somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের জন্য নির্মিত কিছু মিনার

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশির ভাগ সময়'ই দেখা যায়, জাতীয় দিবস গুলো এলেই শহীদ মিনার গুলোতে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। নতুন করে চুনকাম করা হয়, হয়তো কখনো বেদী টাকে রঙ করা হয়। সরকারী কর্মকর্তাদের তদারকী'র ভীড় পড়ে যায়-একেবারে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার। খুব ভালো লাগে দেখতে। তারপর মধ্যরাত থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রতিযোগিতা। স্বভাবতই, সরকারী দল সবার আগে সুযোগ পায়, বিরোধীদল দূর থেকে উঁকি ঝুঁকি মারতে থাকে- সরকারী দল চলে গেলেই, তারা চুপচাপ ফুল দিয়ে সরে পড়ে-যেন অপরাধ করতে এসেছিল, এখন গণপিটুনী খাবার ভয়ে, মানে মানে সরে পড়ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, গত ২৬, মার্চ, আমি শহীদ মিনারে যাই রাত ১১ টার'ও কিছু আগে। রাত ১২টা বাজতেই যথারীতি হোমরা-চোমরা কর্মকর্তাদের আনাগোনা শুরু হল। বক্তৃতা'র জোয়ারে, বেদীর ধারে কাছে কেউ ভিড়তে পারছেনা। একসময় যখন এসব দেশপ্রেমিকরা চলে গেলেন, দেখলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা'দের মিছিলটা, ধীরে ধীরে এগুচ্ছে মিনারের দিকে। একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা কে বলছে, "ওরা তো দেখি মুক্তিযুদ্ধের কথা আমাদের থেকেও ভালো জানে! যুদ্ধ কে করেছে? আমরা, না ওরা?

যাই হোক, পরদিন সকালে আবার গেলাম শহীদ মিনারে। ফুলচোর দের বদৌলতে, বেদী প্রায় ফাঁকা! এবং মজার (আসলে দুঃখের) ব্যাপার হলো, দেখি কয়েকটি ছেলে বেদীর উপর বসে তাস খেলছে! অথচ, আগের রাতে ওরাই, কে আগে ফুল দেবে, সেই প্রতিযোগিতায় মত্ত ছিলো। সন্ধ্যার পর বসে নেশাখোরদের আড্ডা।

খুব দুঃখ লাগে, যখন দেখি, এই সার্বজনীন দিনগুলোতেও, রাজনৈতিক দল গুলো নিজেদের দ্বিধাবিভক্ত করে! মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের সহযোদ্ধা শহীদ'দের কাছে ফুল দেবার অগ্রাধিকার পায়না! দুঃখ লাগে, যখন দেখি, রাষ্ট্রীয় দিবস গুলো ছাড়া, শহীদ মিনার যোগ্য মর্যাদা পায়না!

আমাদের সমাজের সংস্কৃতি কর্মী যারা, তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ, আসুন, বছরের প্রতিটি দিন'ই আমরা অন্তত সংস্কৃতি চর্চার পাদপীঠ করি শহীদ মিনার কে! সকল মানুষ এটা বলবে,"যাই, শহীদ মিনারে একটু ঘুরে আসি। বড্ড গান শুনতে/কবিতা শুনতে ইচ্ছে করছে!" আসুন, শহীদ মিনারে আমরা পাঠচক্র গড়ে তুলি। আসুন শহীদ মিনারে আমরা ভীড়ের জোয়ার আনি, যে জোয়ারে ভেসে যাবে নষ্টরা। শুদ্ধ হবে ভ্রষ্টরা।
এখন'ই সময়। এক্ষুণি!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×