নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা প্রদান করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি দুটি দেশের মধ্যকার একটি নিছক সামরিক সৌজন্য ও প্রথা বলে মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এমন কিছু প্রতীকী আয়োজন বারবার সামনে আসে, যা মূলত একটি বড় শক্তির প্রতিবেশীর ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য তুলে ধরে। নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক নতজানু নীতির কারণে এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে। তবে এ কেবল নেপালের একার গল্প নয় পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী পররাষ্ট্রনীতি এবং ছোট প্রতিবেশীদের একটি নির্দিষ্ট প্রভাব বলয়ে রাখার কৌশলগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতিও গভীরভাবে যুক্ত।
এই ঐতিহ্যের শিকড় অন্বেষণ করলে আমাদের ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আমলে। ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সালের বিখ্যাত অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত " সুগৌলি চুক্তি " নেপালের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক স্বাধীনতার ওপর প্রথম বড় আঘাত হানে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গোরখারাদের যুদ্ধবিদ্যায় মুগ্ধ হয়ে তখন তাদের সেনাবাহিনীতে গোরখা রেজিমেন্ট গঠন করে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সেই গোরখা সেনাদের একটা বড় অংশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থেকে যায়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিতর্কিত " শান্তি ও বন্ধুত্ব চুক্তি " স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পরপরই ১৯৫০ সালে নেপালের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কেশর শমশের জং বাহাদুর রানাকে প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক " জেনারেল " পদমর্যাদা প্রদান করা হয়। এরপর থেকে ভারতের সেনাপ্রধানকেও নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল উপাধিতে ভূষিত করার এই দ্বিমুখী প্রথা প্রবর্তিত হয়। যা বাহ্যিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় বন্ধন হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তা ছিল নেপালের সামরিক শক্তিকে ভারতের সুরক্ষাবলয়ের অধীনে নিয়ে আসার এক চতুর আয়োজন। এই সম্মানসূচক উপাধির পেছনে ঢাকা পড়ে যায় নেপালের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বন্দিদশা। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে নেপাল তিন দিক থেকে ভারত পরিবেষ্টিত। উত্তরের বিশাল হিমালয় পর্বতমালা পার হয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হওয়ায় দেশটি কার্যত একপ্রকার ভারত-বেষ্টিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈদেশিক যোগাযোগের জন্য সমুদ্রবন্দরে পৌঁছাতে নেপালকে পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দুর্বলতাকে ভারত সবসময় তার আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নেপাল যখনই কোনো সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে গেছে, তখনই ভারত তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে এই নিরঙ্কুশ অর্থনৈতিক নির্ভরতার কথা।
তবে কেবল ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাই নেপালের আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয়, বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও নতজানু নীতি ছিল এর চেয়েও বড় অনুঘটক। ১৮৪৬ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত নেপালে যে " রানা রাজপরিবার " শাসন চালিয়েছিল, তারা মূলত নিজেদের একছত্র ক্ষমতা রক্ষা করতে ব্রিটিশ ও পরবর্তীতে ভারত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। ১৯৫০ সালের " শান্তি ও বন্ধুত্ব চুক্তি " এর মাধ্যমে তৎকালীন নেপালি প্রধানমন্ত্রী মোহন শমশের জং বাহাদুর রানা ভারতের প্রায় সব একতরফা শর্ত মেনে নেন। সেই চুক্তির একটি ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, নেপাল যদি কোনো তৃতীয় দেশ থেকে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই ভারত সরকারের সাথে আলোচনা বা পরামর্শ করতে হবে। এই একটি শর্তই নেপালের স্বাধীন প্রতিরক্ষা নীতিকে পঙ্গু করে দেয়। পরবর্তী সময়ে নেপালি কংগ্রেসসহ বিভিন্ন ধারার রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে এবং ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকার জন্য ভারতের সরাসরি রাজনৈতিক সহায়তা নেন। বিনিময়ে নেপালের কোশী ও গণ্ডক নদী প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয় ভারতের সুবিধাজনক শর্তে। যখনই নেপালের কোনো সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে চেয়েছে বা চীনের দিকে ঝুঁকতে চেয়েছে, তখনই ভারতের পক্ষ থেকে এসেছে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ। যার চরম রূপ দেখা গিয়েছিল ১৯৮৯ এবং ২০১৫ সালে। এ ছাড়া কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরার মতো সীমান্ত এলাকায় নেপালি ভূখণ্ড দখল করে সামরিক চৌকি বসানোর মাধ্যমে ভারত তার আধিপত্যকামী চেহারাই বারবার উন্মোচন করেছে।হিমালয়ের কোলে নেপালকে যেভাবে গোরখা সেনা আর অর্থনৈতিক নির্ভরতার শিকলে বেঁধে জেনারেল বানানোর মেকি মহড়া চালানো হয়েছে, ঠিক একইভাবে বঙ্গোপসাগরের তীরের আমাদের বাংলাদেশেও ভারত তার প্রভাব বলয় কায়েম করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা ছিল এক ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু এই সহায়তার আড়ালে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান শক্তিকে ভেঙে দ্বিখণ্ডিত করে একক সামরিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একটি সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সার্বভৌম সমমর্যাদা দেওয়ার বদলে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধা-নির্ভরশীল ও অনুগত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার সুদূরপ্রসারী নকশা কাজ করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও চুক্তি জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী 'ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ও শান্তি চুক্তি' বাংলাদেশের সামরিক ও পররাষ্ট্রম নীতিকে ভারতের কৌশলগত স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। বেরুবাড়ী হস্তান্তর ও ছিটমহল চুক্তিতে বাংলাদেশের দিক থেকে দ্রুত বেরুবাড়ী দিয়ে দেওয়া হলেও ভারত তার অংশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চার দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে দেয়। ফারাক্কা বাঁধ চালু করার সাময়িক অনুমতি প্রদান এবং স্পষ্ট আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি ছাড়া গঙ্গার পানি বন্টন সমঝোতায় সই করায় বাংলাদেশের এক বিশাল অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পাশাপাশি, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদ ও যুদ্ধলব্ধ সরঞ্জাম ভারতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে গোড়াতেই দুর্বল করে দিয়েছিল এবং জনগণের মনে ভারতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশকে ভারতের একক আধিপত্যের অধীনস্থ করার এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন রূপ নেয় শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে। এই সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ইচ্ছাকে সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের একতরফা সন্তুষ্টি অর্জনকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। নিজ দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে কেবল একতরফা ভারতীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার বিনিময়ে শেখ হাসিনার সরকার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চাবিকাঠি। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের নামে নামমাত্র ফি কিংবা বিনামূল্যে ভারতের সড়ক, রেলপথ এবং নদীপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সহজে পণ্য পাঠাতে পারে। অথচ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য বহু কাঙ্ক্ষিত ট্রানজিট চাওয়া হলেও তা ভারত সবসময় এড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ভারতকে নির্বিচারে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা, ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া এবং সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক প্রতিনিয়ত নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা করার পরও কার্যকর কূটনৈতিক প্রতিবাদ না জানানো শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু ও অনুগত পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
বিদ্যুৎ খাতে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও বাংলাদেশকে বিশাল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে বাধ্য করা হয়। কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থই নয়, কৌশলগত নিরাপত্তায় ভারতের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌবাহিনীকে রাডার নজরদারি চালানোর সুযোগ এবং মোংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চুক্তি করা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নির্বাচন এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা জিইয়ে রাখতে ভারত যেভাবে বিশ্বমঞ্চে শেখ হাসিনার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা বাংলাদেশের আপামর জনগণের হৃদয়ে চরম ভারত-বিরোধী এবং আধিপত্য-বিরোধী ক্ষোভের জন্ম দেয়।
নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারত তার ছোট প্রতিবেশীদের কোনো সমান সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা না করে নিজের "কৌশলগত নিরাপত্তা বেষ্টনী" বা "বাফার স্টেট" হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশীকে অনুগত রাখা এবং চূড়ান্ত বিচারে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত করাই এই রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নেপালের জেনারেলদের ভারতীয় জেনারেলের পদমর্যাদা দেওয়া কিংবা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ঋণকে আজীবন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা দুটিই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশীদের ওপর জোর করে বা অনুগত রাজনীতিকদের মাধ্যমে আধিপত্য চাপিয়ে রাখার এই পুরনো ঔপনিবেশিক মানসিকতা ক্রমেই কার্যকারিতা হারাচ্ছে। নেপালের নতুন প্রজন্ম এখন ১৯৫০ সালের অসমান চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলছে, সীমান্ত দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এবং ভারতের একচেটিয়া চাপ এড়াতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন পথ উন্মুক্ত করছে। একইভাবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং আত্মমর্যাদার এক অভূতপূর্ব জাগরণ ঘটেছে। দেশের জনগণ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রভূত্ব বা একতরফা স্বার্থ হাসিল আর মেনে নেওয়া হবে না। ভারত যদি এখনো তার ঐতিহ্যগত আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব ত্যাগ না করে এবং সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে না পারে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় দেশটির কৌশলগত অবস্থান ও প্রভাব অদূর ভবিষ্যতে আরও গভীর সংকটের মুখেই পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



