। আরো মনে পড়তো বন্ধুদের কথা। মনে পড়তো শত শত স্মৃতি। তারপর এক আকাশ শুন্যতা ভর কর‍তো বুকে।

জেলে সব শ্রেণীর কয়েদিদের সাথে আমার সুসম্পর্ক হয়েছে।
খুনী, চোর, ডাকাত, দূর্নীতিবাজ, রাজনীতিবিদ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণকারী সবার সাথে আমার সুসম্পর্ক। কত অদ্ভুত সব মামলা খেয়ে লোকজন কারাগারে আসে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। রাজনীতি এবং জমি সংক্রান্ত মামলার আসামি সবচেয়ে বেশি। নিরাপদ আসামীর সংখ্যা অনেক। আসলে এই সমাজে যাদের প্রচুর টাকা আছে, তারা অন্যায় করায়। আর যাদের টাকা নেই, তারা টাকার বিনিময়ে অন্যায় করে। পয়সা থাকলে কারাগারে রাজার মতো থাকা যায়। হাত পা টিপে দেওয়ার লোকও পাওয়া যায়। কারাগারে থাকার চেয়ে ফুটপাতে থাকাও অনেক শান্তির। ইচ্ছে হলে আকাশ দেখা যায়। ইচ্ছে হলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা কিনে খাওয়া যায়। বলা যায় মামা চিনি বেশি দিবেন
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খরচ

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯


কোন কোন রাত্রি শেষের বেগুনী আলোয়
বাতাস যখন রতিতৃপ্ত দৃষ্টির মত কোমল-
উন্মোচনের আগ্রহে উদগ্রীব আলো
কী এক দ্বিধায় থমকে আছে পুবের দরজায়,
হঠাৎ যেন কেউ মাছের মত
ছেকে তোলে জালে।
লাগায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×