আজ ২৭ আগস্ট ১২ ভাদ্র জাতীয় কবি
কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম
মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক
কবি কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ
করেন।
বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম বহুমুখী
প্রতিভার অধিকারি এক বিরল
সাহিত্য ব্যক্তিত্ব । মৌলিক কাব্য-
প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন বলেই
এখনও তিনি যুগ প্রবর্তক কবি হিসেবে
স্বীকৃত । বিদ্রোহী কবি বলে
সমাধিক খ্যাত কবি নজরুলের মরমি
কবিতা, অসংখ্য গজল,গান, হামদ-
নাত, আজও পাঠক-শ্রোতাকে
সমভাবে আপ্লুত করে রাখে । কাজী
নজরুল যে বিশাল সাহিত্য ভান্ডার
রচনা করেছেন তার তুলনা বিরল ।
তিনি যে কত বড় কবি ও সাহিত্যিক
ছিলেন তা বলে শেষ করা যাবে না ।
কাজী নজরুলকে বলা হয় চেতনা ও
জাগরণের কবি।
বাংলা সাহিত্যে যার আবির্ভাব
ধূমকেতুর মতো তিনি হলেন আমাদের
জাতীয় কবি, নিপীড়িত মানুষের
কবি, বিদ্রোহী কবি, তারুণ্যের কবি
কাজী নজরুল ।
তিনি মুলত একজন কবি হলেও
সাহিত্যের সব স্হরে ছিলেন
সিদ্ধহস্ত ।
নজরুল শূধু শিল্পী-সূরকার, গীতিকার,
কবি, উপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক,
শিশুসাহিত্যিক, সম্পাদক ও
আপোষহীন সৈনিকই নন । তিনি
ছিলেন সেকালের শক্তিধর এক
কলমযোদ্ধা । তাঁর লিখনীতে ফুটে
ওঠেছে বিদ্রোহী মানুষের চাওয়া-
পাওয়া ।
কবি তাঁর ক্ষুরধার লিখনীর মাধ্যমে
অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারে বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ গড়ে তোলেন ।
যা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক
শক্তি ও তাদের অন্যায় ও
অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল বজ্রের
ন্যায় কঠিন,
'হীরার চেয়ে ধারালো ।
বাংলা সাহিত্যে কবি নজরুল
স্বপ্রতিভায় চির সমুজ্জ্বল।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ২৫ মে,
১৮৯৯ খৃষ্টাবদ্দ, ১১ জ্যৈষ্ট ১৩০৬
বাংলা জন্মগ্রহণ করেন ।
জন্মস্হান:
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান
জেলার আসানসোল মহকুমার চুড়ুলিয়া
গ্রামে ।
কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্প ও
গান-গজল সব শাখাতেই বিচরণ ছিল
কাজী নজরুল ইসলামের ।
কেবল গানই সৃষ্টি করেছেন
চারহাজারের কাছাকাছি ।
এত গান পৃথিবীতে আর কোন কবি-
গীতিকার লিখেছেন বলে আমাদের
কাছে জানা নেই ।
গান ছাড়াও রয়েছে তার অজস্র ছড়া-
কবিতা ।
লিখেছেন বেশ কিছু ছোট গল্প ও
উপন্যস ।
লেখালেখির পাশাপাশি সুর সৃষ্টি ও
সংগীত পরিচালনাও করেছেন তিনি
।
এমন কি চলচ্চিত্র পরিচালক, সুরকার,
গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও কাজ
করেছেন তিনি ।
নবযুগ, অর্থ সাপ্তাহিক, ধুমকেতু, লাঙল
ইত্যাদি পত্রিকার সম্পাদনার
দায়িত্ব ও পালন করেছেন ।
তিনি ছিলেন তৎকালীন যামানার
কাঁটাভরা দুর্গম পথের এক নির্ভীক
সাংবাদিকও ।
তিনি বড়দের জন্য লিখেছেন অনেক
অনেক প্রবন্ধ-গল্প ও কবিতা ।
তাই বলে নজরুল ছোটদের ভুলে
থাকেননি ।
নজরুল ছোটদের জন্য রেখে গেছেন
শিশুসাহিত্যের এক সুবিশাল
ভান্ডার ।
কবির রচনাবলি:
তাঁর অনেক অনেক গ্রন্থের মধ্যে
এখানে কয়েকটির নাম তুলে ধরা হল:
কাব্যগ্রন্হ: অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা,
বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়
শিখা, সিন্ধু-হিন্দোল, সর্বহারা,
জিঞ্জির ইত্যাদি ।
গানের গ্রন্হ: বুলবুল,চোখের চাতক,
বনগীতি,গানের মালা,চন্দ্রবিন্দু ।
শিশুতোষ: ঝিঙেফুল, সাত ভাই,
চম্পা, নতুন চাঁদ ।
উপন্যাস: বাঁধনহারা, কুহেলিকা,
মৃত্যুক্ষূধা ।
নাটক: ঝিলমিলি,আলেয়া, মধুমালা ।
প্রবন্ধগ্রন্হ:
যুগবাণী, রাজবন্দীর জবানবন্দী,
দুর্দিনের যাত্রী ইত্যাদি।
বড় হয়ে সাহিত্য চর্চায় নজরুল
ছোটদের ভুলে থাকেননি।লিখলেন
অনেক ছড়া- কবিতা নিম্নের
সংক্ষিপ্তভাবে ক'টির প্রথম ক'টি
লাইন উল্লেখ করা হলো ।
আমি হবো সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুমবাগে ওঠবো আমি
ডাকি ।
ভোর হলো দোর খোল খুকমনি ওঠরে
ঐ ডাকে জুঁই শাখে ফুল খুকি ছোটরে
বিদ্রোহী কবিতা:
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভুমে
রণিবে না
বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হবো শান্ত
প্রতিবাদী কবি:
কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙ্গে কররে
লোপাট
তিনি রচনা করেছেন ইসলামী
সংগিত ।
এমন কয়েকটি হলো:
বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা
শির উচুঁ করি মুসলমান
দাওয়াত এসেছে নয়াজামানার
ভাঙা কেল্লায় ওড়ে নিশান
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ
এলোরে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর আকাশ বাতাস
দেখবি যদি আয়
তোরা দেখে যা মা আমিনা মায়ের
কোলে
তোরা দেখে যা
মধু পূর্ণিমার সথা চাঁদও দোলে
শোন শোন ইয়া ইয়া ইয়ালাহী আমার
মোনাজাত
'ওমন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশীর ঈদ'
মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধাভরে কবিকে স্মরণ
করছি এবং তাঁর ত্রূটি-বিচ্যুতির জন্য
মহামহিমের দরবারে মাগফিরাত
কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা
কবিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম
দান করুন ।
এ,আর,কাওছার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

