
পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দশ ফ্যাসিবাদের তালিকা করলে শেখ হাসিনার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে যে আয়নাঘরে বন্দি করা হয়েছিল, তার একেকটা ঘটনা শুনলে গা শিউরে ওঠে। আমাদের সবার প্রিয় আমান আযমী স্যারকে টানা সাত বছর গুম করে রাখা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের কী ভয়ানক রূপ, সাত বছর পর তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন আরো কষ্ট দেওয়ার জন্য তার কক্ষে এসি লাগিয়ে দেওয়া হলো। ভাবা যায়? যাকে তিলে তিলে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাকেই আবার এসির ঠান্ডা বাতাসে হিমায়িত করার এই কৌশল পৃথিবীর আর কোনো স্বৈরাচার দেখাতে পেরেছে কি না সন্দেহ।
একই কায়দায় ব্যারিস্টার আরমানকেও আট বছর গুম করে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন ফিরে এসে বললেন যে বন্দি অবস্থায় নিঃসঙ্তা কাটাতে তিনি সাপ, ব্যাঙ আর টিকটিকির সাথে কথা বলতেন, তখন বোঝা যায় শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের জীবনকে কোন নরকে পরিণত করেছিলেন। অন্যদিকে আমাদের সালাউদ্দিন সাহেবকে তো সীমান্ত পার করে সেই শিলংয়ে গিয়ে গুম করে দিয়ে আসা হলো। সেই ট্রমা তিনি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি, যা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নানা রকম কার্ড দিচ্ছে। কেউ ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে, কৃষকরা পাচ্ছে কৃষক কার্ড, এমনকি স্পোর্টস কার্ড আর ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে নগদ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। যারা গত স্বৈরাচারী আমলে গুম হয়েছিলেন, তাদের জন্য কি বিশেষ কোনো কার্ডের ব্যবস্থা করা যায় না? তাদের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো তো আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু রাষ্ট্র কি তাদের এই ত্যাগের কোনো আর্থিক স্বীকৃতি দিতে পারে না? যে স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়ে বছরের পর বছর চোখের জল ফেলেছেন, যে সন্তান তার বাবার মুখটা দেখার জন্য আকুল হয়ে ছিল, তাদের সবাইকে এই ভাতার আওতায় আনা উচিত।
যারা আয়নাঘর থেকে ফিরে এসেছেন বা যারা আজও নিখোঁজ, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা এখন সময়ের দাবি। তাদের জন্য দরকার হলে প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তারা অন্তত ব্যবসায়িক কোনো ভিত্তি খুঁজে পায়। আসলে যার সাতটা বছর বা আটটা বছর অন্ধকার ঘরে হারিয়ে গেছে, তার কাছে এসির বাতাস আর সাপ-ব্যাঙের সাথে কথা বলা একই যন্ত্রণার। তাই এই ক্ষতিপূরণ বা বিশেষ ভাতা কোনো দয়া নয়, বরং ফ্যাসিবাদের শিকার হওয়া মানুষগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের ন্যূনতম প্রায়েশ্চিত্ত। এখন দেখার বিষয়, আমাদের এই ‘গুম-ভাতা’র প্রস্তাব সরকার কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। গুম হওয়া এই মানুষগুলোর জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য কি এই এসি বিল বা সামান্য কয়েকটা টাকায় শোধ করা সম্ভব? তবুও এই উদ্যোগ অন্তত তাদের ক্ষততে সামান্য মলম হিসেবে কাজ করতে পারে।
গুমের ৭ বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে এসি লাগানো হয়: ট্রাইব্যুনালে আযমী-বারতা বাজার ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



