হস্তরেখা ও ভাগ্য - ২ : ৩য় পর্ব
(পূর্বে প্রকাশিত পোষ্ট)
মাষ্টারর্স-এ আমাদের ব্যাচে সেবার কেউই প্রথম শ্রেণী পায়নি। আমি মেধা তালিকায় দ্বিতীয়। শেফালী প্রথম। অনার্সে আমি ছিলাম প্রথম। শেফালী দ্বিতীয়। শেফালীর যে প্রেমিক আছে সেটা আমি বা ক্লাশের অন্য কেউ জানতাম না। অনার্স শেষ শেষ পর্বে এসে শেফালীর বিয়ে হয়ে গেল তার প্রেমিকের সাথে। প্রেমিক ভদ্রলোক পেশায় ডাক্তার। নাম আবদুল করিম। দুজনের মধ্যে প্রেম চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। আমি সেটা জানতাম না। অথচ শেফালীর হাতে প্রেম যোগ ছিল। আমি নিশ্চিতভাবে বলা সত্ত্বেও শেফালী কিছুতেই মুখ খোলেনি। পরে অবশ্য অনিন্দিতার কাছ থেকে কাউকে না বলার কঠিন শর্তে জেনেছিলাম। সেই ডাক্তার ভদ্রলোককে আমি চিনতাম। রাজশাহী মেডিক্যালে সেলিম নামে আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। প্রায়ই তার হোস্টেলে যেতাম। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক অনুষ্ঠানগুলো দেখার নিমন্ত্রণ পেতাম। আর সেই সুবাদে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র পরিষদের সভাপতি ড: করিমের সাথে প্রায়ই দেখা হতো।
অনেক মতবিরোধ শেষে পরিবারিক সম্মতিতেই শেফালীর বিয়ে হলো। শেফালীর এক ডাক্তার ভাই শুধু এই বিয়েতে আপত্তি তুলেছিল। শেফালীর বর মেডিকেল কলেজের ভাল ছাত্র হিসেবে নয় বরং ছাত্রনেতা হিসেবে বেশী পরিচিত ছিল। ছাত্ররাজনীতিতে সে ছিল ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা। রাজনীতির অঙ্গনে সবাই তাকে চিনতো। দেখতে খুব একটা আহামরি তেমন কিছু না। গায়ের রং কালো। লম্বাটে গড়ন। নাকটা আমাদের ব্লগার অপবাকের মত চাপা। অথচ শেফালী দেখতে সুশ্রী ছিল। আমাদের ভূগোল বিভাগের ১২/১৩ জন ছাত্রীর মধ্যে সৌন্দর্যের বিচারে ওর পাল্লাটাই বেশী ভারি ছিল। তাই ওর প্রতি সবার একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল। আমার সাথে অনিন্দিতার যখন বিয়ে হয় শেফালী তখন এক পুত্র সন্তানের জননী।
অনিন্দিতার কারনেই আমাকে শেফালীর হাত দেখতে হয়েছিল। আমরা তখন অনার্সের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় বর্ষে পা দিতে বেশী দেরী নেই। তখন পর্যন্ত আমি জানতাম না শেফালী কাউকে ভালবাসে বা তার কোন প্রেমিক আছে। একদিন আমরা লাইব্রেরী থেকে বের হয়ে বাস স্ট্যান্ডে আসছি। পথের মাঝে আম গাছ। দূরে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান। মাঝপথে অনিন্দিতা আমাকে বললো শেফালীর হাতটা একটু দেখে দিতে। হাত দেখানোর ব্যাপারে শেফালীর খুব একটা আগ্রহ ছিল না। অনিন্দিতা কেন জানি বিশ্বাস করতো আমি ভাল হাত দেখতে জানি। তার নিজের অনেক ঘটনাই নাকি মিলে গেছে।
শেফালী একটু ইতস্তত করে হাতটা বাড়িয়ে দিল দেখানোর জন্য। আমি প্রথমেই ওর জন্মতারিখটা জেনে নিলাম। শেফালীর জন্ম সংখ্যা ৮। জটিল এক সংখ্যা। রক্ষণশীলতা হোক বা জড়তা হোক শেফালীর হাতটা তেমন ভাল করে খুঁটিয়ে দেখতে পারলাম না। অনিন্দিতা সাথে ছিল তাও এক কারন। তবে যেটুকু দেখলাম তাই যথেষ্ট। আমি শেফালীকে বললাম, আমি যা বলছি তা বিশ্বাস করার কোন কারন নেই। সত্য হোক বা মিথ্যা মিথ্যে হোক এটা কোন যুক্তি দিয়ে বোঝানো যাবে না। আমার এসব কথা একান্তই পুঁথিগত বিদ্যা এবং সবটুকু ধারনাপ্রসূত। তাই যা বলবো বিশ্বাস করা না করা একান্তই আপনার নিজস্ব ব্যাপার। শেফালী শুধু বললো, আপনি বলে যান। আমি শুনবো। এসবে আমার তেমন একটা বিশ্বাস নেই। তবে ভবিষ্যত নিয়ে মানুষের কৌতুহল থাকতেই পারে। জানতে বা শুনতে বাঁধা কোথায়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



