somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ কুতুব
মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

জাতীয় পার্টির শনিবারের সমাবেশ হতে না দেওয়ার ঘোষণা ছাত্রসমাজের!

০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামীকাল জাতীয় পার্টি ( এরশাদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। জি এম কাদের সংবাদ মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। গতকাল রাতে জাতীয় পার্টি এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজের মধ্যে মারামারি হয়। জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো বেইমান এবং গাদ্দার পার্টি হিসাবে বিবেচিত হবে। আওয়ামী লীগের সকল প্রকার ইলেকশন কারচুপির প্রধান সহযোগী এই জাতীয় পার্টি। এই পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশে জোর করে শাসন ক্ষমতা দখল করেছিল।। বাংলাদেশের অনেকে এই দল কে ভারতের ' র ' দ্বারা প্রতিষ্ঠিত B টিম বলে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়ার লোভে এরা ক্ষমতায় গিয়েছিল।২০১৪ সালে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের অসুস্থ নাটক সবার জানা। বিরোধী দল হিসাবে দিনে সরকারের সমালোচনা করলেও রাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বসে এক সাথে মদ খেতো। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর জাতীয় পার্টি গিরগিটির মতো রঙ বদলায়।তারা বলতে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের জন্য রাস্তায় তারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। এই সুযোগ সন্ধানী দল ইন্ট্রাম সরকার গঠনের সময় তাদের মতামত প্রকাশের জন্য মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুল এবং ছাত্রদের সাথে মিটিংয়ে অংশ নেয়।

বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় পার্টি কে তেমন গুরুত্ব দেয় না। তাই ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর কেউ জাতীয় পার্টি নিয়ে তেমন ক্ষোভ প্রকাশ করেনি।তবে বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয় সো কল্ড ইনফ্লুয়েন্সার রা শুরু থেকেই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে জনগণ কে জাগ্রত করার কাজ চালিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম ইন্ট্রাম সরকার কে হুশিয়ারি দেয় যাতে জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিক সংলাপে না ডাকে। সারজিস আলম আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির বাংলাদেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী জানায়। এতে জাতীয় পার্টির অসৎ নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। কারণ জাতীয় পার্টি সব সময় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। সাধারণত জাতীয় পার্টি রংপুর বিভাগ ছাড়া কোথাও তেমন সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই। এরই মাঝে নিউজ আসে বৈষম্য বিরোধী দুইজন ছাত্র নেতা সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ রংপুরে একটি ছাত্র সমাবেশে বক্তৃতা রাখবেন বলে জানা যায়। এই খবর শুনে রংপুরে জাতীয় পার্টি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল করে। মিছিল থেকে সারজিস আলম এবং হাসনাত কে রংপুরে নিষিদ্ধ করা হয়। বাধার মুখে হাসনাত আব্দুল্লাহ রংপুরে না গেলেও সারজিস আলম রংপুরে পুলিশ আইজির অনুষ্ঠানে যায়। সারজিস আলম সে অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে। সারজিস আলম জাতীয় পার্টিকে স্টুডেন্ট দের পাওয়ার দেখানোর হুমকি দেয়।
ছাত্র এবং জাতীয় পার্টির পরস্পর বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলনের পরিণতি ঘটলো গতকাল মারামারির মধ্য দিয়ে।
মূলত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামক অরাজনৈতিক দলটির দেশে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সারজিস আলম প্রচন্ড চাপের মুখে রংপুর থেকে তড়িঘড়ি করে চলে আসে। দলটির সদস্যরা ভয় পাওয়া শুরু করেছে।এইভাবে রংপুর থেকে চলে আসার বিষয় টি কেউ ভালোভাবে নেয়নি। আবার রংপুরে আগের মতো ছাত্র জনতার সমাবেশ করার মতো লোক পাওয়া যাবে না বিধায় সারজিস আলম গং ঢাকাতে জাতীয় পার্টি কে ধোলাই করে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটায়।
বিভিন্ন আওয়ামী সমর্থিত সোশ্যাল ইনফ্লয়েন্সার রা এই হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা চেষ্টা করছে।তারা পাবলিক কে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আজকে জাতীয় পার্টির উপর হামলা হইসে কাল অন্য দলের উপর হামলা হবে।সমন্বয়ক দের রুখে দাও। ইউনূস সরকারের পতন হওয়া জরুরি। ইউনূস সরকারের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। সব দলের অধিকার আছে রাজনীতি করার!

এসব সো কল্ড ইনফ্লুয়েন্সার রা বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের পাতানো খেলায় অংশগ্রহণ করে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তা ভুলে গিয়েছেন। অন্যদিকে সমন্বয়করা তাদের গুরু মাওলানা পিনাকী দ্বারা ইনফ্লয়েন্স হয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। মাওলানা পিনাকী বর্তমানে সমন্বয়ক দের নতুন তাত্ত্বিক লিডার। মাওলানা পিনাকী যা বলবেন সমন্বয়ক রা তাই করবে। মগজ খাটানোর চেষ্টা তারা করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ রাত ৯:১৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×