বাবা,
আমি যখন তোমাকে এই চিঠিটা লিখছি,তখন থেকে ঠিক ছয় হাজার ছয়’শ বাইশ দিন আগে তুমি আমাকে একা করে চলে গেছো। সংখ্যাগুলি লিখতে যত সহজ, তার ভেতরে জমে থাকা শূন্যতাটা বোঝানো ততটাই কঠিন।তোমাকে ছাড়া এই দীর্ঘ সময়ের প্রতিটি দিন টিকে থাকা আমার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ।
তুমি এমন এক ঠিকানায় চলে গেছো, যেখানে পৃথিবীর কোনো ডাকপিয়ন পৌঁছাতে পারে না। তবু তোমাকে চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে। খুব ইচ্ছে করে হলুদ খামে ভরে তোমার নাম লিখি, গোটা গোটা অক্ষরে ঠিকানা লিখি, ডাকটিকিট লাগাই, কোনো পুরোনো ডাকবাক্সে ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্তে বেড়িয়ে পরতে, বাবা তো আছেই। কিন্তু জানি চিঠিটা কখনোই তোমার হাতে পৌঁছাবে না। তবু লিখি, কারণ না লিখে থাকলে বুকের ভেতর জমে থাকা পাথর আরো ভারী হয়ে ওঠে।
আমার স্মৃতিতে তুমি আছো, আবার নেই। তোমার মুখটা মনে করতে গেলে চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। কণ্ঠস্বরটা মনে করার চেষ্টা করলে এক ধরনের নিস্তব্দতা আমাকে ঘিরে ধরে। যেন তুমি কোনো বাস্তব মানুষ নও, বরং বহুদিন আগে শোনা কোনো রূপকথার চরিত্র। এমন এক আশ্চর্য প্রদীপ, যার গল্পে হাজার আরব্য রজনী পার করা যায়।
আমার বন্ধুরা তাদের বাবাকে নিয়ে অসংখ্য গল্প বলতে পারে। তারা বলতে পারে বাবার হাত ধরে হাঁটার কথা, বকুনি খাওয়ার কথা, একসাথে হাসার কথা, কিংবা বিপদে বাবার বুকের আশ্রয়ের কথা। অথচ আমার কাছে বাবা মানে ছিল ক্রিসমাসের বুড়টার মত।এলে, আমাদের আনন্দে ভুলালে আবার পালিয়ে গেলে।ভিনি ভিডি ভিচি।
বাবা, আজো যখন হেটে যাই পেছন থেকে কে যেনো তোমার গলায় আমার নামটা ধরে ডাকে।সেই ডাক কে এড়িয়ে যাবার মতো শক্তি আমার থাকে না। ভয়ংকর ট্রাফিকের ভেতরেও আমি থমকে যাই, সময় তখন মহাশূন্যের মতো স্থির হয়ে যায় ।এক বুক হাহাকার নিয়ে আমি তোমায় খুজি।
তুমি যখন আমার ছোঁয়ার সিমানায় ছিলে তুমি ছাড়া ঈদ আর ঈদ হতো না সাধারন আর দশটা দিনের মতোই হত। এমন ঈদ আমি অসংখ্য কাটিয়েছি অথচ আজ তুমি নাই ঈদের দিন গুলো তার রঙ ঠিকি পায়, চারিদিকে আলো ঠিকি জ্বলে।
বাবা, একবার এসে আমাকে জড়িয়ে ধর।আমাকে কাঁদাও। আমি কাঁদতে চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


