somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের একমাত্র দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল হলো জামায়াত

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি দীর্ঘদিন ধরে ভাবছিলাম, এই দেশে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কোনো রাজনৈতিক দল আছে কিনা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর, অনেক গভীর চিন্তার পর, আমি অবশেষে উত্তর পেয়েছি। সেই দল হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এবং আমি এটা বলছি সম্পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে কারণ এমন একটি দল পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা এত সুনিপুণভাবে, এত দক্ষতায়, এত নিখুঁত অভিনয়ে দেশপ্রেম পরিবেশন করতে পারে।

১৯৭১ সাল থেকেই শুরু করা যাক। যখন এই দেশের মানুষ খালি হাতে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কিনছিল, জামায়াত তখন ঘরে বসে ছিল না — না, মোটেই না। তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিল। অবশ্য কোন মাঠে ছিল, কোন পক্ষে ছিল সেটা বলতে একটু সংকোচ লাগছে। তবে এটুকু বলা যায়, তারা যা করেছিল তা এতটাই অনন্য দেশপ্রেম ছিল যে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও সেই অধ্যায়ের কথা উঠলে তারা বিষয়টাকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দ্রুত এড়িয়ে যান। সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই কেবল নিজেদের ইতিহাস এভাবে হাসিমুখে অস্বীকার করতে পারেন।

কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে চলবে না, বর্তমানে আসা যাক। জানুয়ারি ২০২৬ সালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি Ambassador Jamieson Greer-এর দলের সাথে টেলিকনফারেন্সে বসলেন। এটি অত্যন্ত দেশপ্রেমিক একটি কাজ ছিল সন্দেহ নেই। সেই বৈঠকে তিনি গভীর দেশপ্রেম থেকেই বললেন, নির্বাচনে জিতলে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করবেন। এটা দেশপ্রেম ছাড়া আর কী হতে পারে? দেশকে ভালোবাসলেই তো মানুষ বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে বসে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়, নির্বাচনের আগেই।

এরপর ঘটনা একটু জটিল হয়ে গেল। মার্কিন আদালত সেই চুক্তির আইনি ভিত্তি দুর্বল করে দিল। দেশে জনমত চুক্তির বিরুদ্ধে গেল। মানুষ বলতে লাগল চুক্তিটি একতরফা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আর ঠিক তখনই জামায়াত আমিরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা প্রকৃত দেশপ্রেমিকটি জেগে উঠলেন। মার্চ ২০২৬-এ তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখলেন : অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সাথে কোনো আলোচনাই করেনি, তিনি কিছুই জানতেন না। এই ধরনের স্মৃতিশক্তি একমাত্র সত্যিকারের দেশপ্রেমিকদেরই থাকে ; জানুয়ারিতে যা বললেন, মার্চে তার কিছুই মনে নেই।

পল কাপুর ঢাকায় এলেন। জামায়াত নেতাদের সাথে বৈঠক হলো। আর বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই শফিকুর রহমান না জানার ঘোষণা দিলেন। এই টাইমিংটা একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবুন। মার্কিন প্রতিনিধি এসে সরাসরি কথা বললেন, আর তার ঠিক পরেই হঠাৎ দেশপ্রেমের জোয়ার এলো। এটা কাকতালীয় নয় বরং এটা হলো সেই গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যা কেবল সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই রাখতে পারেন। কী দেখলেন সেই বৈঠকে, কী শুনলেন, কী বোঝালেন -সেটা আমরা জানি না। তবে বৈঠকের আগে এবং পরের শফিকুর রহমান যেন দুটো আলাদা মানুষ।

অনেকে বলেন, জামায়াত সুবিধামতো অবস্থান বদলায়। আমি এই কথায় একমত নই। বরং আমি বলব, জামায়াত সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়। যখন ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তখন মার্কিন চুক্তি ছিল সুযোগ। যখন ক্ষমতার রাস্তা অন্ধকার হয়ে গেল, তখন সেই একই চুক্তি হয়ে গেল আমাদের না জানিয়ে করা একটা ষড়যন্ত্র। এই বিকাশের ক্ষমতা কি সবার আছে ? নেই। এটা কেবল বাংলাদেশের একমাত্র দেশপ্রেমিক দলের আছে। আর এই দলই বলে আমরা ইসলামিক আদর্শের রাজনীতি করি।

তারেক রহমানও সেই জানুয়ারির টেলিকনফারেন্সে ছিলেন। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই মার্কিনদের সাথে কথা বললেন, দুই দলই সম্মতি দিলেন। তারপর যখন হিসাব পাল্টে গেল, দুই দলই ভিন্ন সুর ধরলেন। কিন্তু জামায়াতের সুরটা একটু বেশি চড়া, কারণ তারা শুধু চুপ থাকেননি সক্রিয়ভাবে না-জানার পতাকা উড়িয়েছেন। বিএনপি অন্তত নীরবে থেকেছে। জামায়াত সরব হয়ে মিথ্যা বলেছে। এই বাড়তি সাহসটুকুই তাদের একমাত্র দেশপ্রেমিক দল করে তোলে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক সমস্যা আছে, অনেক দলের অনেক দোষ আছে। কিন্তু জামায়াত সেই বিরল দল যারা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি কাজ অত্যন্ত ধারাবাহিকভাবে করে আসছে -নিজেদের স্বার্থে যা দরকার তাই করা, এবং সেটাকে ধর্ম অথবা দেশপ্রেমের মোড়কে পরিবেশন করা। ১৯৭১-এ করেছে, ২০২৬-এও করছে। এই ধারাবাহিকতাই তাদের একমাত্র করে তোলে - অন্তত নিজেদের চোখে। আর নিজের চোখে নিজেকে মহান ভাবার মতো দেশপ্রেম এই দুনিয়ায় আর কোথায় পাবেন, বলুন?

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:২৬
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×