somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই পড়া- The Sorrows of Young Werther

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার জীবনে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা এই বই, জার্মান সাহিত্যিক ভন গেট্যের The Sorrows of Young Werther. “ফাউস্ত” এর পর নিঃসন্দেহে এটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ রচনা এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজিক গুলোর একটি।
বইটি পড়বার আগে শুনেছিলাম, এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর বইটি পড়ে সে সময়কার অসংখ্য জার্মান তরুন আত্মহত্যা করেছিলেন! যথার্থ শুনেছিলাম। উপন্যাসটি পড়ে আমাকেও একই অনুভূতি গ্রাস করেছিল। শুদ্ধ প্রেম করেও কেউ যদি তার ভালোবাসার সাক্ষাৎ না পান, তিনিও উপন্যাসের নায়ক, তরুন ভের্টরের সাথে নিজেকে একাত্ম করে ফেলবেন। এবং এ ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত।
কি অসাধারন একটি উপন্যাস! ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধ্যাবোধ, বিবেকের সাথে অন্তরের টানাপোড়ন আর সবশেষে মহৎ আদর্শের কাছে পরাজয় এবং আত্মত্যাগের এক অপূর্ব সংমিশ্রনে এ এক অসাধারন ত্রিভূজ প্রেমের ট্র্যাজিক উপ্যাখ্যান। ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মদর্শন, উপন্যাসটির গঠন, বর্ননার ধারা, কাহিনী এবং পরিনতি- সবকিছুই সত্যি অসাধারন, অতুলনীয়। ট্র্যাজিক হলেও এই উপন্যাসটি শেকসপিয়ার নাটক, “রোমি-জুলিয়েট” এর থেকে একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের, কোন কোন ক্ষেত্রে “রোমিও-জুলিয়েট”কেও ছাড়িয়ে যায়।
উপন্যাসটি যেই পড়ুন না কেন, ভের্টরকে অন্তরস্থল থেকে শ্রদ্ধ্যা করতেই হবে। উপন্যাসের পাতায় পাতায় পাঠককে ভের্টর শেখাবে পবিত্র ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ, ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধ্যাবোধ এবং পবিত্র প্রেমের জন্য মহৎ আত্মোৎসর্গ। উপন্যাসটি শেষ করবার পর এর রেশ দীর্ঘক্ষণ মনকে আচ্ছন্ন করে রাখবে, অতি আবেগপ্রবনেরা, অন্তত যাদের সাথে ভের্টরের শোকগাঁথা খানিকটা হলেও মিলে যাবে, তারা অশ্রসিক্ত না হয়ে পারবেনই না।
যারা উপন্যাসটি পড়েছেন তাঁরা আমার সাথে একমত হবেন। যারা এখনও পড়েন নি , যথাশীঘ্র পড়ে ফেলুন। নিঃসন্দেহে এটি আপনার জীবনে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হতে যাচ্ছে।
জার্মান জানলে জার্মান কপিটি সংগ্রহ করে পড়ুন, না হলে ইংরেজি সংস্করনটিই পড়া উত্তম। বাংলা অনুবাদও অনেক পাবেন, তবে ভালো অনুবাদ না হলে উপন্যাসের অনেকাংশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবেন।

লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×