somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি নজরুলে অমর বাণীundefined

২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা থেকে
আমাদের সকলের ভালো লাগা কিছু
বাণী
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি সম্মান
জানিয়ে এই ডাক টিকেটটি প্রকাশ
করেছিল পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮
সালে।
নজরুলের কবিতা, বাণী, গান, সুর
কিংবা গদ্য লেখা কোনটাকে ছেড়ে
কোনটাকে বেশী ভাল লাগবে সেটা
বলা খুবই কঠিন। নজরুলের গান-কবিতা
যাদেরকে মোহাবিষ্ট করে রাখে
তারা একথা স্বীকার করবেন যে
কাজী নজরুল ইসলামের যে সুষ্টি
সম্ভার সেখান থেকে ভাল লাগার
বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করার অর্থই
হলো অতল সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া।
নজরুল বোদ্ধারা যেটা পারেননি,
আমরা অতি সাধারণ ভক্ত-শ্রোতা
বই তো নই ! কি করে সম্ভব আমাদের
পক্ষে কাজী নজরুলের লেখা থেকে
প্রিয় কিছু লাইন তুলে আনা ?
তবু সেই দুঃসাহসটা দেখাতে মন
চাইল আমার। তার একটা কারণ আছে।
কাজী নজরুল ইসলামের রচনাসমগ্র
নিয়ে ইদানীং একটু নড়াচড়া করার
চেষ্টা করছি আমি। সব যে বুঝে পড়ছি
সেই দাবী আমি করছিনা এবং
সামান্য অংশ মাত্র পড়ার চেষ্টা
করেছি। সেখান থেকে বিভিন্ন
কাব্যগ্রন্থের কবিতায় কবির লেখা
যে চরণগুলো আমার ভাল লাগার
আমেজকে নাড়া দিয়েছে সেগুলো
এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করছি।
আমার চেষ্টা থাকবে বাকী
কবিতাগুলো পড়ার সময় এভাবে ফুল
কুড়ানোর মতো করে কিছু কথা কুড়িয়ে
আলাদা করে রাখতে।
তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে কাজী
নজরুল ইসলামের সবচেয়ে বেশী শ্র“ত
গান বা কবিতা, যেগুলো আমারও
অনেক প্রিয়, সেগুলোর বাইরে
সাধারণভাবে আমাদের কাছে বহু
শ্রুত নয় এমন কবিতাগুলো থেকেই
সংগ্রহ করেছি আজকের প্রিয় কথার
তালিকা।
কাব্য গ্রন্থ বিষের বাঁশী ঃ
কবিতা- জাতের বজ্জাতি
জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত
জালিয়াৎ করছে জুয়া
ছুঁলেই তোর জাত যাবে ? জাত
ছেলের হাতের নয় তো মোয়া।
---------------------------------------------------
জানিস নাকি ধর্ম সে যে বর্মসম
সহনশীল
তাই কি ভাই ভাঙতে পারে ছোঁওয়া
ছুঁয়ির ছোট্ট ঢিল ?
যে জাত-ধর্ম ঠুনকো এত
আজ না হয় কাল ভাঙবে সে ত।
যাক না সে জাত জাহান্নামে রইবে
মানুষ নাই পরোয়া।
কবিতা- সত্যমন্ত্র
পুঁথির বিধান যাক পুড়ে তোর
বিধির বিধান সত্য হোক।
---------------------
খোদার উপর খোদকারী তোর
মানবে না আর সর্বলোক।
---------------------
ঘরের প্রদীপ নিভেই যদি
নিভুক না রে কিসের ভয় ?
আঁধারকে তোর কিসের ভয় ?
---------------------
সত্য যদি হয় ধ্রুব তোর
কর্মে যদি না রয় ছল,
ধর্ম দুগ্ধে না রয় জল,
সত্যের জয় হবেই হবে
আজ নয় কাল মিলবেই ফল।
---------------------
জাতের চেয়ে মানুষ সত্য
অধিক সত্য প্রাণের টান।
বিশ্ব পিতার সিংহ আসন
প্রাণ বেদীতেই অধিষ্ঠান।
কবিতা - বিজয় গান।
ওরে ভীরু, ওরে মরা !
মরার ভয়ে যাসনি তোরা !
তোদেরও আজ ডাকছি মোরা ভাই।
কবিতা - পাগল পথিক।
মুক্তি সে তো নিজের প্রাণে, নাই
ভিখারীর প্রার্থনায়
মরার মতন মরতে, ওরে মরণ ভীতু ক’জন
পায় ?
অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ
কবিতা- বিদ্রোহী।
---------------------
আমি চির বিদ্রোহী বীর
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির
উন্নত শির।
---------------------
কাব্যগ্রন্থ দোলনচাঁপা
কবিতা -- বেলাশেষে
---------------------
পাখি উড়ে যায় যেন কোন মেঘ লোক
হতে
সন্ধ্যা দীপ জ্বালা গৃহ পাণে ঘর
ডাকা পথে।
আকাশের অস্ত বাতায়নে
অনন্ত দিনের কোন বিরহিনী কনে
জ্বালাইয়া কনক প্রদীপ খানি
উদয় পথের পানে যায় তার অশ্রু চোখ
হানি।
---------------------
আমার যে চারিপাশে ঘরে ঘরে কত
পূজা কত আয়োজন,
তাই দেখে কাঁদে আর ফিরে ফিরে
চায় মোর ভালোবাসা ক্ষুধাতুর মন।
অপমানে পুণঃ ফিরে আসে
ভয় হয়, ব্যাকুলতা দেখি মোর কি
জানি কখন কে হাসে ।
কবিতা - পথহারা
বেলা শেষের উদাস পথিক ভাবে
সে যেন কোন অনেক দূরে যাবে
উদাস পথিক ভাবে।
---------------------
পথের পথিক পথেই বসে থাকে,
জানেনা সে কে তাহারে চাহে
উদাস পথিক ভাবে।
---------------------
হঠাৎ তাহার পথের রেখা হারায়
গহন ধাঁধাঁর আঁধার বাঁধা কারায়
পথ-চাওয়া তার কাঁদে তারায়
তারায়
আর কি পূবের পথের দেখা পাবে
উদাস পথিক ভাবে।
কবিতা - উপেক্ষিত
কান্না হাসির খেলার মোহে অনেক
আমার কাটল বেলা
কখন তুমি ডাক দেবে মা, কখন আমি
ভাঙব খেলা ?
---------------------
চাই যারে মা তায় দেখি নে
ফিরে এনু তাই একলা
পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে বক্ষে বিঁধে
অবহেলা।
আজকে বড় শ্রান্ত আমি আশায়
আশায় মিথ্যা ঘুরে
ও মা এখন বুকে ধর, মরণ আসে ঐ
অদূরে।
---------------------
আর সহেনা মাগো এখন আমায় নিয়ে
হেলাফেলা
---------------------
চারদিকে মা প্রবঞ্চনা
ভালোবাসার গিল্টি সোনা।
আজ মণি কাল ধূলিকণা
জুয়ার হাট এই প্রেমের মেলা।
খুইয়েছি সব সাধের খেলায়, বুক
ভেঙেছে হেলার ঢেলা
এখন তুমি নাও মা কোলে, নয় অকূলে
ভাসাই ভেলা।
কবিতা - পূবের চাতক
সকাল সাঁঝে চেয়ে থাকি পূর্ব গগনের
পাণে
কেন যে তা, তার আঁখি আর আমার
আঁখিই জানে।
---------------------
উদয়ঘাটে হাসে যখন পোড়ারমুখী
শশী
শশীর মুখে চেয়ে ভাবি শশী তো নয়
দোষী।
---------------------
যেদিন আমি বিদায় নিব শেষের
খেয়া বেয়ে
জানিনা তার আঁখি সেদিন থাকবে
কোথায় চেয়ে।
কবিতা -- পূজারিনী
বিশ্ব যারে করে ভয় ঘৃণা অবহেলা
ভিখারিনী ! তারে নিয়ে একি তব
অকারণ খেলা ?
তারে নিয়ে একি গুঢু অভিমান ? কোন
অধিকারে ?
নাম ধরে ডাকটুকু তা’ও হানে বেদনা
তোমারে ?
কেউ ভালোবাসে নাই ? কেউ তোমা’
করেনি আদর ?
জন্ম ভিখারিনী তুমি ? তাই এত
চোখের জল, অভিমানী করুণা কাতর।
কবিতা - আশান্বিতা
আবার কখন আসব ফিরে সেই আশাতে
জাগব রাত
হয়তো সে কোন নিশুত রাতে ডাকবে
এসে অকস্মাৎ।
---------------------
পোড়া চোখের জল পুড়ায়না কেমন
করে আসবে ঘুম ?
এনে পড়ে শুধু তোমার পাতাল গভীর
মাতাল চুম।
কেমন করে আসবে ঘুম ?
কবিতা - পিছু ডাক
সখি ! আমার আশাই দুরাশা আজ
তোমার বিধির বর
আজ মোর সমাধির বুকে তোমার
ওঠবে বাসর ঘর।
---------------------
বিদায় সখি, খেলা শেষ এই বেলা
শেষের খনে
এখন তুমি নতুন মানুষ নতুন গৃহকোণে।
কবিতা -- কবি রানী
তুমি আমায় ভালোবাস তাই তো
আমি কবি
আমার এ রূপ - সে যে তোমার
ভালোবাসার ছবি।
---------------------
তুমি ভালোবাস বলে ভালোবাসি
সবি।
কাব্যগ্রন্থ - ছায়ানট
কবিতা - চৈতী হাওয়া
শূণ্য ছিল নিতল দীঘির শীতল কালো
জল
তুমি কেন ফুটলে সেথা ব্যথার
নীলোৎপল ?
আঁধার দীঘির রাঙলে মুখ
নিটোল ঢেউ এর ভাঙলে বুক
কোন পূজারী নিল ছিঁড়ে ? ছিন্ন
তোমার দল
ঢেকেছে আজ কোন দেবতার কোন সে
পাষানতল।
কবিতা - অবেলায়
বৃথাই ওগো কেঁদে আমার কাটলো
যামিনী
অবেলাতেই পড়ল ঝরে কোলের
কামিনী।
ও সে শিথীল কামিনী।
খেলার জীবন কাটিয়ে হেলায়
দিন না যেতেই সন্ধ্যে বেলায়
মলিন হেসে চড়ল ভেলায়
মরণ গামিনী।
আহা ! একটু আগে তোমার দ্বারে কেন
নামিনি
আমার অভিমানিনি।
কবিতা -- লক্ষীছাড়া
আমি নিজেই নিজের ব্যথা করি সৃজন
শেষে সেই আমারে কাঁদায়, যারে
করি আপনারি জন।
---------------------
আমি তবু কেন সজল চোখে ঘরের
পানে চাই
নিজেই কি তা জানি আমি ভাই ?
---------------------
আর কেউ হবেনা আপন যখন সব
হারিয়ে চলতে হবে
পথটি আমার নির্জন।
আমি নিজেই নিজের ব্যথা করি
সৃজন।
কবিতা -- বিদায় বেলায়
হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার
সারা জীবনের বেদনা
আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ
বিদায়ের দিনে কেঁদোনা
---------------------
ওগো যাবে যাও, বুকে ব্যথা নিয়ে
যেয়োনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×