somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বাস্তববাদী লেখকের গল্প

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে লোকটা ৷ গত কয়েকদিন ধরেই কেমন যেন একটু ধীর স্থির হয়ে গেছেন রহমান সাহেব ৷ আর সবার চোখে তেমন ধরা না পড়লেও রহমান সাহেবের স্ত্রী
ঠিকই লক্ষ করেছেন ব্যপারটা ৷
যে লোকটা বাসায় বাইরে সব জায়গতেই হৈ হুল্লোড় আর ছেলে মানুষী করত ঠিক সেই লোকটাই যেন দু'চার দিনে একদম বুড়ো মানুষ হয়ে গেছে ! এমন আচরন অবশ্য আরো দেখেছে মিসেস রহমান,কিন্তু এবার একটু বেশিই গম্ভীর মনে হচ্ছে তাকে ৷ এই গতবারও যখন একটা গল্প লিখা নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিল তখনও এতটা গম্ভীর মনে হয় নি ৷
-
আজও গত কয়েকদিনের রুটিন অনুযায়ী পার্কে হাটার সময়,অফিসে কাজের সময়,বিকেলে বাজার করে বাসায় ফেরার সময় কোন রকম কথা না বলে চারপাশে লক্ষ রেখেছেন রহমান সাহেব ৷ কিন্তু গল্প লিখার মত কোন রকমের কোন প্লটই তার মাথায় আসে নি ৷
টুকটাক লেখালেখির অভ্যেস আছে তার,তবে একেবারেই সখের বশে ৷ এই টুকিটাকি লেখালিখর মূল প্লট বা ধারনাগুলো তিনি তার আশেপাশের পরিবেশ থেকে নিতেই পছন্দ করেন ৷ আর একারনেই তিনি গল্প লেখার দু-তিন দিন আগে থেকে চারপাশটা গভীরভাবে লক্ষ রাখেন ৷
অন্যান্য সময় অবশ্য তার বাসার গেটের সামনে কেউ ময়লা ফেললেও তা দেখবার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি ৷ কিন্তু নতুন গল্পের প্লটের জন্য চারপাশটা লক্ষ রাখা খুবই জরূরী ! আর তা করতে গিয়েই বাসার গেটের সামনে ময়লা ভর্তি একটি ডাস্টবিন দেখতে
পেলেন তিনি ৷ ফলে মেজাজটাও বিগড়ে গেল, বাসায় পৌছে সময়মত চা না পেয়ে তো রিতিমত লঙ্কা কান্ড বাঁধিয়ে দিলেন.!
আসলে তারই বা কি দোষ,গত এক সপ্তাহেও নতুন কোন গল্পের প্লট মাথায় না আসায় কেমন যেন মাথাটা বিগড়ে যাচ্ছে তার ৷ এসব ভাবতে ভাবতেই বাসার সবার কাছে সরি বলে ছাঁদে গিয়ে চেয়ারে বসে আকাশ দেখতে দেখতে আবার ভাবতে বসলেন....
কি নিয়ে লিখবেন? দেশের বর্তমান সময় নিয়ে,না যত সব যুব অবক্ষয় নিয়ে,না পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নিয়ে,না কোন এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনা নিয়ে!?
অবশ্য এসব দূর্ঘটনা নিয়ে লিখতে গেলে চোখের সামনে কোন দূর্ঘটনা ঘটতে দেখা চাই ৷ যেমন গতবার মিছিলে গুলি লেগে একটি বাচ্চার গুলি লেগে মারা যেতে দেখেছিলেন তিনি৷ আর তার উপরে লেখা তার সমালোচনামূলক কলামটি বেশ সমাদৃতও হয়েছিল লেখক মহলে ঠিক তেমনই একটা প্লট চাই এবারকার গল্পটার জন্যে......
-
রাত দেড়টা বাজতে যাচ্ছে অথচ লোকটার কোন খোজ নাই! খাবার শেষে সেই যে ছাদে গেল আর আসার নাম নেই.! এদিকে সন্ধ্যাবেলায় রাগারাগি করেছে বলে ছোট ছেলেটাও কান্নাকাটি করতে করতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে ৷ লোকটা কি যে এত মজা পায় এসব লেখালেখি করে!
মিসেস রহমান তার এ লেখালেখির বিষয়টা মোটেও পছন্দ করেন না ৷ আসলে লেখালেখি পছন্দ করেন না বললে ভূল হবে ৷ কারন সেই ছোট্টবেলা থেকেই তো তিনি কোন গল্পের বই পেলেই গোগ্রাসে গিলতে শুরু করতেন। এমন কি তিনি মিসেস রহমানও হয়েছেন রহমান সাহেবের লেখার প্রেমে পড়ে..!!
কিন্তু তিনি লোকটার গল্পের নতুন কোন প্লটের জন্য চোখের সামনে কোন অন্যায়, নির্যাতন, দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেও নির্বিকারে সহ্য করে যাওয়ার অভ্যাসটাকে সহ্য করতে পারেন না ৷ এসব নিয়ে রহমান সাহেবের সাথে কথা বলতে চাইলেও বলতে পারেন নি তিনি ৷ যে বাস্তববাদী লেখকের লেখার প্রেমে পড়ে তার মিসেস হয়েছেন সে লেখাকে তিনি কিভাবে বন্ধ করতে বলবেন !? এসব ভাবতে ভাবতেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন
-
পরদিন খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল রহমান সাহেবের অনেকগুলো মানুষের চিৎকার চেচামেচিতে ৷ যদিও খুব রাত করে ঘুমানোয় অপরিপূর্ন ঘুম ভাঙ্গােনার জন্য বিরক্ত হওয়ার কথা ছিল তার ৷ কিন্তু হয়তো নতুন গল্পের কোন অসাধারন প্লট পেতে যাচ্ছেন বলে সবাইকে কাঁচা ঘুমভাঙ্গানোর অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ে পড়িমড়ি করে ছুটলেন ঘটনা কি দেখতে ৷
ঘটনা স্থলে পৌছেই তিনি বুঝলেন যে আজ তার জীবনের অন্যতম সেরা একটি গল্পের প্লট পেতে যাচ্ছেন ৷ তাই ভিড় ঠেলে ভিতরের দিকে আগাতে লাগলেন এবং ভিতরে পৌছে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বাস্তববাদী,সবচেয়ে অসাধারন গল্পের প্লটটা পেয়ে গেলেন !!
-
কিনতু তিনি তার জীবনের সেরা প্লটটিকে গল্পে রূপ দিতে পারেন নি ৷ কিভাবে পারবেন ? সেই ঘটনা যে তার জীবনে ধ্রুবকের মত সত্য ৷ নিজের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা কোন বাবাই বা গল্পের আকারে দেখতে চান ? কোন বাবার অন্তরই বা ক্ষতবিক্ষত হয় না এমন গল্প পড়ে,যেটা তার নিজ সন্তানের জীবনে ঘটে যাওয়া !? রহমান সাহেব এখন আর লেখালেখি করেন না ৷ নিজেকে প্রচন্ড ঘৃণা করেন সেই সাথে তার মত আর সকল লেখকদেরও....
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×