somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বেলায় নীতি, তোমার বেলায় রাজনীতি

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০২৪-এর গণ-আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও গণহত্যার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ওই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হচ্ছে। বিএনপি দাবি করেছে এটি নতুন কিছু নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশই আইন হচ্ছে ; আওয়ামী লীগ বলছে এর দায় বিএনপিকে নিতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন আইনে সংবিধান ও নাগরিক অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ।

আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। সেটা ছিল তাদের কাছে নীতির প্রশ্ন, আদর্শের প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন। বিএনপি তখন বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঠিক না। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কথাটা শুনতে বেশ পরিপক্ব লাগছিল। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মাথায় একটু বুদ্ধি হয়েছে । তারপর ক্ষমতার পালা বদলাল।

২০২৪ এর আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো। বিএনপি মহাসচিব বললেন তিনি "আনন্দিত।" সেই পরিপক্ব গণতান্ত্রিক দর্শনটা কোথায় গেল কেউ জিজ্ঞেস করল না। এখন সেই অধ্যাদেশ স্থায়ী আইনে পরিণত হচ্ছে, সাথে যুক্ত হচ্ছে চার থেকে চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ডের বিধান। আওয়ামী লীগ এখন বলছে, এর দায় বিএনপিকে নিতে হবে। কথাটা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। কারণ এই একই যুক্তি একদিন বিএনপিও দিয়েছিল, অন্য প্রসঙ্গে, অন্য মঞ্চে। আর আওয়ামী লীগ তখন পাত্তাও দেয়নি।

আসল কথা হলো, এখানে কেউ রাজনীতি করছে না। এটা রাজনীতির নামে প্রতিহিংসার একটা দীর্ঘ চক্র। একটা দল অন্যটাকে জেল দেয়, মামলা দেয়, নিষিদ্ধ করে। তারপর পালা বদলায়, উল্টোটা হয়। এই চক্র দশকের পর দশক ধরে চলছে এবং থামার কোনো লক্ষণ নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই চক্রে আদর্শের কোনো জায়গা নেই। "দল নিষিদ্ধ করা খারাপ" এই নীতিটা তখনই মনে পড়ে যখন নিজেরা বিপদে থাকে। প্রতিপক্ষের বেলায় একই নীতি আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

এই রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিকার কিন্তু কোনো দল না। শিকার হলো সাধারণ মানুষ। যে শক্তি, সময় আর রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রতিহিংসার পেছনে খরচ হয়, সেটা যদি দেশের কাজে লাগত, তাহলে হয়তো আমাদের আরেকটু ভালো থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই আশা করতে হলে আগে এই চক্রটা ভাঙতে হবে। আর সেটা ভাঙার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

https://www.bbc.com/bengali/articles/cg5405g11g3o

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে-বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামুর ব্লগারদের পোস্ট নিয়ে একটা সংকলন বের করতে চাই

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫১

আমি একটা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চালু করতে চাচ্ছি। তাই আমার প্রত্যাশা প্রথম বইটা হবে সামুর ব্লগারদের পোস্ট সংকলন।
আপনারা যদি চান, তাহলে আপনাদের লেখা যেকোনো প্রিয় পোস্ট সেখানে দিতে পারেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ার মোনাজাত

লিখেছেন কাবিল, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫১



ফজরের আগের সেই নীরব সময়টা—যখন আকাশ আর জমিনের মাঝে এক অদৃশ্য দরজা খুলে যায়।
আমি ওযু করে নামাজের জন্য দাঁড়ালাম। চারপাশে এমন নীরবতা, যেন পৃথিবীটা কারো গভীর চিন্তার মধ্যে ডুবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



(১)
গল্প স্বল্প আড্ডার ভেতর
ডাকে পুরোনো দিন,
বিষন্ন স্মৃতির পাতা
ক্লান্ত বিলীন।

(২)
শোকের ধুলো জানালাতে,
বসে থাকে রোদ না মেখে,
হারিয়ে গেলো কারো মুখ
ভুল ঠিকানায় নাম লিখে।

(৩)
চায়ের ধোঁয়ায় মুখ লুকিয়ে
একাকী নিরালায়,
গল্প শেষেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন 2026 : BJP কি জিততে চলেছে ?

লিখেছেন গেছো দাদা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৫

আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে(2026) কি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে BJP জিততে চলেছে?
আসুন জেনে নিই প্রকৃত সম্ভাব্য রেজাল্ট।
রাজ্য সরকারের IB এবং মোদী সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র অনুসারে,কোন দল কত আসন পেতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যে আসলে কী চাই, নিজেরাও জানি না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫৬



কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটাই দৃশ্য—হতাশার গল্প আর সমালোচনার স্রোত। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাহেবকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। ক্ষমতায় আসার দুই মাসও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×