somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কলিমুদ্দি দফাদার
“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কঠিন সময় টিকে থাকে না কিন্তু কঠিন মানুষ থাকে....

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১. দরিদ্র এক মহিলা, কোন এক ভাবে আম্মুর সাথে পরিচিত। সে যাইহোক, মহিলা কিছুটা কষ্ট করে ছেলেকে দুবাই পাঠায় ২০০৭-০৮ সালের দিকে। ছেলে কয়েক বছর দুবাই কাজ করে মনে হয় দালাল কে টাকা দেয় ইউরোপ যাবার। একদিন সকালে ঘুম ভাংগে এই মহিলার মরা কান্নার শব্দে। পড়ে শুনি তার ছেলেকে দালাল কোন এক দেশে  আটকায়ে আরো টাকার দাবি করতেছে। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে, ছেলে ও ফোনে সেই কান্নাকাটি, মারধোর, ক্ষুদার কষ্ট ইত্যাদি!  মহিলা দালালের নিকট অনেক কাকুতিমিনতি  করে বলে; বাবা আমি যেমনে পারি টাকা দিমু, আমার পোলারে আর মারিছ না ; দালালের ভাষ্য-

"মাগি!!! বাবা বাবা চোঁদাইস না"!
জ্বলদি টাকা না পাঠাইলে তোর পোলারে মাইরা লামু!

সেই মহিলা যার কাছে যা সম্ভব কিছু সাহায্য নিয়ে আর  একখন্ড জমি বিক্রি করে দালালকে টাকা পাঠিয়েছে। ছেলে মনে হয় পরবর্তীতে টার্কি, গ্রীস কয়েক দেশ হয়ে ইতালি আশ্রয় নিয়েছে।  দেশে এসে বিয়ে করে বউ নিয়ে গেছে বাচ্চা আছে; সেই মহিলা কে ও নাকি ইতালি নিয়ে ঘুরায়া আনছে।

২. আমার মেজো ভাইয়া গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে যুক্ত;  ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান তাঁদের কাছে আসে এক্সসারিজের কাজ নিতে। জ্ঞাতার্থে একটু বলে রাখি, একটি শার্ট, টিশার্ট, প্যান্ট এর সবকাজ গার্মেন্টসে একার পক্ষে সম্ভব না! প্রাইসট্যাগ, হ্যান্ডট্যাগ, লগো, স্টিকার, বাটন ইত্যাদি খুচরা কাজগুলো বিভিন্ন সাপ্লাইয়ার কে দিয়ে দেওয়া হয়।  আবার প্রাইজ কম বা কোয়ালিটি ভালো হলেই যে সেম্পল এ্যাপুভ করে এমনটি নয় বরং দীর্ঘদিনের জানাশোনা, পরিচিতি, রেফারেন্স, ট্রেক রেকর্ড, অন টাইম সাপ্লাই দেওয়ার মতো বিষয়গুলো দেখে গার্মেন্টস কাজ করতে পছন্দ করে।

এমন এক যুবক এক্সসারিজের মাল ডেলিভারি দিতে প্রায় গার্মেন্টসে আসতো; সে ছিল কোন এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দীর্ঘদিন গার্মেন্টসে যাতায়াতে ছেলেটির একটি ভালো লিংক আপ বা পরিচিতি হয়ে যায়। বয়সে তরুন, উদ্যোমী এক যুবক ; এরপর কিভাবে কিছু টাকা যোগার বা ধার-দেনা করে; সে কিছু পুরাতন চায়না এ্যানালগ মেশিন কিনে নিজেই ছোট একটি বাসায়  কারখানা দিয়ে হ্যান্ডট্যাগ উৎপাদন শুরু করে। যেহেতু ছেলেটি গার্মেন্ট লাইনে দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং ছোট একটি ওয়ার্ডার পেতে তার তেমন কষ্ট করতে হয়নি; আর‌ বড় প্রডাকশনের একটি ছোট ওয়ার্ডারের প্রফিট ৬-৭ ডিজিটের পর্যন্ত হয়ে থাকে‌। অথচ এই যুবক গ্রাম থেকে উঠে আসা তেমন শিক্ষিত বা পড়াশোনা জানা কেউ না; ঢাকায় অল্প বেতনে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করেছে।

দারিদ্র, কষ্ট, সংগ্রাম পুরুষ মানুষের অলংকার স্বরুপ। একজন পুরুষ যত বেশি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাবে সে ততই দৃঢ় আর শক্তি সঞ্চয় করে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সাহস পাবে । আর্থিক দৈন্যদশা বেঁচে থাকার সংগ্রাম মানুষকে ঝুঁকি নিতে শিখায়।‌ আর লক্ষ্যে স্থির করে কোন কিছুর পিছনে লেগে থাকলে কোন না কোনভাবে সফলতা আসবেই। এই কথাগুলো বাপ-চাচাদের মুখে শৈশবে অনেক শুনতাম কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এখন‌ একদম অন্তর থেকে অনুভব করি।

একটু ক্যাঁচাল দিয়ে শেষ করি! ব্যাবসায়ীক ঝুকির মতো রাজনৈতিক ঝুঁকিতে ও সফলতা আছে। কিন্তু শত বাধা চওড়া পেরিয়ে দৃঢ় চিত্তে লেগে থাকতে হবে। যার ঝুঁকি যত বেশি তার লাভের গুড় তত মিষ্টি। এনসিপির নেতৃবৃন্দের ৫ তারিখের ঝুঁকি আর দীর্ঘদিনের ক্ষুদা দারিদ্র্য সংগ্রামের সফলতা এখন নিয়োগ, চাঁদাবাজি, ট্রান্সফার বানিজ্যর মাধ্যমে সুফল ভোগ করছে, ওয়েস্টিনে হাঁস খাচ্ছে; অপরদিকে নুরু ও যুবলীগের নয়ন দীর্ঘদিন সরকার-ছাত্রলীগ দ্বারা নির্যাতন নিপীড়িত হয়ে এখন চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী করে বিপুল পরিমাণ টাকা কামাচ্ছে। ছাত্রলীগের যেই ছেলেটা নিউইয়র্কে ডিম মেরে কারাগারে থেকে জামিনে বের হয়েছে ; সে হয়তো লেগে থাকলে এর সুফল একদিন ভোগ করবে। কারন "every dog has its own day".....
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:০৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×