somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরের দর্শনে.....

১২ ই অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চীন, কোরিয়া,‌ জাপান এই তিন দেশের ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থা আমার কাছে খুবই জটিল মনে হয়। যেমন কনফুসিয়াসজম, সিন্টো, টাও, বৌদ্ধ, শ্যামান, নাস্তিক এতগুলো ধর্ম ও দর্শন এখনো বিদ্যামান। একজন মানুষ একাধারে কনফুসিয়াসজম দর্শনে অনুসরণ করতে পারে একই সাথে বৌদ্ধ ও শ্যামানিজম বিশ্বাস করতে পারে। এর কোনটি ই একটির সাথে আরেকটি সাংঘর্ষিক না। কি অদ্ভুত তাই না!

বর্তমানে সমাজ ব্যবস্থায় এই দেশগুলো তে ধর্মের উপস্থিতি একদমই কম। হয়তো এইজন্য দেশগুলো এতো উন্নত! কাজ, যৌন্যতা এবং মদ এটাই তাদের ধর্ম; এটা আমার ব্যাক্তিগত উপলব্ধি।



সিউলের মধ্যে যুগে নির্মিত প্রসিদ্ধ একটি বৌদ্ধ মন্দির দেখার সুযোগ হয়েছিল একবার। এক শীতের সন্ধ্যায় ইচ্ছে হলো ঈশ্বর কে দেখার; ঈশ্বর অবশ্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের। কোরিয়ান প্রাচীনকালে নির্মিত কাঠের প্রাসাদ, মন্দির আর্কিটেকচারের খুবই ভক্ত আমি। মন্দিরটি এভাবে ই নির্মিত সাথে এখন আধুনিকতার ছোঁয়া আরো বেশি ভালো লাগে।




সন্ধ্যায় মন্দিরে প্রবেশ করায় ওয়ার্ম লাইট আর আলোকসজ্জা এতো সুন্দর একটা পরিবেশ আর স্বর্গীয় একটা অনুভুতি দিচ্ছিল।‌ এর আগে ও প্রথম রাঙামাটি বৌদ্ধবিহার এক বিকালে ছিলাম। সেটি ও অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বৌদ্ধ ধর্ম ও মনে হয় একদা শান্তির ধর্ম‌ ছিল, বুদ্ধ বলতেন "সকল জীবে দয়া করো"


অন্যান্য সব বৌদ্ধ মন্দিরের মতো সেখানে ও মানুষ মোমবাতি জ্বালায়, আগরবাতি ধরায়। আগরবাতি জিনিসখান মনে হয় সকল ধর্মের মানুষের কাছে প্রিয় ও আধ্যাত্মিক কোন বস্তু। যে কোন ধর্ম সত্যি হলেই আগরবাতি অবশ্যই পরকালে বেহেশতে, স্বর্গ বা হেভেনে যাবে; তার কোন চিন্তা নাই।



গাছের নিচে আলোকসজ্জা সাথে মন্দির ঘন্টা এবং প্রাচীন কোরিয়ার বিশ্বাস দৈত্য-দানবের ছবি গুলো বেশ সুন্দর। শীতের প্রকোপ বেশি‌ থাকায় একটু পড় গিয়ে ঢুকলাম মন্দিরের। পাশাপাশি গোল্ডেন‌ কালারের বিশাল তিনটা বুদ্ধের মূর্তি‌ প্রথম ছবি। কিছু কোরিয়ান সাদা মৌজা পড়া বসে বসে কিছু একটা পড়ছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান গ্রন্থ মনে হয় ত্রিপিটক যা পালি ভাষায় লিখা। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জীবন আচার খুবই সুন্দর। জীবনের মোহ-মায়া ত্যাগ করে তারা মাথা ন্যাড়া করে, অহংকার যাতে না আসে সেজন্য ভিক্ষাবৃত্তি করে খায়। ভিক্ষুদের সাথে যেয়ে কিছুদিন থাকার থাকার ইচ্ছে আছে দুনিয়ায় মোহ-মায়া ত্যাগ করে। যাক মন্দিরের ভিতরটা উষ্ণ আর আরামদায়ক সিট থাকায় আমি ছিলাম আরো কিছুক্ষণ।

ঈশ্বর দর্শনের সময়কাল ২০১৬।
ছবি: আইফোন ৬ তাই ফোকাস, ব্রাইটনেস কিছুটা এলোমেলো।
প্রথমটি বাদে সবগুলোই নিজের তোলা।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১:৫৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাহমান কলমের সাহায্যে কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দিয়ে থাকেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×