somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য না। আবার কেউ বলছেন উন্নত দেশে তো মানুষ ড্রাইভিং করতে লজ্জা পায় না, ভিসা নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনেকেই এই পেশায় ঢুকে যান, সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই কেন। কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও বিষয়টা এতো সহজ না ।

প্রথম কথা হলো, রাবেয়া আপা যা করছেন সেটা তার নিজের দক্ষতা এবং সাহসের ফসল। এই সাহসকে সম্মান জানানো উচিত। যারা দীর্ঘদিন ধরে বাস চালান, তাদের শরীরে যে ধকল যায়, যে রোগবালাই জমে, সেটা একজন নারীর জন্য আরও কঠিন। এই কাজটা যে কেউ করতে পারে না, বিশেষ করে আমাদের সমাজে যেখানে বাসচালকদের আচার আচরণ নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। যারা এই পেশায় টিকে থাকতে পারেন তাদের সালাম জানানো উচিত।

প্রশ্ন থেকে যায় অন্য জায়গায়। রাবেয়া আপা একজন সরকারি কর্মী, বিআরটিসির আওতায় চাকুরি করেন। পিংক বাসের বেশিরভাগ চালক বিআরটিসি ইনস্ট্রাক্টর। এই চাকুরি করার ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল এইচএসসি পাশ। ধাপে ধাপে ১৬তম গ্রেড থেকে ১৪তম গ্রেডে প্রমোশন পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল জেএসসি পাশ। অথচ যিনি এই পদে কাজ করছেন তিনি অনার্স মাস্টার্স পাশ। এটা শুধু রাবেয়া আপার গল্প না, এটা দেশের হাজার হাজার অনার্স মাস্টার্স পাশ তরুণ তরুণীর গল্প।

চাকরির বাজারে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যেখানে তুলনামূলক নিচু পদের জন্যও ক্রমশ উঁচু ডিগ্রি লাগছে। বিশতম গ্রেডের চাকুরির পরীক্ষায় এখন এসএসসি পাশ করে চাকরি পাওয়া যায় না। যারা চাকরি পাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই অনার্স মাস্টার্স পাশ। কয়েক বছর আগে একটা খবরে দেখেছিলাম অনার্স মাস্টার্স পাশ করা তরুণেরা রেলের খালাসির চাকরি করছেন। এই প্যাটার্নটা প্রতিবছর আরও বাড়ছে ।

এর পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়, যেখানে সেখানে কলেজ খুলে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। কলেজ খোলার কারণে অনেকে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যখন সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয় তখন তার ফলাফলের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। শুধু ডিগ্রি বিতরণ করলেই তো আর কর্মসংস্থান তৈরি হয় না।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অনার্স চতুর্থ বর্ষে থাকতে কিছুদিন বিজনেস ম্যাথ পড়িয়েছিলাম। আমাদের কোচিংয়ের একজন কম্পিউটার অপারেটর ছিলো , সে এখন সরকারি চাকরিতে টাইপিস্ট পদে ভালো অবস্থানে আছে। কোচিংয়ে টাইপিং শিখেই চাকরিটা পেয়েছিলো। একদিন সে অনুরোধ করে তার কিছু বন্ধুকে বিজনেস ম্যাথ পড়িয়ে দিতে, যাদের বেসিক প্রায় শূন্যের কোঠায়। অল্প ফি নিয়ে পড়াতাম তাদের। করোনার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর একদিন মা বললেন, আমার এক ছাত্রকে নাকি রাস্তার পাশে কাপড় বিক্রি করতে দেখা গেছে। শুনে অবাক হয়েছিলাম। মা তখন প্রশ্ন করলেন, এত পড়াশোনা করে আজকাল ছেলেমেয়েরা দেশে চাকরি পাচ্ছে না কেন। আমি শুধু বলেছিলাম, চুরি তো করছে না, পরিশ্রম করে জীবিকা চালাচ্ছে। এই কথাটা মায়ের মনঃপুত হয়নি পুরোপুরি, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।

রাবেয়া আপা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন, এটা প্রশংসার যোগ্য নিঃসন্দেহে। কিন্তু তার গল্পটা যতটা না ব্যক্তিগত সাফল্যের, তার চেয়ে বেশি একটা সিস্টেমের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণীদের নিম্নপদের চাকরিতে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন তোলা উচিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নীতির দিকে। দেশে শিক্ষার যে অবমূল্যায়ন চলছে, সেদিকে নীতিনির্ধারকরা কবে সত্যিকারের দৃষ্টি দেবেন ?


ফটোকার্ড ক্রেডিট: বাংলাদেশ টাইমস
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×