হে জননী
হে নারী, হে জননী আমার,
আমি জানিনা কে আমার ঈশ্বর?
আমি জানিনা কে আমার সৃষ্টিকর্তা,
সে কি কোনো নারী কিংবা কোনো পুরুষ?
আমি জানিনা তিনি কে, আমি শুধু চিনি তোমাকে।
যে তুমি আমায় সৃষ্টি করেছো অতি ক্ষুদ্র রক্ত কণিকায়,
দিয়েছো ঠাঁই জঠর গভীরে নিবিড় লজ্জায়,
করেছো লালন পরম আদরে গভীর মমতায়, দিয়েছো মানুষ পরিচয়।
আমি জেনেছি কেমন করে এক মা তার কষ্টের প্রহর কাটায়।
আমি জেনেছি আমার সৃষ্টির উৎস।
যে ভ্রুণ আমায় গ্রথিত করেছিলো জরায়ূপৃষ্ঠে,
যে নারি আমায় বেঁধে রেখেছিল দশটি মাস আষ্টেপৃষ্ঠে,
যে গর্ভ আমায় দিয়েছিল পরম নিরাপদ এক আশ্রয়,
যে নারী সয়েছিল প্রসব বেদনার এক ভয়াবহ কালরাত্রি,
এক মা ছাড়া কে বাইতে পারে অমন কষ্টের কান্ডারী?
হে জননী, বলো তবে কেন তুমি আমার ঈশ্বর নও ?
যাঁরে আমি ঈশ্বর বলে জানি,
সেই কি লুকিয়ে আছে তোমার ভেতর?
হে জননী, হে প্রতিভূ আমার,
তুমি বলো কে আমার প্রাণদাতা, কে আমার লালনকর্তা?
যাঁরে আমি চোখে দেখিনি, যাঁরে আমি স্পর্শ করিনি, সেইকি আমার বিধাতা?
জন্মেই যার মুখ দেখেছি, সস্নেহে যে আমায় বুকে টেনে নিয়েছে,
যে আমায় বুকের স্তন থেকে প্রাণশক্তি যুগিয়েছে,
সে কি আমার ঈশ্বর নন? সেকি আমার বিধাতা নন?
হে ঈশ্বর, ক্ষমা করো আমায়। মার্জনা করো আমার ধৃষ্টতা।
আমি সন্তান এক মায়ের অহংকারী,
মা ছাড়া আর কারও অবস্থান অন্তরে ভাবতে নাহি পারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



