somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে আমাদের কি লাভ হইলো?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ বাংলাদেশে বিজয় দিবস পালিত হবে। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাক হানাদার বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে আত্নসমর্পণ করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্নপ্রকাশ করে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের শোষণ, বঞ্চনা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে এক বিশাল সংখ্যক বাঙালি পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলন যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক জান্তা নিরীহ মানুষের উপর গণহত্যা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো পূর্ব পাকিস্তানের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়া। তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে গেলে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশও স্বাধীন হওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানের সংগ্রামী নেতারা পশ্চিম পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র টের পেয়ে বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে বলেন। তন্মোধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের কথা না বললেই নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে যার এক ডাকে বাংলাদেশ অংশের বিরাট সংখ্যক মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ এবং নয় মাস যুদ্ধের পর অসংখ্য মানুষের আত্নত্যাগের বিনিময়ে আমরা পাই একটি নতুন পতাকা, নতুন দেশ যার নাম রাখা হয় বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক অদক্ষতা ও ক্ষমতা দখলের নোংরা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মানুষের যে আশা আকাঙ্খা ছিলো তা ক্রমেই মলিন হয়ে যায়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো ১৯৭১ সাল পরবর্তী সঠিক ভাবে বিচার না হওয়ায় এবং আত্নগোপনে চলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ১৯৭২ সাল থেকেই এই স্বাধীনতা বিরোধিরা শেখ মুজিবের শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করে। তারা বলতে থাকে স্বাধীন হয়ে কি লাভ হইলো, আগেই ভালো ছিলাম, ভারত আমাদের শোষণ করছে, পাকিস্তান আমাদের ধর্মের ভাই ইত্যাদি। রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়াতে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের বাংলাদেশ আলাদা হওয়া ভুল ছিলো এই প্রচার স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও চালু রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে কি বাংলাদেশের কোন লাভ হয় নি?

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। পাকিস্তানের ভাগ্যে বারবার সামরিক শাসন জুটেছে। সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ পাকিস্তানকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা সব সময় চেয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কথায় চলুক, দেশের de-facto ক্ষমতায় তারা থাকবেন। তাছাড়া পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সে জন্য জাতিগত বিভেদ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এসব সহিংসতায় মানুষ মরছে প্রতিদিন। সেনাবাহিনী ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে তাদের নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দক্ষ নেতৃত্ব না থাকায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন চরমপন্থী গ্রুপ সৃষ্টি করে বিভিন্ন মতের নিরীহ মানুষকে মারছে, মসজিদে হামলা করে মারছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করে শিশুদের হত্যা করছে। এসব কিছুর মূলেই রয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সঠিক ভাবে চিন্তা না করতে পারে, শিক্ষা না পায়। এসব রাজনৈতিক অস্থিরতায় পাকিস্তানে অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ যদি স্বাধীন না হইতো এসব কারসাজি পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বাংলাদেশের সাথেও ঘটাতো।

পাকিস্তান বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৭-৯ বিলিয়ন ডলার অন্যদিকে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৩৭% অন্যদিকে বাংলাদেশের ৩.৯২%। বাংলাদেশের এক টাকায় পাকিস্তান প্রায় আড়াই টাকার সমান। পাকিস্তানের বৈদিশিক ঋণের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার! অবস্থা কারোই সুবিধাজনক নয় কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি পাকিস্তানের তুলনায় সচল ও বৈদিশিক ঋণ সঠিক সময়ে পরিশোধ করার সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের তুলনায় বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশেও আছে তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কিছু সময় চলমান থাকায় অর্থনীতি পাকিস্তানের তুলনায় অবস্থা ভালো। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের মানুষের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কম দামে কিনে খেতে পারছে। পাকিস্তানে আটার কেজি ৮০০ রুপি, সিলিন্ডার গ্যাস ৩৩০০ টাকা এবং মূল্যস্ফীতি গড়ে ১৫-২০ শতাংশ! অন্যদিকে বাংলাদেশের আটার কেজি ৪৫ টাকা, গ্যাস সিলিন্ডার ১৫০০ টাকা এবং গড়ে মূল্যস্ফীতি ৮-১০ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় পাকিস্তান থেকে উন্নত।

পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ এসব কারণে পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চায়। বিশেষত বেলুচিস্তানের কথা না বললেই নয়। বেলুচি দের অভিযোগ পাকিস্তান তাদের প্রদেশের সব আয় পাকিস্তান সরকার নিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রদেশের কোন উন্নয়ন করা হচ্ছে না। ঠিক যেন বাংলাদেশের মতো অবস্থা। পাকিস্তান সামরিক জান্তা বেলুচি দমনের জন্য প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। আবার খাইবার-পখতুন ও কাশ্মীর নিয়েও সমস্যা রয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্য যে তারা পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থরাষ্ট্রের অংশ হিসাবে থাকতে হয় নি। আর তার পিছনে সবচাইতে যাদের অবদান বেশি তারা হইলেন বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক এবং ছাত্রদের সম্মিলিত জোটের সমর যুদ্ধে অংশ নেয়া। তারা আমাদের জাতির সূর্য সন্তান। তাদের কারণেই আমরা পেলাম একটি নতুন পতাকা, নতুন দেশ বাংলাদেশ! ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সে সব মহান বিপ্লবীদের জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করি যাতে তাদের কাজের উত্তম প্রতিদান তারা পান।

জয় বাংলা, জয় ছাত্রজনতা !
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:০০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×