somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কামিকাজি
আমি একজন নিয়মিত ব্লগার। মুক্তচিন্তার প্রকাশ ও চর্চা করি, গান শুনি, মুভি দেখি, আড্ডা মারি, ঘুরে বেড়াই আর জীবনকে উপভোগ করি। কারন জীবন তো একটাই। facebook.com/kamikaze.agnostic.blogger ব্লগ সাইটঃ thekamikazeblog.wordpress.com

ঈশ্বরের অসাড়তা

০৯ ই মে, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল , ''Does God really exist'' ?

বেশিরভাগ মানুষ উত্তর দিবে, হ্যাঁ আছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি তার অস্তিত্ব অনুভব করেন? অনেকেই বলবে, হ্যাঁ করি।

কিন্তু আসলেই যে ঈশ্বর আছে তার প্রমান কেউ দিতে পারবেনা। অনেক মুমিনকেই পাল্টা প্রশ্ন করতে শুনেছি, আপনি কি অক্সিজেন, হাইড্রোজেনের অস্তিত্ব টের পান? ঈশ্বর হল অদৃশ্য কিন্তু অনুভব করতে হয়।
কিন্তু যে মূল ব্যাপারটা ধার্মিকরা এড়িয়ে যায়, অক্সিজেন হাইড্রোজেনের অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমান করা সম্ভব, কিন্তু ঈশ্বরের বেলায় সেই প্রশ্ন তোলাই বাহুল্য।

কিছু মানুষ ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, কেউ কেউ ঈশ্বর বলতে কিছু আছে তা বিশ্বাস করতে নারাজ। এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার, ওনারা বিশ্বাস করবেন কি করবেন না। ঠিক যেমনটা কিছু বাচ্চা সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান অথবা সান্টা ক্লজ আছে বলে বিশ্বাস করে আবার কিছু স্মার্ট বাচ্চা মনে করে এগুলো ছেলে ভুলানো কল্পকাহিনী।
ধর্ম কেন এত বড় বিষয় মাঝে মধ্যে ভাবতে অবাক লাগে। ধর্ম আমাদের মানব সমাজে এত বছরে কি উন্নয়ন সাধিত করেছে তার লিস্ট চাইলে কিছুই পাওয়া যাবেনা। কিছু লোক কিছু ধর্মের অনুসারী মানুষের উদাহরন দিয়ে থাকেন। যেমন মুসলমানদের ক্ষেত্রে ইবনে সিনা, খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে মাদার তেরেসা। কিন্তু তাদের ভাল কাজে ধর্মের ভুমিকা কোথায়?

একজন ভাল মনের ধার্মিক মানুষ ভাল কাজ করলে সেখানে ধর্মের ক্রেডিট দেওয়া হয়। কিন্তু যখন একজন ধার্মিক খারাপ কাজ করে, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে, তখন ধার্মিকরা চিৎকার করে ওঠে, এখানে ধর্মের কোন দোষ নেই, কেউ খারাপ কাজের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করলে এখানে ধর্মের দোষ কোথায়?

অনেকেই বলে '' বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদুর ''। এটা একদম ডাহা মিথ্যা কথা। বিশ্বাসে কিছুই মেলে না। আজ পর্যন্ত ভন্ড পীর ফকিরদের স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ অথবা পানি পড়া ছাড়া বিশ্বাসে কিছু মিলেছে কিনা আমার জানা নাই। অধ্যবসায়, পরিশ্রম, অজানাকে জানার আগ্রহ থেকেই মানুষ নতুন নতুন জিনিষ আবিস্কার করেছে। যদি ঈশ্বর বিশ্বাস করে কেউ খাদ্যের আশায় বসে থাকতো, তাহলে সবাইকে না খেয়েই মরতে হত।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আমি সন্দিহান। এ কেমন ঈশ্বর, যেখানে বিধর্মীরা একের পর এক মানুষের জন্য উন্নয়ন করেই যাচ্ছে, আর ধার্মিকরা নামাজ পড়ার ভিন্নতার কারনে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে শেষ হয়ে যাচ্ছে? যেখানে বিধর্মীরা নিজেদের দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে, গ্রহ থেকে গ্রহে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, সেখানে ধার্মিকরা বেহেস্তে যাওয়ার জন্য দুনিয়াবী কাজ কর্মে আগ্রহী নয়। দিনে পাঁচবার মাথা ঠুকে, আর জোব্বা দাড়ি পরে, বউ পিটিয়ে, নাস্তিকদের কুপিয়ে ৭২ হুর পাওয়ার নেশায় উদগ্রীব। বিধর্মী অঞ্চলের মানুষ সভ্যতার চরম উৎকর্ষে, আর আফ্রিকায় হাজার হাজার শিশু না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। এ কেমন বৈষম্য, এ কেমন ঈশ্বর যে নিজের সন্তানদের কাউকে সুখে রাখে, কাউকে না খাইয়ে মারে?

খরা, দুর্যোগ, খাদ্যাভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাকি ঈশ্বরের পরীক্ষা। এইসব পরীক্ষা নিয়ে নাকি তিনি ধার্মিকদের ঈমান পরীক্ষা করেন। তাহলে বিধর্মী দেশগুলোতে কেন দুর্যোগ হয়, তাদের কেন পরীক্ষা দিতে হয় তার উত্তর আজো পেলাম না। আর এসব দুর্যোগ যদি প্রাকৃতিক কারনে হয়ে থাকে, তাহলে ঈশ্বরকে ভয় পাবার কারন কি?

আমি জানিনা ঈশ্বর আছে কি নেই।
ঈশ্বরের সাথে দেখা হলে বলতাম, '' তোমাকে আমার আর দরকার নেই, আমি এখন আমার সব প্রশ্নের উত্তর গুগলেই পাই। ''
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডানপন্থীদের তোয়াজ বা মক্কা প্যাক্টে ঢোকার আগ্রহ দ্রুতই বুমেরাং হতে পারে বিএনপি সরকারের জন্য

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮



জামাত-এনসিপিকে 'বিরোধী দল হিসেবে' হাতে রাখতে বা আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকাতে জামাত-এনসিপি বা এদের মতো ডা*নপন্থীদের দাবি-দাওয়াকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলে সেটা বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে বিএনপি সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কাহ চুক্তি কি ?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯



মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×