somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কলিমুদ্দি দফাদার
“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার দায়ই বেশি। যারা কিছুটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন, তারা জানেন— কাটমানি দুর্নীতি, রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব, এবং মমতার উদ্ধত কথাবার্তার কারণে টিএমসি এবার পশ্চিমবঙ্গবাসীর মন রক্ষা করতে পারেনি। ২০০৮ সালে কৃষকদের জমি রক্ষা এবং রাজ্য থেকে টাটাকে বিদায় করে যে মমতা বাহবা কুড়িয়েছিলেন, সেই তাকেই আজ এক যুগ পর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পে পিছিয়ে পড়ার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।

মির্জা গালিব তাঁর চিঠি ও কবিতায় কলকাতার প্রশংসা করেছিলেন এবং আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, “যদি অবিবাহিত হতাম, তবে সবকিছু ছেড়ে এই কলকাতারই হয়ে যেতাম।” এক সময়ের যে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী, শিল্প-সাহিত্য ও জ্ঞানী-গুণীর তীর্থভূমি— যে বাংলার জনসাধারণের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতা বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুলের মতো মনীষীদের জন্ম দিয়েছিল— আজ সেই বাংলায় সাম্প্রদায়িক শক্তির থাবা স্পষ্ট। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছিল বাম রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং সাম্প্রদায়িক হিংসার ঊর্ধ্বে।

প্রতিবেশী দেশে হিন্দুত্ববাদীদের এই আকস্মিক উত্থানে আপাতত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তেমন কোনো আশঙ্কা দেখছি না। তবে বিজেপি যেহেতু সাম্প্রদায়িক শক্তি, তাই মুসলিমবিদ্বেষ ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে। পাশাপাশি হিন্দু ভোটব্যাংকের ক্ষোভ প্রশমনে ছোটখাটো ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনাও দেখা যেতে পারে, যা সীমান্তে বাংলাদেশকে চাপে রাখবে।

তবে এত কিছুর পরও ভারতীয় গণতন্ত্র, সর্বোপরি আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থা, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। অশিক্ষা ও জাত-পাতভিত্তিক বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ভারতের নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অনেকটাই দলীয় প্রভাবমুক্ত। ১/১১, সামরিক হস্তক্ষেপ, ডিপ স্টেট, ভুয়া ভোটার সংযুক্তি, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, সমঝোতা, ভাগ-বাটোয়ারা কিংবা আন্দোলন-সহিংসতার মাধ্যমে ভারতীয় বিধানসভা বা লোকসভায় ক্ষমতার পালাবদল হয় না। আবার নির্বাচনী ফলাফলের পর বয়কট, কারচুপি, হরতাল বা জ্বালাও-পোড়াও করে দেশ অচল করে দেওয়ার নজিরও খুব কম। দেশের সংকটকালীন বা জরুরি মুহূর্তে রাজনৈতিক দল-মত নির্বিশেষে একত্রে আলোচনায় বসে সমাধানের পথ খোঁজা হয়। ভারতীয় এমএলএ, মন্ত্রী কিংবা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জনগণের ট্যাক্স ও সরকারি ভর্তুকির টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি, সরকারী খরচে লাক্সারি বাড়ি , বিদেশে চিকিৎসা বা অর্থ পাচারের নজির তুলনামূলকভাবে কম। বরং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এখনো অনেক সময় সেই ব্রিটিশ আমলের অ্যাম্বাসেডর গাড়িও দেখা যায়। বারবার গণতন্ত্রে হোঁচট খাওয়া এবং আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রাণ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে ভারতীয় শাসনব্যবস্থা একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হতে পারে।

ছবি: প্রিন্টারেষ্ট।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৩১
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×