somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিপদ

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন বিপদ—স্ত্রী-সন্তান-শ্যালকসহ পুরো পরিবার স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। পাশাপাশি দাদ। অসহ্য চুলকানিতে সবার অবস্থা খারাপ, আট মাসের ছেলেটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে দেশে হামের প্রকোপও বেড়েছে; এরইমধ্যে এই রোগে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত দুই বছর টিকা না দেওয়ার খেসারত। সরকার দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছে, টিকাও দেওয়া হয়েছে—তবুও ভয় কাটে না মৃণালের। সদ্য বাবাহারা হয়েছে সে। যদি ছেলেটার কিছু হয়ে যায়, তবে তার বেঁচে থাকার আর কোনো মানে থাকবে না।

চিকিৎসার জন্য একবার ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। কিছুদিন ওষুধে ভালো থাকে, বন্ধ করলেই আবার শুরু হয়। এতদিন ভয় আর অনিশ্চয়তায় আর যাওয়া হয়নি, কিন্তু এখন আর না গিয়ে উপায় নেই—বাচ্চা রাতে কাঁদে, কষ্ট পায়।

শেষমেশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সবাইকে নিয়ে পিজিতে গেল মৃণাল। চারজনেরই ডাক্তার দেখানো হলো। একগাদা ওষুধ লিখে দিলেন ডাক্তার। এক সপ্তাহের ওষুধ কিনতেই খরচ হলো সাড়ে তিন হাজার টাকা।

এরইমধ্যে অফিসের চাপও কম নয়। মৃণাল কাজে যায়, আর তার স্ত্রী দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের কাছে বাচ্চাটাকে রেখে পড়াতে যায়। যাওয়া-আসা মিলিয়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফিরে এসে ঘরের কাজ, রান্নাবান্না—সবই সামলাতে হয়।

বাবার চিকিৎসা, মরদেহ গ্রামে নেওয়া, অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা—সব মিলিয়ে জমে থাকা সঞ্চয় প্রায় শেষ। ঠিক তখনই অফিস থেকে সহকর্মীর ফোন—কর্মী ছাঁটাই চলছে। খবর শুনে মৃণালের গলা শুকিয়ে যায়। তবে আপাতত সে টিকে যায়।

কিন্তু দুশ্চিন্তা এখানেই শেষ নয়। মাস না ঘুরতেই শোনা গেল প্রতিষ্ঠানটাই নাকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! নতুন ছাঁটাইয়ের তালিকায় এবার মৃণালের নামও আছে। বাধ্য হয়ে অন্যত্র চাকরির খোঁজ শুরু করে। এক জায়গায় আগে সুযোগ পেয়েও যায়নি; এবার আবার যোগাযোগ করলে তারা ডাকার আশ্বাস দেয়। এখন আপাতত সেই অপেক্ষা।

কয়েক মাসের টানা ধকল—শোক, অসুখ, অনিশ্চয়তা, অর্থকষ্ট—সব মিলিয়ে মৃণালের যেন একটু বিশ্রাম দরকার। কিন্তু বিশ্রাম নিলে কি সংসার চলবে? গ্রামে থাকলে হয়তো শাক-লতাপাতা খেয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করা যেত, কিন্তু শহরে তা সম্ভব নয়। এখানে বাসা ভাড়াতেই উপার্জনের বড় অংশ চলে যায়।

মৃণালের জীবনে তাই বিশ্রামের সুযোগ নেই—শুধু টিকে থাকার লড়াই।

১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:০৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Rest in peace Kaarina Kaisar

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:১৫


34th July, 2024.
Dhaka, Bangladesh ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

আব্বাসীয় কুরাইশ এবং তাদের হানাফী অনুসারী আল্লাহর সবচেয়ে বেশী প্রিয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



সূরাঃ ১০৬ কুরায়শ, ১ নং ও ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যেহেতু কুরায়শের আসক্তি আছে
২। আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের
৩। কাজেই তারা ইবাদত করুক এ ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×