somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম প্রেম,কিছু কষ্ট এবং আমার পরী

০৫ ই জুন, ২০১২ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটিকে আমি প্রথম দেখি আমাদের পিকনিকের বাসে।মাথাই অনেক লম্বা চুল আর সাদা একটি ড্রেসে একদম পরির মত লাগছিল।পিকনিকের সারাটা সময় ই আড়চোখে তাকিয়েছি সুযোগ পেলেই।খারাপ কোন উদ্দেশ্য নিয়ে নয়,প্রথম দেখায় প্রেমে পরেছিলাম বলে।চোরের মত আড়চোখে তাকিয়েছি সারাটা দিন কিন্তু কথা বলতে পারিনি, কারন সাহস হয়নি।তারপর বেশকিছুদিন পার হয়ে গেলেও আমি মেয়েটিকে আর খুঁজে পাইনি।অনেক চেষ্টা করেছি, অনেক। তারপর কষ্ট গুলো বুকে চেপে চুপ করে গিয়েছি।বুঝতাম না একটা নাম না জানা অচেনা মেয়ের জন্য এত কষ্ট লাগে কেনো। আমার এক বন্ধু ছিলো,আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নাম সুমন।ও একটা মেয়েকে খুব ভালবাসতো।সারাদিন মেয়েটার কথা বলে মাথা ধরিয়ে দিত।ও থিয়েটার করতো।আমি মাঝে মাঝে ওদের নাটকের কাজে সাহায্য করতাম।একদিন একটা নাটক শুরু হওয়ার আগে আমি অতিথিদের বসার জন্য নিদিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দিচ্ছিলাম,সেই সময় মিষ্টি করে কেউ বলল," এক্সকিউজ মি, নাটক কখন শুরু হবে??আমি পেছনে তাকালাম, আমার পরী দাড়িয়ে আছে।লাল একটা শাড়ীতে ওকে অপ্সরীর মত লাগছে।কি বলবো,মুখে কোন কথা আসছে না,গলা শুকিয়ে কাঠ।বুকের মাঝে হৃতপিন্ড বাড়ি দিচ্ছে দিমদিম দিমদিম, আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি।কোন মতে বললাম," ৬ টায়"।ও একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো।কিছুক্ষণ পর একটু স্বাভাবিক হলাম।সুমন কে খুজতে লাগলাম ওকে পেলাম স্টেজ এর এক কোনে দর্শক সারির দিকে তাকিয়ে আছে।কাছে গেলাম ও বলল,"দোস্ত মেয়েটাকে না পেলে আমি মারা যাব"আমি বললাম,"কোন মেয়ে?ও বলল দ্বিতিয় সারির ৫ নাম্বার চেয়ার।আমি তাকিয়ে দেখি সেখানে আমার পরী বসে আছে।সাবধানে বললাম,"লাল শাড়ি পরা মেয়েটার কোন পাশে"ও বলল,"লাল শাড়ি পরা মেয়েটায়"।আমি বললাম,"কি বলছিস যা তা?" ও বলল,"মেয়েটির নাম লাবন্য,আমি যার কথা রোজ বলি,ওই সেই মেয়ে"।আমি সুমন এর দিকে তাকালাম ও এক ঘোর লাগা চোখে লাবন্যর দিকে তাকিয়ে আছে,তাতে ভালবাসার কোন কমতি নেই।আমি সুমন কে বললাম," আমার খুব মাথা ধরেছে বাসায় গেলাম"।সারারাত ঘুম হলনা।কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না।জীবনে প্রথম বারের মত খুব কান্না পাচ্ছিলো।মেয়েরা তো আর যায়হোক প্রান খুলে কাঁদতে পারে আমরা তাও পারিনা।ওটা ছিলো আমার জীবনের সব চাইতে বড় রাত।তারপর বুকে পাথর রেখে ডিসিশন নিলাম আমি সরে দড়াবো।একটা মেয়ের জন্য তো আর বন্ধুত্ব নষ্ট করা যায় না।তারপর একদিন নাটকের রিহ্যাসেল দেখার সময় লাবন্যর সাথে পরিচয় হল।পরিচয়টা করিয়ে দিল ওর ছোট বোন,আমি একটা মেয়েকে খুব আদর করতাম পরে দেখা গেল ওটা ওর ছোট বোন আর ছোট বোনের নাটকের রিহ্যাসেল দেখার জন্য ও প্রতিদিন আসতো।টুকটাক কথা হত।সুমন এর সাথে মাঝে মাঝে ওদের বাসার সামনে যেতাম,ওকে মাঝে মাঝে বারান্দাই দেখতাম।একা একা দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম।প্রথম দিনের পর থেকে আর কোন দিন ওর চোখের দিকে তাকাতে পারিনি পাছে আবার ওকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়।মাঝে মাঝে সুমনের চাপে পরে ও যেখানে প্রাইভেট পড়ে তার সামনে গিয়ে দাড়াতাম। ও দেখতো,প্রথম প্রথম ও দেখে শুধু মিষ্টি করে হাসতো।তারপর থেকে কথা বলতো।প্রতিদিন রিহ্যাসেলে যেতাম ওকে শুধু একবার দেখার জন্য।এভাবে আমার এবং সুমন এর সাথে ওর একটা খুব মিষ্টি সম্পর্ক শুরু হল।তারপর একদিন সুমন বলল,"দোস্ত এবার প্রপোজ টা করে ফেলি?আমি বললাম," কর"।পরদিন আমি ওর ছোট বোনকে ডাকলাম।তার পর ওর হাতে একটা চিঠি দিলাম,তাতে লেখা ছিল"কেউ একজন একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসে,সারাদিন তার কথাই ভাবে,মেয়েটা তার কাছে অক্সিজেনের মত,মেয়েটা তুমি,আর ছেলেটা আমি... (সুমন)...।চিঠিটা দিয়ে আমরা দূরে দাড়িয়ে ছিলাম।সত্যি কথা বলতে কি আমার ভেতর অল রেডি রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়ে গিয়েছে,আমি মনে প্রানে চাইছিলাম যে ও সুমন কে না বলুক।কিছুক্ষণ পর আরেক টা চিঠি এলো তাতে লেখা ছিলো" কেউ একজন একটা ছেলেকে অনেক ভালবাসে,সারাদিন তার কথাই ভাবে,ছেলেটা তার কাছে অক্সিজেনের মত,মেয়েটা আমি আর ছেলেটা তুমি... (আমার নাম)..।আমি কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে থাকলাম চিঠির দিকে।বুঝতে পারছিলাম না কি করবো।পাশে দেখি সুমন নেই,ও উলটো দিকে হাটা শুরু করেছে অল রেডি।এরপর সুমন আমার সাথে আর কোন দিন কথা বলেনি।সুমন মনে করতো আমি ওর সাথে চিটিং করেছি।আমি আর কোন দিন লাবণ্যর সামনে যায়নি।মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে,এখনো আমাকে ক্ষমা করেনি। /:)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:০৪
১৬টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসহন্তাদের উল্লাস; ভ্যাম্পায়ারদের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৭


হা ভোট পক্ষের নাগরিক'রা কি এখন ছবির এ বিপ্লবীটির মতই একা ??!!
দীর্ঘ ১৮ বছর লুটপাট, গুম, খুন, নির্যাতনের রাজত্ব। অতঃপর জুলাই-আগস্ট'২০২৪ এর অন্দোলনে রাজপথে স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে দাড়িয়ে হাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে তারেক রহমান হে রাষ্ট্র নায়ক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩



প্রতিক্ষার অবসানে হে রাষ্ট্র নায়ক
আপনার আগমন হয়েছে এখন
খানিক শান্তির জন্য জনতার মন
আপনার সুশাসন প্রতিক্ষায় ছিল।
হে তারেক রহমান অনেক নাটক
এখানে মঞ্চস্ত হয়। কত অগণন
হতাশায় বাকরুদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুভেচ্ছা জানালেন নাকি ডিলের কথা মনে করিয়ে দিলেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠির বাংলা

হোয়াইট হাউস
ওয়াশিংটন
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মহামান্য তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
ঢাকা।

প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভের জন্য অভিনন্দন জানাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=তুমি মাবুদ মন করে দাও পবিত্র=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭


কেন যে হিংসার স্পর্শ লেগে থাকে মনে
কেন যে এত অহম পুষি বুকে
একেকটি মৃত্যু জানান দিয়ে যায় আয়ূ নেই বেশী দূর
গোরের কথা স্মরণে বুক কেঁপে ওঠে দুদ্দুর।

কেন যে এত দীর্ঘশ্বাস বুকে
কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র | ডঃ এম এ আলী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৩

গানের লিংক - Click This Link
(গানটিতে মাইকেল জ্যাকসনের 'বিট ইট' গানের একটি পিস ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি, সবার ভালো লাগবে।)



অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×