somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকে ট্রাম্পের মন ভালো নেই

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যুক্তরাষ্ট্রের U.S. Supreme Court এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে যে প্রেসিডেন্ট Donald Trump জাতীয় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) বসিয়েছিলেন, তা তার আইনি ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত ৬–৩ ভোটে এই সিদ্ধান্ত দেয়। মূল প্রশ্ন ছিল—১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (IEEPA) নামের আইনটি কি প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ট্যারিফ বসানোর ক্ষমতা দেয়? আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, দেয় না।

এই আইনের উদ্দেশ্য মূলত ছিল বিদেশি হুমকি বা জরুরি পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা, যেমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা সম্পদ জব্দ করা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা বিস্তৃত করে এটিকে ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে পণ্যের ওপর বড় আকারের শুল্ক বসায়। আদালত বলেছে, ট্যারিফ নির্ধারণের সাংবিধানিক ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে। প্রেসিডেন্ট জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু শুল্ক আরোপ করা আলাদা বিষয়, এবং এর জন্য স্পষ্ট আইনি অনুমোদন দরকার।

রায়ের মূল যুক্তি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি John Roberts। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক ক্ষমতা দাবি করেছিল যা “সীমাহীন”— অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে যেকোনো পরিমাণ, যেকোনো সময় এবং যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক বসাতে পারবেন। কিন্তু আদালতের মতে, কোনো আইনেই এমন ক্ষমতার কথা বলা নেই। তাই IEEPA ব্যবহার করে ট্যারিফ বসানো সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের দেওয়া সব ট্যারিফ বাতিল হয়নি, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শ্রেণির শুল্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রথমত, “reciprocal tariffs” নামে পরিচিত দেশভিত্তিক শুল্ক—যেখানে বিভিন্ন দেশের ওপর আলাদা হারে শুল্ক বসানো হয়েছিল, যেমন চীনের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি এবং অন্যান্য দেশের ওপর প্রায় ১০ শতাংশ। দ্বিতীয়ত, মাদক ফেন্টানিল পাচার ঠেকানোর অজুহাতে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের কিছু পণ্যের ওপর বসানো ২৫ শতাংশ শুল্কও এই রায়ের আওতায় পড়ে গেছে। তবে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো কিছু ট্যারিফ অন্য আইনে দেওয়া হয়েছিল, তাই সেগুলো বহাল থাকবে।

এই ট্যারিফের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করেছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে—যেসব আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই টাকা দিয়েছে তারা কি ফেরত পাবে? আদালত সরাসরি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে ইতিমধ্যে শত শত কোম্পানি মামলা করেছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, এই শুল্ক ছিল অপ্রত্যাশিত, অস্থির এবং ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। আদালতের রায় তাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে এসেছে।

এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিরল আইনি ধাক্কা, কারণ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণত রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন এবং জানান তার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের একতরফা অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর বড় সীমা টেনে দিল এবং বাণিজ্য নীতিতে কংগ্রেসের ভূমিকা আবার স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।

বলে রাখা ভালো: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ৩৭% "reciprocal tariff" ছিল সেটা IEEPA-র আওতায় করা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় এই reciprocal tariff সরাসরি বাতিল করেছে। বাংলাদেশ যে হুমকির ভয়ে চুক্তিতে সই করল, সেই হুমকিটা এখন আর নেই। ট্রাম্প চাইলে Trade Expansion Act বা Section 301 ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ এবং সীমিত । হুমকি পুরোপুরি শেষ না, তবে এখন অনেক দুর্বল।


Click This Link





সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×