
একটি দেশের যে কোন সমস্যায় সামনে এগিয়ে আসে সেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে হতে হয় বহুমুখী। শুধুমাত্র আমলা তৈরীর কারখানা যদি বিশ্ববিদ্যালয় হয় তাহলে দেশের দূর্দিন দেখার জন্য সোমালিয়া যাবার প্রয়োজন নেই। অপেক্ষা করুন এখানেই দেখতে পারবেন। গবেষণাকে যখন দ্রুত পদোন্নতির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয় তখন সেই গবেষণা যে ডিম ভাজি করার মত বিষয় নিয়ে হবে তা পাগলেও বুঝেন। বুঝে আসলেও বা কি। নিজের পেট ভরলে কি আর অন্যের চিন্তা মাথায় থাকে। দেশের ভালো মন্দ নিয়ে লেখার লোকের অভাব নেই। যে লোকটা দুইমিনিট আগে রাস্তার পাশে বসে পেশাব করে সেও পেশাবের দূর্গন্ধ নিয়ে দুই একটা প্রবন্ধ ছাপায় পত্রিকায়। বাসা বাড়িতে চাইলেই আমরা উচ্ছিষ্ট কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারি। রিসাইকেল করতে পারে অনেক জিনিস। অপচয় রোধ করা সম্ভব একটু সচেতন হলেই। কিন্তু সকাল বেলা ময়লার গাড়িতে তুলে দেই বালতি ভর্তি করা ময়লা আর ডাম্পিং এরিয়াতে ময়লার গন্ধে নাক চেপে ধরি আর বলি শালার দেশটা গোল্লায় গেল, ব্লা ব্লা ব্লা....।
প্রতিবছর বিশ্বের সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাতে ৮০০ এর পরে থাকে আমার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে পাশের দেশ ভারত এমনকি পাকিস্তানও অনেক এগিয়ে। আমরা বড়াই করি কাগুজে জিডিপি নিয়ে। গ্রাফ করে দেখাই ভারত আর পাকিস্তান থেকে আমরা কতটা এগিয়ে। কিন্তু বাস্তবতার যে পাশ্চাৎ দেশ দেখা যায় সে দিকে খেয়াল খুব একটা করি না।
বাংলাদেশে একজন ভার্সিটির লেকচারার পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন তিন বছরে। সেখানে আবার আজব শর্ত থাকে। তিন বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং তিনটি গবেষণা কর্ম। তিন বছরের মধ্যে তিনটি গবেষণা প্রকাশ করতে গিয়ে চুরি করবে না তো কি করবে বলুন! আর সেই দেশের ভার্সিটি যে তালিকায় স্থান পায় এটাই বা কম কিসে!
আমাদের টিকা লাগবে তাকিয়ে থাকি ভারতের, চীন, রাশিয়ার দিকে। পেয়াজ লাগবে তাকিয়ে থাকি ভারতের দিকে। কোন জিনিসটায় স্বয়ংসম্পূর্ণ আমরা? আছে এক পোশাক খাত! এই খাত কেন আছে তা আমরা অনেকেই বুঝি। যেই দেশগুলো গবেষণা করে টিকা আবিষ্কার করতে পারে, পারমানবিক বোমা বানাতে পারে তাদের পক্ষে গার্মেন্টস গড়ে তোলা খুব একটা যে কঠিন কর্ম নয় তা হিরো আলমও বোধহয় বুঝেন! বুঝি না শুধু কম দামে কামলা খাটা আমরা কামলারা। এত কম দামে শ্রম শুধু বাংলাদেশে আছে বলেই এই খাত চালানো সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করি। যে দিন অন্য দেশে বাংলাদেশের চাইতে শ্রম সস্তা হবে সেই দিন আর এই খাতও টিকে থাকার সম্ভাবনা নাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০২১ সকাল ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




