
একজন রাজাকার চিরকাল রাজাকার কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা আজীবন মুক্তিযোদ্ধা নয় - হুমায়ুন আজাদের ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি হতে চলেছে। বিএনপি থেকে ৫ বার বহিস্কৃত নেতা মেজর আখতারুজ্জামান। আপাদমস্তক টাউট বাটপার একজন লোক যে কিনা একবার বলেছিলেন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নেত্রী। এই লোক কিছুদিন আগে আরেক আওয়ামী দালাল ইউটিউবার পান্নার মানচিত্র চ্যানেলে দাবী করেছেন খালেদা জিয়া গত ২৮শে নভেম্বর মারা গিয়েছে। একই ব্যক্তি জুলাই আন্দোলন কে রাজাকারের আন্দোলন বলেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এরকম টাউট লোককে দলে ভিড়িয়েছে।
জামায়াত থেকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে তিনি নমিনেশন পেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি একাধিকবার মানচিত্র নামক ইউটিউব চ্যানেলে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জামায়াতে যোগদানের পূর্বে কিছুদিন আগেও বলেছিলেন যে জামাত-শিবির রগকাটা ও সসন্ত্রাসী দল। বিএনপির উচিত সকল গুপ্তদের খুজে বের করে দেয়া! এই লোক আজকেও ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রে বলেছেন: তিনি মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে রাজাকার হিসাবে বেশি গর্ববোধ করবেন। তারেক রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে এরকম ভুয়া তথ্য বলায় প্রতিবাদ স্বরুপ তিনি পদত্যাগ করেছেন।
মেজর আখতারুজ্জামানকে বিশাল টাকার বিনিময়ে খরিদ করে নিলো জামায়াতে ইসলামী। কারণ তাদের দলে মুক্তিযোদ্ধার অভাব রয়েছে। একদিকে সারাদিন জামাতি মানসিকতার মানুষ সবখানে বলে বেড়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর পাবলিক খায় না অন্যদিকে সুযোগ পেলে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দাবি করে। জামায়াত কে অনেক আগেই ফরহাদ মজহার বলেছিলেন যে দলের নাম পরিবর্তন করতে কিন্তু জামাত সেই পথে বা হেটে মুক্তিযোদ্ধাদের (ভুয়া) কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে জাল সারটিফিকেট বানিয়ে জামায়াত থেকে হাজারে হাজারে মুক্তিযোদ্ধা বের হলেও অবাক হচ্ছি না। জামাতের চোখে একাত্তর জেনারেশন নিকৃষ্ট কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা উৎকৃষ্ট !
বাংলাদেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টির পিছনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের হাত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ যখন ছিলাম তখন আমাদের পাশের বাসার একজন ৭০ এর অধিক প্রবীণ হঠাৎ করেই মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। তিনি এখন ভাতা পান, পরিবারের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি পেয়েছেন। অথচ গত বিশ বছরে এলাকার লোকজন তাকে জমির দালাল হিসাবে চিনতো। এরকম খুজে খুজে ৫ হাজার লোক জামায়াত তার দলে ভিড়াতে পারলে হয়তো তাদের হীনমন্যতায় ভুগতে হবে না।
সাল ২০১৩ ! শাহবাগ তখন উত্তাল: তখন আমি ইশকুলের ছাত্র ! একে একে ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। সে সময় ফেনী সোনাগাজী গিয়েছিলাম ছোটো মামার সাথে এক আত্নীয়ের বাড়িতে। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে পরিচয় হয়েছিলো যিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমরা বেশ অবাক হয়েছিলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে জামায়াতে যোগ দিতে পারেন? তাই মেজর আখতারুজ্জামানের কেইস আমায় একটুও অবাক করেনি।
সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীকের কর্মকান্ডে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর, স্মৃতিময় স্থান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আছে বিগত এক/দেড় বছর কিন্তু তিনি কোনো দৃশ্যমান সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন এমনটি চোখে পড়েনি। অথচ চিটাগাং যে বিজয় মেলা হয় তার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ফারুক-ই-আজমের। আসলেই মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায় !


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

