আমি তখন কাশ সিক্স-এ পড়ি। আমার জমানো ২০ টাকার সাথে আব্বার কাছ থেকে নেয়া আরও ১০ টাকা ভরে মোট ৩০ টাকা দিয়ে একটা "কোডাক ইন্সট্যান্ট" মডেলের একটা ক্যামেরা কিনি। ১২০মি.মি. ফরম্যাটের সাদা-কালো নেগেটিভ ফিল্ম ব্যবহার করা হতো সেই ক্যামেরায়। সেই সময় ৩৫মি:মি: ক্যামেরার প্রচলন তেমন একটা শুরু হয়নি। কোডাক ও ইষ্টম্যান ব্রান্ডের ৩৫মি:মি: ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট নেগেটিভ ফিল্ম ঢাকায় আসে ষাটের দশকে। রাজশাহীর বাজারে আসে আরও পরে।
সেই যুগে ৩৫মি:মি: নেগেটিভ/পজিটিভ ফিল্ম প্রধানত চলচ্চিত্র তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হতো। ৩৫মি.মি. পাশাপাশি ৮মি:মি: ও ১৬মি:মি নেগেটিভ ও পজিটিভ ফিল্ম চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারী তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হতো। এই দুটো ফরম্যাটের ফিল্ম কিছুটা সন্তা হওয়ায় এগুলোতে শুটিং করে পরে ফাইনাল প্রিন্ট ৩৫মি.মি.-এ ট্রান্সফার করা হতো। আমি ৩৫মি.মি. এসএলআর ক্যামেরা প্রথম ব্যবহার করি ১৯৭৫/৭৬ সালে। রাশিয়ার তৈরী "জেনিথ" ক্যামেরার মাধ্যমে। এই ক্যামেরাটা কিনেছিলাম তদানীন্তন "বৃটিশ কাউন্সিল, রাজশাহী শাখার প্রধান লাইব্রেরীয়ান জনাব মোসলেম উদ্দিনের কাছ থেকে।
আমার কেনা ৩০ টাকার সেই "কোডাক ইন্সট্যান্ট" ক্যামেরায় ১২০মি.মি. ফরম্যাটের নেগেটিভ ফিল্ম ব্যবহার করতে হতো যাতে সর্বসাকুল্য ছবি উঠতো মোট ১২টা। সেই নেগেটিভ ফিল্ম ডার্করুমে ডেভেলপ করা হতো এবং এনলার্জারের সাহায্যে সাদা-কালো প্রিন্ট করা হতো বি-২ সাইজে।
"জ্যু পার্ক", সিঙ্গাপুর। ১৯৯২ সাল। আমার তোলা ছবি, ফুজিক্রম পজিটিভ ট্রান্সপারেন্সীতে তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




