বেশির ভাগ সময়'ই দেখা যায়, জাতীয় দিবস গুলো এলেই শহীদ মিনার গুলোতে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। নতুন করে চুনকাম করা হয়, হয়তো কখনো বেদী টাকে রঙ করা হয়। সরকারী কর্মকর্তাদের তদারকী'র ভীড় পড়ে যায়-একেবারে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার। খুব ভালো লাগে দেখতে। তারপর মধ্যরাত থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রতিযোগিতা। স্বভাবতই, সরকারী দল সবার আগে সুযোগ পায়, বিরোধীদল দূর থেকে উঁকি ঝুঁকি মারতে থাকে- সরকারী দল চলে গেলেই, তারা চুপচাপ ফুল দিয়ে সরে পড়ে-যেন অপরাধ করতে এসেছিল, এখন গণপিটুনী খাবার ভয়ে, মানে মানে সরে পড়ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, গত ২৬, মার্চ, আমি শহীদ মিনারে যাই রাত ১১ টার'ও কিছু আগে। রাত ১২টা বাজতেই যথারীতি হোমরা-চোমরা কর্মকর্তাদের আনাগোনা শুরু হল। বক্তৃতা'র জোয়ারে, বেদীর ধারে কাছে কেউ ভিড়তে পারছেনা। একসময় যখন এসব দেশপ্রেমিকরা চলে গেলেন, দেখলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা'দের মিছিলটা, ধীরে ধীরে এগুচ্ছে মিনারের দিকে। একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা কে বলছে, "ওরা তো দেখি মুক্তিযুদ্ধের কথা আমাদের থেকেও ভালো জানে! যুদ্ধ কে করেছে? আমরা, না ওরা?
যাই হোক, পরদিন সকালে আবার গেলাম শহীদ মিনারে। ফুলচোর দের বদৌলতে, বেদী প্রায় ফাঁকা! এবং মজার (আসলে দুঃখের) ব্যাপার হলো, দেখি কয়েকটি ছেলে বেদীর উপর বসে তাস খেলছে! অথচ, আগের রাতে ওরাই, কে আগে ফুল দেবে, সেই প্রতিযোগিতায় মত্ত ছিলো। সন্ধ্যার পর বসে নেশাখোরদের আড্ডা।
খুব দুঃখ লাগে, যখন দেখি, এই সার্বজনীন দিনগুলোতেও, রাজনৈতিক দল গুলো নিজেদের দ্বিধাবিভক্ত করে! মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের সহযোদ্ধা শহীদ'দের কাছে ফুল দেবার অগ্রাধিকার পায়না! দুঃখ লাগে, যখন দেখি, রাষ্ট্রীয় দিবস গুলো ছাড়া, শহীদ মিনার যোগ্য মর্যাদা পায়না!
আমাদের সমাজের সংস্কৃতি কর্মী যারা, তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ, আসুন, বছরের প্রতিটি দিন'ই আমরা অন্তত সংস্কৃতি চর্চার পাদপীঠ করি শহীদ মিনার কে! সকল মানুষ এটা বলবে,"যাই, শহীদ মিনারে একটু ঘুরে আসি। বড্ড গান শুনতে/কবিতা শুনতে ইচ্ছে করছে!" আসুন, শহীদ মিনারে আমরা পাঠচক্র গড়ে তুলি। আসুন শহীদ মিনারে আমরা ভীড়ের জোয়ার আনি, যে জোয়ারে ভেসে যাবে নষ্টরা। শুদ্ধ হবে ভ্রষ্টরা।
এখন'ই সময়। এক্ষুণি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


