somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা বড়ই অসহায় ভাই!!

১০ ই নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




দায়বদ্ধতা… ছোট্ট একটি শব্দ…কিন্তু এর মর্মার্থ অতি ব্যাপক, বিশেষ করে বাংলাদেশ এর ক্ষেত্রে… বাংলাদেশ আজ যে ধারায় চলছে, যে পথে চলছে, যেভাবে চলছে, তাতে আমরা কেউই সন্তুষ্ট নই, কেবল এক শ্রেণীর দলান্ধ দালাল ছাড়া… আপনি নিজেই হয়তো বুঝতে পারবেন কেন আমি কথাগুলো বলছি… ডাক্তারের কাছে যান চিকিৎসা নিতে, ডাক্তার আপনাকে ঔষধ লিখে দিবে, প্রেসক্রিপশন দেবে, টেস্ট করতে দেবে আরও কতো কি… যাই হোক, আপনি পুরো সুস্থ হলেন কি হলেন না তাতে কিন্তু ডাক্তারের তেমন কিছু আসে যায়না… উল্টো আপনি সুস্থ না হলে তিনি হয়তো আপনাকেই দোষারোপ করে বসবেন কাহিনীর গভীরে না যেয়ে… কারণ কি? দায়বদ্ধতা… ঐ ডাক্তারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই যে আপনাকে ঔষধপত্র ঠিকমতো খাইয়ে পরিয়ে আপনাকে তিনি সুস্থ করে তুলবেন … যেমন করেই হোক… এবং এইরকম কেইস বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হাজারে হাজারে পাবেন… বাজারে যান… দোকান থেকে জিনিষ কেনেন… জিনিষ ভালো না মন্দ, পুরান না নতুন এটা সত্যিকার অর্থে দোকানির জানা থাকুক বা না থাকুক তিনি একরকম করে একটা বলে দেবেন আপনাকে… আপনি বা আমি সেটাই বিশ্বাস করে কিনতে একপ্রকার বাধ্যই বলা চলে… আসলে আমাদেরও জানার উপায় নেই যা নিচ্ছি সেটা কতোখানি মানসম্মত… আমরা যারা কমার্স লাইনে পড়াশোনা করে এসেছি তাদের একটা জিনিষ পড়তে হয়েছে, সেটা হলো গুডউইল, ব্যবসা বাণিজ্য করতে হলে গুডউইল থাকতে হয়… এই জিনিষটার অভাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চরমভাবে প্রকট… যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছে তাদের মধ্যে এই গুডউইলের অভাবটা চরম… কারণ কি? ঐ যে বললাম দায়বদ্ধতা … ঐসমস্ত উৎপাদক ব্যবসায়ীদের এমন কোনও দায়বদ্ধতা নেই যে আপনাকে ভালো জিনিষটা তাদের দিতেই হবে… তাদের মুনাফা করলেই হল … আপনি মরলেন না বাঁচলেন তাতে সত্যিকার অর্থে তাদের কিছুই যায় আসেনা… আপনি শিক্ষা-দীক্ষার জন্য ইউনিভারসিটিতে যাবেন? তাদের ডিগ্রীর কোনও ভ্যালু আছে? … হাতে গোণা দু একটা ছাড়া যে নেই সেটা আমরা সবাই জানি… কথা হচ্ছে ভাই, ভার্সিটিগুলোর কিন্তু কোনও দায়বদ্ধতা নেই যে আপনাকে একটি ভালো মানের ডিগ্রী পাইয়ে দিতে হবে, তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই আপনাকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে… … ইউনিভার্সিটি রেগুলেটরি কমিশনের কোনও দায়বদ্ধতা নেই যে ইউনিভার্সিটিগুলো যাতে মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। যাই হোক, কথা হচ্ছে, এরকম শত সহস্র উদাহরণ দেয়া যাবে যেগুলোর মর্মার্থ এটাই প্রমাণ করে যে এদেশে আসলে কারোর কোনও দায়বদ্ধতা নেই..... তাদের মুনাফা করলেই হল।
এবার আসেন সাম্প্রতিক হট টপিক নিয়া … হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি…পরিবহণ মালিকদের এমন কোনও দায় নেই যে আপনাকে তারা যথোপযুক্ত সেবা দিতে দায়বদ্ধ, এট লিস্ট, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে… দেখেন ভাই, পরিবহণ সেক্টর এমনিতেই একটা লুটপাটের সেক্টর … তার উপর অতি প্রকট দায়বদ্ধতাহীনতার সংস্কৃতি … দেশের বিশেষ করে ঢাকা শহরের একটা বড় অংশের গাড়ি চলে গ্যাসে… তেলে নয়… আমরা প্রায় সবাই একথা জানি… এখন এই সেক্টরে বাস মালিক সমিতির লুণ্ঠন এতোটাই বেশী যে তারা আপনাকে সামনা সামনি গ্যাসের গাড়ি দেখিয়েও তাকে তেলের গাড়ি বলতে বাধ্য করতে পারে… ক্ষমতা, ক্ষমতার তাগদ মানুষকে অতিমাত্রায় দায়বদ্ধতাহীন করে তোলে, বিবেকের বানী আর ধর্মের কথা সেখানে উপহাসের মতো শোনায়… আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ তার একটি অনন্য উদাহরণ… আর মাথার উপর বসে থাকা সরকার বাহাদুরের কথা আর নতুন করে কি বলবো? আপনারা সবই তো জানেন এবং বোঝেন (যারা সরকার সমর্থক তারা বাদে) … কারই বা কিসের দায়বদ্ধতা আছে?
মাইকেল জ্যাকসনের সেই বিখ্যাত “এবাউট আস” গানটার লাইনটা মনে পড়ে যায়… “all I wanna say is that they don’t really care about us.”

ইয়ে, না মানে, আমরা বড়ই অসহায় ভাই!!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:০০
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৪৫

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাহিক জীবনে পঞ্জিকা একটি অপরিহার্য বিষয়। তাদের পুজো, বার-তিথি-নক্ষত্র দেখা ছাড়াও পঞ্জিকার গুরুত্ব আছে বাংলা সাহিত্যে। আমার মতে, পঞ্জিকার মতো নির্মল হাস্যরসের ভাণ্ডার বাংলা সাহিত্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা লেখা, কবি হওয়া ও নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা

লিখেছেন নীল আকাশ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৫০



কবিতা লেখা একটা গুণ। একটা বিশেষ গুণ। ইচ্ছে করলেই সবাই কবিতা লিখতে পারে না। কবিতা লেখার জন্য বুকের ভিতরে ‘কবি কবি’ একটা মন থাকতে হয়। বাংলা সাহিত্যে বহু বছর ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×